“তানিয়া” এক বিপ্লবী নারী

etha-20120303-tanya-00_extতাকি নাজিবঃ

বিপ্লবী নারী তানিয়ার জন্ম হয় আর্জেন্টিনাতে। তার বাবা ছিলেন একজন জার্মান অধ্যাপক,নাম “এরিখ” আর মা “নাদিয়া” ছিলেন পোলিশ। এরিখ ১৯২৮ সালে যোগদেন জার্মান কমিওনিষ্ট পার্টিতে। কিন্তু ঐ সময়ের অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জার্মানিতে নাৎসিরা ক্ষমতায় চলে এলে এরিখ স্বপরিবারে বাধ্য হয়ে চলে আসেন আর্জেন্টিনা’তে।সেখানে ১৯৩৮ সালে জন্ম নেন তানিয়া।

তার পরিবার ১৯৫৮ য় আবার ফিরেআসে জার্মানিতে। ততোদিনে জার্মানি হয়েছে দু’ভাগ। পূর্ব জার্মানিতে কায়েম হয় কমিওনিষ্ট রাষ্ট্র। তানিয়া ১৫ বছর বয়শে মার্কসবাদে দীক্ষা নেন। কমিওনিজমের উপর বার্লিন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রী নেন তিনি। এসময় লাতিন আমেরিকা থেকে যেসমস্ত নেত্রীবৃন্দ পূর্বজার্মান সফরে যেতেন তাদের অনুবাদক হিসাবে কাজ করেন তানিয়। এভাবেই একুশ বছর বয়শি তরুনিটির সাথে দেখাহয়ে যায় কিউবার বিপ্লবী নেতা চে গুয়েভার।

১৯৫৯ সালে কিওবার ফেডারেল ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসাবে চে আসেন পূর্ব জার্মানিতে। তার উদ্দেশ্য ছিল কিউবার বিপ্লবী সরকারের জন্য অর্থ সংগ্রহ করা। সেখানে চে’র অনুবাদক হিসাবে কাজ করে ছিলেন তানিয়া।

কিউবায় সফল বিপ্লবের পর চে তখন সারা বিশ্বে রুপকথার নায়ক। এই বিপ্লবের আদর্শে অনুপ্রানিত হয়ে ১৯৬১ তে তানিয়া চলে আসেন কিউবায়।

১৯৬১ এ চে লাতিন আমেরিকাতে বিপ্লব পরিচালনার জন্য গেরিলা দল প্রস্তুত করতে থাকেন। তিনি বলিভিয়াতে বিশেষ দয়িত্ব দিয়ে পাঠান তানিয়াকে। তানিয়া সেখানে স্থানীয় কমিওনিষ্ট পার্টির সাথে যোগাযোগ করেন। তথ্য সংগ্রহ করেন বলিভিয়ার রাজনৈতিক ব্যাক্তিদের সম্পর্কে এবং সেনাবাহিনীর ক্ষমতা সম্পর্কে।

১৯৬৭ সালের ৩ নভেম্বরে চে মস্কো, প্রাগ, প্যরিস, মাদ্রিদ, সাও পাওলো ঘুরে সিআইএ’র চোখ ফাঁকি দিয়ে চে এসে পৌছান বলিভিয়াতে। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী ও তাদের মদদপুষ্টদের বিরুদ্ধে সংগ্রামের দিনগুলোতে জংগলে লুকিয়ে থাকা চে’র গনবাহিনীর বর্হিরবিশ্বের সাথে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হয়ে দাড়ায় বিপ্লবী নেত্রী তানিয়া। তার ঘরে লুকিয়ে রাখা একটি রেডেও’র মাধ্যমে তিনি ফিদেল কাস্ত্রো সহ সবার সাথে সংযোগ রক্ষা করতেন। কিন্তু এক সময় বিশ্বাসঘাতকতার জন্য ফাঁস হয়ে যায় তার অবস্থানের কথা। তখন তানিয়ার জন্য চে’র বিপ্লবী বাহিনীতে যোগ দেয়া ছাড়া আর কোন পথ খোলা থাকে না। গনবাহিনীতে তানিয়া রেডিও কমিওনিকেশন এবং সৈন্যদের জন্য খাবার সংগ্রহের দয়িত্ব পান।

১৯৬৭ সালের ৩১ আগষ্ট তানিয়া আরো ১৫ জন সহযোদ্ধা নিয়ে রিও ডি জেনেরো নদী পার হচ্ছিলেন। তাদের মাথায় ছিল গেরিলাদের জন্য বিস্কুট আর পিঠে ছিল অস্ত্র। এমন আবস্থায় তারা এম্বুসের মুখে পড়েন। প্রথম গুলিতে তার হাত বিচ্ছন্ন হয়ে যায়,দ্বিতীয় গুলিতে বিদীর্ণ হয় তার ফুসফুস। নদীর জলে ভেসে যায় তানিয়া সহ আরো ৮ জনের লাশ।

 

২৭/০১/২০১৭

লেখকঃ প্রবাসী বাঙ্গালী লেখক, ভিয়েনা,অষ্ট্রিয়া।

 

Comment

Comment

   
ই-মেইলঃ mohioshi@outlook.com
ফেসবুকঃ www.facebook.com/mohioshibd
মোবাইলঃ ০১৭৯৯৩১৩০৭৮, ০১৭৯৯৩১৩০৭৯
ঠিকানাঃ ১০/৮, আরামবাগ, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
কপিরাইট ©  মহীয়সী