হোলির অযুহাতে নারী নির্যাতন

লিখেছেন ঃ মানসুরা আকতার

এই কথাটা মনে হয় সত্যি যে হোলিখেলা যদ্দিন হিন্দুধর্মের ধর্মীয় উৎসব ছিলো, তদ্দিন এইসব কেলেংকারির খবর আমরা পাইনি। যেইনা, “ধর্ম যার যার উৎসব সবার” জাতীয় ডায়ালগ দিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নামে রাস্তাঘাটে গায়ে হাত দেওয়াদেওয়ি শুরু হলো, অমনি ঐ চ্যাংড়া ছোড়াগুলো চামে হনুমান সাজতে রঙের ডিব্বা নিয়ে মেয়েমানুষের শরীর পর্যন্ত হাত বাড়ালো। এরপর যখন আমরা নিশ্চিত হলাম যে জোর করে রঙ মাখানো ছেলেগুলো কেউ হিন্দু ছিলোনা, তখনি ক’জন বলতে শুরু করলেন যে মুসলমানেরই কাজ এগুলো! আহা কি মধু!

আমাদের দেশে ধার্মিক মুসলমান বলতে তো সেই টুপি-দাড়িওয়ালা হুজুর কিম্বা জুব্বা বোরকা পরা মেয়েগুলোকেই বুঝানো হয়। কই, তাদেরকে তো আর হোলিখেলায় রঙ মাখতে দেখিনা! কতোক টুটকা কমবয়েসী চ্যাংড়া ছোড়ার বখাটেপনাকেও কেউ কেউ “ধর্ম” নাম দিয়ে দেয় দেখে বিস্মিত হই!

আমাদের ছোটোকালে আমরা অবাধে হিন্ধু প্রতিবেশীদের বাড়িতে গিয়েছি-খেয়েছি-মিশেছি, কিন্তু তাদের ধর্মকে নিজের বলে মাথায় সিদুঁর মাখিনি। আবার আমাদের হিন্দু বন্ধুরা আমাদের বাড়িতে আসতে কোনোদিন দ্বিধা করেনি, কেননা তারা নিশ্চিত জানতো যে এই বাড়িতে অন্তত তাকে গরুর গোস্তে চুবানো চামচ দিয়ে “নিরাপদ” সেমাই তুলে খাওয়ানো হবেনা। বিশ্বাস এবং শ্রদ্ধাবোধই নিরাপদ দূরত্বে থেকে নিজস্বতা ধরে রাখার চাবিকাঠি। এই দেশে বহু বছর ধরে হিন্দু-মুসলিম মিলেমিশে যার যার ধর্ম পালন করেছে, পরস্পরের বিপদে পাশে থেকেছে। এইখানে এতো বিভেদ সৃষ্টির কোনো প্রয়োজন ছিলোনা।কে বোঝাবে, এগুলো হিন্দু-মুসলিম বিভেদ নয়, এগুলো সোজা বাংলায় চরিত্রহীনতা।

আসল সমস্যা হলো মেয়েমানুষের জেন্ডারে। যখন হিন্দু মেয়ে ধর্ষিতা হয়, আমাদের সুশীল সমাজ বলে, সংখ্যালঘুতার জন্যে হয়েছে। যখন মুসলিম নারীর হিজাব নিয়ে টানাটানি চলে, সুশীলেরা বলেন, হিজাবের কালচার ঠিক নেই। আল্ট্রামডার্ণ মেয়েটির শ্লীলতাহানির খবর পেলে হুজুরেরা পর্দার উপর জোর দেন।যখন অবুঝ শিশুকন্যাটিকে কেউ ধর্ষণ করে ফেলে যায়, উনারা বলেন যে পুরূষের অভূতপূর্ব রোগ হয়েছে, তাই সেলফ কন্ট্রোল ঠিকঠাক ছিলোনা।সবশেষে অভিযোগের আঙ্গুল সেই ভিক্টিমের দিকেই থাকে, “নববর্ষে রমনায় যাও কেন, থার্টি ফার্স্টে পার্টিতে বেরোও কেন, মাথায় সিদুঁর কেন, ঘোমটা কেন, বেপর্দা কেন, চাকরি করো কেন, বাড়ি বসে হুদাই অন্ন ধ্বংস করো কেন, বেহায়ার মতো বাঁচো কেন, আত্মহত্যা করো কেন, প্রেগন্যান্ট কেন, বাজা কেন, কুৎসিত কেন, সুন্দরী কেন, বিয়ে করোনা কেন, বিয়ে করো কেন!” খালি জিজ্ঞেস করতে বাকি আছে যে হোলির দিনে শাখারিবাজারের রাস্তা দিয়ে অফিস-টফিস যাও কেন!

তারপর মেয়েরা নির্যাতিত হতে হতে জাতি-ধর্ম-গোষ্ঠী-বিবাহিত-কুমারী-শিশু-বৃদ্ধা-মাতা সকল সীমারেখা ছাড়িয়ে যায়। আমাদের সুশীলেরা তখনও নিজেদের গায়ের দিকে নজর দিয়ে নিজস্ব স্বভাবের উন্নতি না করে দূরবীন দিয়ে নারী অধিকার হরনের কারন খোঁজেন।

 

 

Comment

Comment

   
ই-মেইলঃ mohioshi@outlook.com
ফেসবুকঃ www.facebook.com/mohioshibd
মোবাইলঃ ০১৭৯৯৩১৩০৭৮, ০১৭৯৯৩১৩০৭৯
ঠিকানাঃ ১০/৮, আরামবাগ, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
কপিরাইট ©  মহীয়সী