একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা কেন প্রয়োজন?

moralএস এম সান্ত

পাঠ্যপুস্তক পড়ে নারীরা যেমন তাদের বিষয়ভিত্তিক জ্ঞানে অনেকদুর অগ্রসর হয়েছে তেমনি আবার সমাজে অনেক অবদানও রেখেছে। নারীরা এখন দেশ চালাচ্ছে, সামরিক কাজে অংশগ্রহন করছে। গবেষনা ও চিকিৎসা বিজ্ঞানে আরও অনেক অভুতপূর্ব অবদান রাখছে। যা আমাদের মতো দেশের জন্য একটি আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করছে। কিন্তু আমাদের ভূলে গেলেও চলবে না যে, নারীদের এতোসব উন্নয়নের পাশাপাশি সম্প্রতি নৈতিক অবক্ষয় বেড়ে চলেছে। আরও পরিষ্কার করে বলা দরকার যে, অদুর ভবিষতে নারীরা নৈতিক অবক্ষয়ের ফলে বিরাট এক হুমকীর সম্মুখীন হতে পারে।

প্রত্যক্ষ উদাহরণ হিসেবে বলতে চাই, আমাদের সমাজে উঠতি বয়সের কিছু মেয়েরা সামাজিকতা, অনুকরণপ্রীয়তা ও আধুনিকতাকে পুঁজি করে নিজের অজান্তেই অনেক অনৈতিক কাজে জড়িত হয়ে পড়ছে। কিন্তু তারা একটুও বোঝার চেষ্টা করে না যে, তারা কতটা ঝুঁকির মধ্যে আছে।

আমার এক পরিচিত ছাত্রী লেখাপড়ায় খুব ভাল। কিন্তু একটু মর্ডান টাইপের হওয়ায় দেহ লিপ্সু পশুর ন্যায় কিছু ছেলে তার পিছু নেয়। তাদের মধ্যে একজনের সাথে তার বোঝাবুঝিও হয় এবং বন্ধুত্ব গড়ে উঠে। সেই বন্ধুত্বের জের ধরে তারা অবাধ স্বাধীনতা ভোগ করতে করতে এক পর্যায়ে মেয়েটি ছেলেটির পাতা ফাঁদের শিকার হিসেবে তার ফাঁদে পড়ে যায়। মেয়েটির অজান্তে ছেলেটি তাকে তার ম্যাচে নিয়ে গিয়ে সে এবং তার আরও কিছু বন্ধু মিলে যৌন নির্যাতন করে। পাশবিক নির্যাতনের ফলে মেয়েটির জীবনে তাৎক্ষনিকভাবে নেমে আসে এক চরম অন্ধকার।

পরবর্তীতে মেয়েটি বুঝতে পেরেছিল যে, সে অনেক বড় একটা ভুল করে ফেলেছে। সে আরও বুঝতে পেরেছিল সে ছেলেটার চরিত্রকে অগ্রাধিকার না দিয়ে তার ফ্যাশন ও আধুনিকতাকে প্রশয় দিয়েছিল। সে এটাও বুঝতে পেরেছিল যে, সে আধুনিকতা ও অবাধ স্বাধীনতাকে অন্যভাবে ব্যবহার করেছিল সে।

মেয়েটির নৈতিক অবক্ষয়ের মাত্রা সে কিন্তু তখনও বুঝে উঠতে পারেনি। কারণ, এই ঘটনার কিছু দিন পর সে আবার ঐ সব কিছু মর্ডান টাইপের ছেলেদের সাথে ঘুরতে দেখা যায়। এর পেছনের কারণ হচ্ছে সে তার নৈতিক মূল্যবোধ সম্পর্কে তখনও অবগত নয়।

তাই একটি কথা এখানে পরিষ্কার যে, নৈতিকতার বিষয়ে তার ধারণা একবারে শূণ্যের কোঠায়। কারণ, সে তার পাঠ্যপুস্তকে শুধু বিষয়ভিত্তিক জ্ঞানই পড়েছে। নৈতিকতার কোন বিষয় না থাকায় সে বুঝতে পারেনি সে কি করছে? এর ফল কীরূপ হতে পারে।

প্রচলিত পাঠ্যবইয়ে নৈতিকতার বিষয়ে যা দেখা যায় তা একেবারেই নগন্য, তাতে আসলে মনের স্বাদ তো দূরের কথা জিহ্বার স্বাদও পূরণ হয় না। আজকে আমাদের সমাজে এমন অনেক মেয়ে বা নারী আছে যারা নৈতিকতার যথাযথ চর্চা না করার ফলে অনেক হুমকির সম্মুখীন হয়ে আছে। অচীরেই বা তাদের অজান্তেই হঠাৎ করেই ঘটে যেতে পারে এমন এক বিপদ যা তার সাজানো সুন্দর মন ও জীবনকে করে দিতে পারে শূণ্যতার বালুচর।

তাই আমি মনে করি, সরকার, সমাজ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের উচিত মেয়েদের বা নারীদের তথা সমাজের সকল মানুষের জন্য নৈতিকতা বিষয়ে জ্ঞান আহরণ করার জন্য আলাদা কোন বিষয় বা ক্ষেত্র তৈরি করা। তাছাড়া বিভিন্নভাবে তাদেরকে নৈতিকতা বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করা। যেখানে তারা তাদের ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে সামাজিক জীবন পর্যন্ত সকল রকমের নৈতিক শিক্ষা অধ্যয়ন করতে পারে।

তাছাড়া মেয়েদের স্বপ্রনোদিত হয়ে উচিত নিজেকে আত্মশক্তিতে বলীয়ান করে গড়ে তোলা, সমাজে তাদের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখা, নিজের জীবনকে নিজের মতো সুন্দর করে সাজাতে, কারও শিকারে পরিণত না হতে এবং কখনও নিজেকে দুর্বল না ভেবে বরং পুরুষের সমকক্ষ মনে করতে নৈতিক শিক্ষা গ্রহণ করা।

এস এম সান্ত, বোচাগঞ্জ, দিনাজপুর।

ই-মেইলঃ reportersanto@gmail.com

 

Comment

Comment

   
ই-মেইলঃ mohioshi@outlook.com
ফেসবুকঃ www.facebook.com/mohioshibd
মোবাইলঃ ০১৭৯৯৩১৩০৭৮, ০১৭৯৯৩১৩০৭৯
ঠিকানাঃ ১০/৮, আরামবাগ, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
কপিরাইট ©  মহীয়সী