চাকুরীজীবি মেয়ে বা মা হোন তাহলে লিখাটি আপনার জন্য (পর্ব ২)

indexসোহানিঃ

আমার এ লিখাতে অফিসে চাকুরিরত মেয়েদের সাথে সম্পর্কিত কিছু বাস্তবতাকে তুলে ধরার চেস্টা করেছি মাত্র …….. যা একান্ত ব্যাক্তিগত উপলব্ধি থেকে শেয়ার করা……
[গোপনীয়তার স্বার্থে ঘটনা একই রেখে চারপাশের বাস্তবিক চরিত্রের নাম পাল্টিয়েছি মাত্র]

ঘটনা ২

শিক্ষক বাবার ৬ সন্তানের ৪র্থ রাজিয়া। চোখে পড়ার মত সুন্দরী হবার কারনে স্কুল বিল্ডিং সংস্কারের কাজে আসা এলজিইডির এক ব্যাচেলার ইন্জিনিয়ার আসাদ এর চোখে পড়ে। সেভাবে বিয়ের প্রস্তাব ও বিয়ে।

চমৎকার সংসারে দিন কাটে সাথে যোগ হয় ফুটফুটে একটি মেয়ে। খুব খরুচে আসাদ বউ মেয়েকে নিয়ে ঘুরে বেড়ানো, খাবার দাবার আর খুব দামী কাপড় পড়ানোর মধ্যেই দিন কাটায়…. সংসার, বাচ্চা সামাল দিতেই ব্যাস্ত রাজিয়ার আর ১০ম শ্রেনীর পর আর পড়া হয়নি। কিন্তু সব চিন্তাকে হার মানিয়ে ১০ বছরের সংসারে একদিনের মাথায় হার্ট এ্যাটাকে মারা যায় আসাদ। শশুড় বাড়ির পক্ষ থেকে দায়িত্ব নিতে অস্বীকার করে আর বাবার এমন কোন ফাইনানন্সিয়াল সাপোর্ট নেই যে তাদের পাশে এসে দাড়াবে।

আফিসে দারুন জনপ্রিয় সদালাপি আসাদের সম্পত্তি ঘেটে দেখা গেল ব্যাংক লাখ খানিক টাকা ছাড়া কিছুই নেই। আর প্রজেক্টের চাকরী হবার কারনে মৃত্যুর পর কোন বিনেফিট ও নেই। আক্ষরিক অর্থেই অথই সাগরে পড়লো রাজিয়া মেয়েকে নিয়ে। এ অবস্থায় অফিস এগিয়ে আসলো। কিছু ফাইনাইন্সিয়াল সাপোর্ট সহ অফিস ডিরেক্টর তাকে চাকরী দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিল কিন্তু মাত্র ১০ম শ্রেনী পর্যন্ত পড়া রাজিয়াকে কিই বা চাকরী দিতে পারে। তার শিক্ষাগত যোগ্যতায় পিয়ন বা দাড়োয়ান পোস্টে বড়জোড় নিয়োগ দিতে পারে। কিন্তু একজন অফিস ইন্জিনিয়ার এর বউকে এ ধরনের পদে বসানো সন্মানযোগ্য না হবার কারনে সবার সহমর্মিতায় ডিরেক্টর সাহেব তাকে রিসেপসনিস্ট পদে বসালেন। এভাবেই শুরু হলো রাজিয়ার নতুন সংগ্রাম।

সময়ের পরিক্রমায় একসময় ইন্জিনিয়ার আসাদের স্মৃতি ম্লান হয়ে আসে অফিসে ও আসাদ ভাবী পরিচয় থেকে বড় হয়ে উঠে সুন্দরী রিসেপসনিস্ট রাজিয়া আপা পরিচয়টি। আর আস্তে আস্তে একটু একটু করে সুন্দরী রাজিয়া আপার কাছে ভিড়তে চেস্টা করে সুযোগ সন্ধানী চরিত্রগুলো… যেখানে আকারে ইঙ্গিতে থাকে নানা ধরনের কু-প্রস্তাব………। এভাবেই অফিসের বড় থেকে ছোট সবাই একটু বাজিয়ে দেখতে চায় রাজিয়াকে।

একসময় পরিচয়ে অফিসার ভাবী হলেও এখন ৩য় শ্রেণীর কর্মচারী তাই আফিসে অন্যান্য কর্মচারীরা তার ভাব পছন্দ করে না। রাজিয়া ভাবী তার আগের পরিচয়কেই বড় করে দেখতে চায় যার কারনে অন্যান্যদের সাথে কনফ্লিক্ট অনিবার্য হয়ে দেখা দেয়….. যারা কাছে ভীড়তে পারে না তারা নানা রসালো কাল্পনিক গল্প চালিয়ে যায় রাজিয়ার সম্পর্কে। এক সময় সে সব গল্পের গন্ডি অফিস ছাড়িয়ে পৈাছে যায় ভাবীদের কাছে ……… ফলশ্রতিতে সন্দেহপ্রবন অফিসার ভাবীদের থেকে আরেকদফা হেনেস্থা।

বিভিন্ন ধরনের কম্পপ্লেইনের পর একসময় এক তদন্ত কমিটির সদস্য হবার কারনে বিষয়টি নজরে আসলো। মেয়েটিকে রুমে ডাকতেই খুব শান্তভাবে তার হাতের মোবাইলটি এগিয়ে দিল, বললো, আপা, দেখেন আমার মোবাইলের কললিস্ট ও মেসেজ। সারারাত অাননোন নাম্বার থেকে ফোন আসে আর মেসেজগুলো পড়েন…. আমার মাথা ঘুরার অবস্থা। এমন বাজে মেসেজ কিভাবে লিখে মানুষ। মেয়েটি দৃঢ়তার সাথে বললো আমি জানি রহিম সাহেব এসব লিখে… দিনের পর দিন সহ্য করার পর গত সপ্তাহে তাকে বললাম এসব বন্ধ করতে তাই আমার নামে এমন কম্লেইন দিয়েছে। আর মেয়েটা এখন বড় হয়েছে, ও যদি এসব মেসেজ দেখে তাহলে আমাকেই বা কি ভাববে। আমি আকাশ থেকে পড়লাম…. রহিম সাহেব মানে পঞ্চাশোর্ধ দাড়িওয়ালা অফিস ক্লার্ক !!!!!!!!

আজ এটুকু… আর হাঁ পাঠককুল আগের ঘটনার শেষ জানতে চেয়েছেন… শুধু এটুকু বলতে চাই ওর একটা মোটামুটি ব্যবস্থা হয়েছে …. কারন অফিসে শুধু হ্রদয়হীন নয় হ্রদয়বান লোক ও থাকে যারা মেয়েদেরকে মেয়েমানুষ নয় মানুষ ভাবে। ভালো থাকুন।। থাকুন…… আমার আগের পর্ব যদি পড়তে চান….. পর্ব -১

Comment

Comment

   
ই-মেইলঃ mohioshi@outlook.com
ফেসবুকঃ www.facebook.com/mohioshibd
মোবাইলঃ ০১৭৯৯৩১৩০৭৮, ০১৭৯৯৩১৩০৭৯
ঠিকানাঃ ১০/৮, আরামবাগ, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
কপিরাইট ©  মহীয়সী