কাজ, সম্পর্ক, প্রত্যাশা

45579নূসরাত রহমান: তুমি তোমার কাজ করে যাও, কোন রকমের এক্সপেক্টেশন ছাড়া। অর্থাৎ তোমার দায়িত্ব তুমি কর, কিন্তু করতে করতে যদি মনে হয় যার জন্য করছি তার থেকে একটু যদি এপ্রিসিয়েশন পেতাম কত ভালোই না হত – বা ভালো বলল না, তাই মুখ কালো করলাম – এই যে একটা মুখাপেক্ষিতা – এইটার সুন্দর একটা ইংরেজি টার্ম ‘codependence’. কোডিপেন্ডেন্স এ একজনের সুখ দুঃখ নির্ভর করে অপরজনের রিঅ্যাকশনের উপরে। “আমি করলাম – সে বলল না বা দেখল না – বা আমি বলে বলে হয়রান হয়ে গেলাম – সে শুনল না – যাহ! আর কমুই না!” আরও সুন্দর উদাহরণ, “আমি তাকে বলতে বলতে জীবন তেজপাতা করে ফেললাম, সে এখনও নিজেরটা নিজে করা শিখল না, জীবনটা আমার শেষ হয়ে গেল!” থামেন থামেন। কুরআনে এই সাইকোলজিক্যাল ডিপেন্ডেন্স নিয়ে বলেছে, কোথায় জানেন? রাসুলুল্লাহ (সঃ) যখন দাওয়াত দিতে দিতে হতাশ হয়ে যেতেন। অথবা যখন একটু প্রভাবশালি কাউকে কনভিন্স করার আশায় একটু কম পাওয়ারের লোকজনের দিকে মনোযোগ দিতে ভুল করতেন। অথবা ঐ আয়াতটায়, মুহম্মদ কেবলই একজন মানুষ। সে মারা গেলে কি তোমরা আমার কথা শোনা বন্ধ করে দিতে? যে আয়াত রিসাইট করে সাহাবাদের কান্না থামানো হয়েছিল রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর মৃত্যুর পর। অথবা সেই সব নিয়মে, সন্তান মারা গেলে কেবল তিন দিন শোক করতে। প্রতিটা রিমাইন্ডারেই মনে করিয়ে দেয়া – তোমার সুখ দুঃখ কোন জাগতিক সম্পর্কের উপরে নির্ভর করে না। এখানে তুমি দায়িত্ব পালন করতে এসেছ কেবল।

সুতরাং হে আমার প্রিয় আপুরা! হে আমার প্রিয় ভাইয়েরা। কোন এক সম্পর্ক যদি এক বেলার জন্যেও সুখ দেয় তবে একশবার শুকরিয়া কর এই সম্পর্ক পাওয়ার জন্য। কিন্তু কোন সম্পর্ক যদি তোমার নিজের সাথে তোমার সম্পর্ক তৈরিতে বাঁধা দেয়, সে সম্পর্ক নিয়ে সতর্ক হও। কোন সম্পর্কের দায়িত্ব যদি এতই বেশি হয়ে যায় যে নিজের সব দিয়ে দিতে হচ্ছে (আত্মসম্মান, বিবেক, বোধ বুদ্ধি, শেখার সময়), তবে সে সম্পর্ক থেকে সুখ খুঁজে নেয়ার আগে নিজেকে প্রশ্ন কর, আমার প্রায়োরিটি কোনটা?

কবরে যাওয়ার সময় তুমি একা যাবে। তোমার সম্পর্ক তোমার সাথে যাবেনা। আল্লাহ্‌র কাছে হিসাব দেয়ার সময় তুমি হিসাব দেবে, তোমার হয়ে অন্যজন দিবে না। স্ত্রী সন্তান যেমন দুনিয়ার পরীক্ষা বলা হয়, সংসার, সন্তান ও তাই। মনে কর তুমি একটা খুঁটি, আর সম্পর্কগুলো একেকটা রশি। একেকটা একেক দিকে টানছে। তোমার দায়িত্ব হচ্ছে উপরের দিকে ওঠা। তোমার গোড়া টা হচ্ছে তুমি যে ফিতরাহ নিয়ে এসেছ, আর উপরের দিকে ওঠার মাল মসল্লা হচ্ছে তোমার সেন্স, মগজ, চিন্তা, শিক্ষা। রশিগুলো একটা সময় পর্যন্ত তোমাকে পড়ে যাওয়া থেকে বাঁচিয়েছে। কিন্তু এখন যখন ভিত্তি শক্ত হয়েছে, এই টানগুলোই তোমাকে একেক দিকে টেনে নামাতে চাইবে। এখন এটা তোমার একান্ত নিজের সিদ্ধান্ত, কোন রশির টান কে তুমি কতটুকু গুরুত্ব দেবে। এমনকি সবগুলোর মধ্যে সামঞ্জস্য করেও তুমি যদি সিদ্ধান্ত নাও সে ছোট টিই হয়ে থাকব, যখন রশিগুলো সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছিল, কোনদিন বড় হবনা, তাহলে আর তাল সামলানোর ঝামেলাও থাকবে না – তাহলে মনে রেখ, তুমি পরীক্ষায় ফেল করেছ।

লেখকের পরিচয়ঃ  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজির তৃতীয় ব্যাচের গ্র্যাজুয়েট, বর্তমানে মলিকুলার বায়োলজি তে ডক্টরেট ডিগ্রী অর্জনের উদ্দেশ্যে আমেরিকার বাল্টিমোরে বসবাস করছেন। গবেষণার পাশাপাশি লেখালেখি করেন।

 

Comment

Comment

   
ই-মেইলঃ mohioshi@outlook.com
ফেসবুকঃ www.facebook.com/mohioshibd
মোবাইলঃ ০১৭৯৯৩১৩০৭৮, ০১৭৯৯৩১৩০৭৯
ঠিকানাঃ ১০/৮, আরামবাগ, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
কপিরাইট ©  মহীয়সী