সুষম এবং ন্যায্য অধিকার হোক নারীর কাম্য

লিখেছেন- ফারাহ দোলন 


কয়েক সপ্তাহ আগে একটা চ্যানেলে ইন্টার্ভিউ দিতে গেছি… চ্যানেলের চেয়ারম্যান সিভিতে চোখ বুলিয়ে বললেন- ‘এতোদিনেও কোনো মিডিয়ায় ঢোকেন নি কেনো…?’ আমি বললাম- ‘তিন বছর আগে টুকটাক কাজ করতাম। তিন বছরে কোথাও আর সিভি সাবমিটই করি নি’…… ওনার প্রশ্ন- ‘আপনি কি জামায়াত করেন?’ আমার পালটা প্রশ্ন- ‘কেনো?’ চেয়ারম্যান উত্তর দিলেন- ‘না, যেভাবে ওড়না পেচানো মাথায়… মেক আপ ছাড়া মিডিয়ায় ইন্টার্ভিউ দিতে এসেছেন তাই বললাম’… আমার এরপরের আচরণের জন্য তিনি নিশ্চয়ই প্রস্তুত ছিলেন না… আমি বললাম- ‘সিভিটা ফেরত দিন স্যার… একটা পার্ট টাইম জব এই মুহুর্তে আমার দরকার- সেটা ঠিক… তবে, আপনার এখানে না…’ উনি বললেন- ‘আপনি অহেতুক রেগে যাচ্ছেন…’ আমার তাড়া আছে বলে আমি সিভিটা ওনার হাত থেকে ফেরত নিয়েই রুম থেকে বের হয়েছিলাম…


বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক… ফোনে অত্যন্ত ভালো ব্যবহার করার পরেও যেদিন প্রথম সামনাসামনি দেখা করতে গেলাম, সেদিন শুধু হিজাব করার অপরাধে আমাকে সামনাসামনি জবড়জঙ্গ বলে বসলেন…


তিন বছর আগে যখন সবসময় কপালে লাল টিপ আর মাথায় খোপা করে ঘুরতাম তখন বিভিন্ন সংগঠনে উপস্থাপনা আর আবৃত্তির অফারের অন্ত ছিলো না… অনেক সময় চ্যানেলে এক টাইমে রেকর্ডিং পরে গেলে কাজ বাদ দিতে বাধ্য হতাম… আর, এখন সবটা ইতিহাস…… কারণ, কপালে লাল টিপ থাকে না… চুলের খোপায় বেলি ফুলের মালা থাকে না…


কলেজ জীবনে এক শিক্ষিকা মুখের ওপর বলেছিলেন- ‘তুমি দেখতে জঙ্গী হয়ে যাচ্ছো… তোমার মতো এতোটা উদার আর সাহিত্যমনা মেয়ের এই লেবাস মানায় না…


পার্ট টাইম জব খুঁজছি কিছুকাল হলো… যেহেতু আবৃত্তি আর বাচিক শিল্প নিয়ে কাজ করে অভ্যস্ত, তাই টেলি কিংবা রেডিওতে জব পেলেই সুবিধা হয়… সিভি নিয়ে দেখা করতে গেলাম এক জনের সাথে… ঘণ্টা খানেকের আলাপেই তিনি বললেন- ‘আপনাকে এই সময়টুকুতে যতটুকু দেখলাম আর আপনার সম্পর্কে যতদূর জানি, আমাদের হাউজে আপনার না ঢোকাই ভালো… আপনি চাইলে আমি ব্যবস্থা করতে পারবো ঢোকার… কিন্তু টিকতে পারবেন না… খুলেই বলি আপনাকে… আপনি নিজেকে বিলাতে পারবেন না… বিকিয়ে দিতে পারবেন না…’

হাজারটা ঘটনা আমি দাঁড় করাতে পারবো উদাহরণ হিসেবে… এই দৃষ্টান্ত গুলো নারীবাদী অধিকার কর্মীদের চোখে পড়বে না… কারণ, তারা নিজেরাও পুরুষদের কাছে নিজেকে বিলিয়েই নারী জাগরণের খই ফোটায় মুখে… আমাদের দাসত্ব ঘুচবার নয়… কারণ, আমরা দুমুখো সাপ হয়ে বসে আছি… আমরা কপালে টিপ, এলোচুলে ঘুরে বেড়ানো নারীকে অধিকার দিতে প্রস্তুত… কিন্তু, রক্ষণশীল ব্যক্তিত্ব এবং মানসিকভাবে উদার নারীকে আমরা অপদস্ত করবো যেখানে সেখানে… পাতার পর পাতা যোগ্যতার সাক্ষর নিয়েও সে পাবে না যথার্থ কাজের সুযোগ… অথচ চলন-বলন, সাজসজ্জা প্রত্যেকের ব্যক্তিগত অধিকার… চুলে বেলি ফুলের মালা পরা একজনের অধিকার হলে, হিজাবের ছায়ায় নিজেকে আবৃত করাও অন্যজনের অধিকার… সবাই নিজ অধিকারের মর্যাদাটুকু পাক…
কিছু নারীদের বিকৃত রুচিও আজকাল নারীর পশ্চাৎপদতার কারণ… ঘরে স্বামীকে রেখে স্বার্থ উদ্ধারে যারা অন্য পুরুষের কাছে নিজেকে বিলিয়ে বেড়ায় তাদের পায়ে শেকল পড়ুক… পরকালের বিচারতো পরের কথা… আল্লাহ্‌র লা’নত ইহজীবনেও তাদের ওপর পড়বেই পড়বে… একই কথা সেইসব পুরুষদের জন্যও…
ধিক্কার সেই সব পুরুষদের, যারা নিজেদের স্ত্রীকে ঘরের কোনে আটকে রেখে অন্যের স্ত্রীকে টেনে বের করে দুনিয়ার সামনে… স্যালুট সেই সব পুরুষদের- যারা ভাই, বাবা, স্বামী রূপে হাতে হাত রেখে এগিয়ে নেয় নারীদের…
নারীর পথচলা সুন্দর হোক, পবিত্র হোক… নারী হোক পবিত্রতার মূর্ত প্রতীক…
সম অধিকার না, POWA-People-Opposing-Women-Abuse-Social-Experiment-@-Townhouse-Complex-in-Johannesburg……

Comment

Comment

   
ই-মেইলঃ mohioshi@outlook.com
ফেসবুকঃ www.facebook.com/mohioshibd
মোবাইলঃ ০১৭৯৯৩১৩০৭৮, ০১৭৯৯৩১৩০৭৯
ঠিকানাঃ ১০/৮, আরামবাগ, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
কপিরাইট ©  মহীয়সী