মা সন্তানকে কিভাবে জেদি ও অসৎ করে তোলে?

এম.মনসুর আলীঃ

শিশুকালই হচ্ছে ভবিষ্যত জীবনের ভিত্তিভূমি। এই ভিত্তিকে সুদৃঢ় করে ভবিষ্যতের আদর্শ সন্তান  হিসাবে  গড়ে তুলতে মায়ের ভূমিকাই প্রধাণ ও মূখ্য একজন সচেতন ,বিজ্ঞ মা-ই পারেন তার সন্তানকে যথার্থ মানুষ হবার শিক্ষা দিতে।একজন শিশুর সবচেয়ে বড় সাথী হচ্ছে তার মা ।শৈশবের শুরু থেকেই শিশুর চারিত্রিক, নৈতিক ও মানসিক বিকাশ শুরু হয়। তাই এই সময়ে প্রাপ্ত শিক্ষা যাতে তার ভবিষ্যত জীবনের পাথেয় হতে পারে সেদিকে  তীক্ষ্ণ নজর রাখতে হবে। আর এ দায়িত্ব প্রধানত মায়ের উপরই বর্তায়। মা শুধু একজন জন্মদাত্রী জননীই নন, সুন্দর চরিত্রবান সন্তান তৈরি করার কারিগরও বটে। মায়ের গর্ভে থাকার সময় থেকেই শিশু তার মাতৃসত্তাকে অনুধাবন,অনুকরণ করে। মায়ের সকল কাজ-কর্ম, চিন্তা-চেতনা, আবেগ-অনুভূতি, আচরণ, মূল্যবোধ শিশুর ওপর প্রভাব ফেলে।কারণ শিক্ষাকালীন নব্বই ভাগ সময়ই শিশু মায়ের কাছেই থাকে। শিশুর প্রথম ও প্রকৃত শিক্ষক ও মা।একজন শিশুর শিক্ষার হাতেখড়ি মার কাছ থেকেই হয়। মা প্রথমে শিশুকে মা-বাবা, দাদা-দাদি, নানা-নানীসহ আত্মীয়-স্বজনদের ,শিশুর সাথে পরিচয় করিয়ে দেন। কথা বলা শেখার সময় মা সারাক্ষণ তার সন্তানের সাথে কথা বলে থাকেন। শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গসহ বিভিন্ন জিনিসের নাম শিখিয়ে থাকেন।  যৌথ পরিবারে কাজটি অনেকটা সহজ হলেও একক পরিবারে মাকেই দায়িত্বটা পালন করতে হয় ।মায়ের মুখের ভাষাই শিশু প্রথম রপ্ত করতে থাকে। এমনকি শৈশবকাল থেকেই শিশু মায়ের প্রত্যেকটি আচরণ এবং কথা-বার্তা অনুকরণ করতে শেখে।কারণ শিশুরা  অত্যন্ত অনুকরণপ্রিয়। সবকিছুকে অনুকরণ করতে সে ভালোবাসে। তাই মাকে খুব সতর্কতার সাথে এ সময়ে শিশুর লালনপালন করতে হবে। মায়ের মাধ্যমেই শিশু তার পরিবার ও পারিপার্শ্বিকতার সাথে  পরিচিত হয়ে ওঠে।   সুতরাং একজন শিশুর মানসিক গঠনে এবং চারিত্রিক বিকাশে মায়ের ভূমিকা অতীব গুরুত্বপূর্ণ।মা যতো নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও দরদের সাথে তার শিশুর পরিচর্যা ও লেখাপড়া করিয়ে থাকেন তা আর অন্য কারো পক্ষে সম্ভব নয়। আসলে মার বিকল্প হয় না। বই-খাতা-কলমসহ প্রয়োজনীয় সবকিছু দিয়ে ব্যাগ প্রস্তুত করে সময়মত মাথায় সিঁথি কেটে ও পরিপাটি করে স্কুলে পৌঁছানো কেবল মার পক্ষেই সম্ভব।  মাত্রাতিরিক্ত স্নেহ আবার কোমলমতি শিশুকে স্বেচ্ছাচারী করে তোলে । সেদিকেও মাকে সচেতন থাকতে হবে। ।শিশুকে কখনো বেশি শাসন করা উচিত নয়। লঘু পাপে গুরুদন্ড- অনেক সময় শিশুকে আরো জেদী করে তোলে। মা যদি  সহানুভূতির সাথে শিশুকে সংশোধন করার চেষ্টা করেন তবে সে চেষ্টা শারীরিক শাস্তির চেয়ে অনেক বেশি সুফল বয়ে আনে ।শিশুর চরিত্র গঠনের দায়িত্বটাও মূলত মাকেই পালন করতে হয়।   পরিবারে বড়দের প্রতি ভক্তি-শ্রদ্ধা এবং ছোটদের প্রতি আদর স্নেহ প্রদর্শন করে সন্তানের সামনে মাকেই দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হয়। অতিরিক্ত আদর-স্নেহ বশে তাদের অন্যায় আবদার মেনে নেওয়া উচিত নয়। চাইবা মাত্র চাহিদাপূরণের অভ্যাস শিশুকে জেদী করে তোলে। তাই নিজ নিজ সামর্থ্যরে অনুকূলে শিশুর আবদার পূরণ করা উচিত। শত কর্মব্যস্ততার মধ্যেও শিশুর চরিত্র গঠনে প্রত্যেক মাকে কিছু সময় অবশ্যই ব্যয় করতে হবে।মা-বাবার মধ্যে মাকেই  যেহেতু সবচেয়ে বেশি কাছে পায় সন্তান তাই আদর্শ সন্তান গঠনে প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে মায়ের।।আদর্শ মায়ের  কোলে জন্মগ্রহণ করে  আদর্শ শিশু। সন্তান তার মায়ের কাছে যতখানি ফ্রি থাকে পিতার কাছে ততটা নয়। তাই দেখা যায় সন্তানের চলাফেরা-ওঠাবসা ও সখ্যতা মায়ের সঙ্গেই বেশী। আবার অনেক সময় মা সন্তানকে গোপনে টাকা-পয়সা দিয়ে থাকে যার ফলে দ্রুতই তার অসৎ সঙ্গী জুটে যায়। সন্তানের মাদকাসক্তের মূলে রয়েছে মা  কর্তৃক গোপনে বাড়তি অর্থ প্রদান এবং সন্তানের অসৎ কর্মের বিষয় পিতার কাছে গোপন করে যাওয়া। এসবই ঘটে থাকে সন্তানের প্রতি মায়ের দুর্বলতা ও অতি আদরের ফলশ্রুতিতে। পরিশেষে বলব  অন্তরের সোহাগ এবং চোখের শাসন  দুয়ে মিলে সন্তানকে সঠিক পথ নির্দেশনা দিয়ে চালিত করার ক্ষেত্রে মায়ের ভূমিকা অপরিসীম ।

লেখকঃসাংবাদিক,অরুয়াইল,সরাইল ,ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

ই-মেইলঃ monsor.eza@gmail.com

 

Comment

Comment

   
ই-মেইলঃ mohioshi@outlook.com
ফেসবুকঃ www.facebook.com/mohioshibd
মোবাইলঃ ০১৭৯৯৩১৩০৭৮, ০১৭৯৯৩১৩০৭৯
ঠিকানাঃ ১০/৮, আরামবাগ, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
কপিরাইট ©  মহীয়সী