প্রেম ও ক্ষুধাঃ বিষাক্ত পার্ভার্টিজম

 মানসুরা আকতার:

কালকের খেলা আমাকে তেমন আবেগতাড়িত করেনি। আসলে আমি খেলা দেখিইনি। রেডিও কানে লাগিয়েও শুনিনি। তবে হ্যা, ঘরের বাইরে থেকে একটু পরপর উল্লাসধ্বনি শুনে বুঝতে পারছিলাম যে বাংলাদেশ টিম হয়তো খুব ভালো খেলছে। আসলে আমার মন ভালো নেই। মন ভালো থাকেনা। এমনকি এই ক্রিকেট নিয়েও উল্লাসের চরম পর্যায়ে আমাদের দেশি ক্রিকেটভক্তরা বলেন, “ধইরে দিবানি”, “ভইরে দিছি”, “মারা খায়”, “ফাক দেম”, “বাঁশ ঢুকানো”…..ইত্যাদি।

উল্লাসের এই প্রকাশের মধ্যে এক ধরনের পার্ভার্টিজম দৃশ্যমান হয়। আমার কাছে মনে হয় যে খেলার প্রতিপক্ষের মতো উনারা যৌনসঙ্গীকেও একজন প্রবল প্রতিপক্ষ ভাবেন এবং তাকে ঘায়েল করার নানান উপায় খোঁজেন। আর এর প্রতিফলন ঘটে খেলার প্রতিপক্ষের ব্যাপারে মৌখিক প্রকাশে। আমি তনুর মৃতদেহের ছবি দেখেছি। উনিশ বছরের মেয়ে আমাদের ভৌগলিক প্রেক্ষাপটে একজন পূর্ণাঙ্গ নারী। সে নিশ্চয়ই মনে মনে একটি প্রেমময় জীবনের স্বপ্ন দেখার বয়সেই ছিলো। সেই কল্পনায় যে প্রেমিক আসে, সে প্রেমের সাথে আলিঙ্গন করার কথা।

স্পর্শকাতর স্পর্শ নিয়ে আসার কথা। প্রতিপক্ষের মতো ঘায়েলের চিন্তা নয়। এই পারভার্ট দেশে যখন আমাদের মাঝে যে কেউ যেকোনো সময় যেকারো প্রতিপক্ষ হয়ে ঘায়েল হয়ে পড়ে থাকতে পারে, এমনকি পাশাপাশি চলা নারী-পুরূষেরা প্রেম ও ক্ষুধাকে গুলিয়ে বিষাক্ত পার্ভার্টিজমে রূপান্তরিত করে, সেইখানে, আমাকে আর কোনো খেলাধুলা টানেনা। আমি দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে উদ্ভ্রান্তের মতো কাঁদি, আর বলি, প্রভু, এসব আর দেখিওনা, মুক্তি দাও!

 

লেখিকাঃ শিক্ষিকা

বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি

Comment

Comment

   
ই-মেইলঃ mohioshi@outlook.com
ফেসবুকঃ www.facebook.com/mohioshibd
মোবাইলঃ ০১৭৯৯৩১৩০৭৮, ০১৭৯৯৩১৩০৭৯
ঠিকানাঃ ১০/৮, আরামবাগ, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
কপিরাইট ©  মহীয়সী