বাজান তুমি কেন আইসো?

সালমা আকতার:

“বাজান তুমি আইসো?এমন কইরা আচানক কেন আইলা তুমি বাজান?তোমারে দেইখা আমার খালি কান্দন আহে কেন কইবার পারো?”
“এমন করস কেন মা তুই?কি হইসে তোর?আমি তো আইসা পড়সি।তোর কি লাগবো আমারে ক মা।তুই কিমুন আসুস মা?”

“আমি অনেক বালা আসি বাজান।এই যে হাতে পোড়া দাগ দেখতাস,এইডা খুন্তি গরম কইরা পোড়ানোর দাগ।ভাত বেশি নরম হইয়া গেসিলো তাই আমার শ্বাশুড়ী খুন্তি গরম কইরা হাতে ছেঁকা দিসে।আর এই যে গোল গোল দাগগুলান দেখতাস না,এই গুলান তোমার জামাইর দেওয়া সিগারেটের পোড়া।আমি অনেক বালা আসি বাজান।দুই বেলা দুই মুঠ ভাত তো খাইবার পারি। আমার চুলগুলানের কতা মনে আসে তোমার বাজান?এই দেহ আমার চুল গুলান কোমর সমান আর নামে না।গেল চৈত্রে হেরা মা পোলা মিইল্যা আমার চুল গুলানরে বডি দিয়া কাইট্টা ফালাইসে।বাজান গো খালি তোমার কাসে যাইতে কয় টাহার লাইগ্যা।আমি যাইনা দেইখ্যা এমুন কইরা আমারে মারে। আমি অনেক বালা আসি বাজান।মাতার উপর একটা ছাদ তো আছে।
আমার পেডে একটা সন্তান আইসিলো বাজান।হেরা মা পোলা মিল্যা একদিন এমন লাথ্থি দিসে, লগে লগে আমার সব শেষ হইয়া গেলো বাজান।এহন আর পেডে পোলাপান আহে না দেইখ্যা আমারে বান্জা কয়।”
“মা রে চুপ কর..চুপ কর আর সহ্য করবার পারতাসি না।তুই আমার লগে চল্ মা।আমি আর তোরে এহানে থাকবার দিমু না।”
“কই যামু বাজান?আমার যাওনের আর জায়গা নাই।আর কয়ডাদিন আগে কইতা আমি যাইতাম।বাজান গো এহন তো আমি জিন্দা লাশ।তোমার ঘর থাইক্যা যে মাইয়াডারে বাইর করসিলা হে তো মইরা গেসে বাজান।মরা লাশ আর নিয়া কি অইবো।শরীলের ভিতর যে মনডা তাহে হেডা তো কবেই জ্বইল্যা পুইড়া কয়লা অইসে।আর বাইরের চামড়াডারও সময় শেষ অইয়া আইসে।এহন আর কোনো কামে বল পাইনা বাজান।মাতাডা খালি ঘুড়ায়।পইড়া যাই।হের লাইগাও মাইর খাই।
তয় মা রে অনেক মনে পড়ে বাজান।মা কইতো,আমার রাজকইন্যা মাইয়া যেই ঘরে যাইবো হেই ঘর আলো হইয়া যাইবো।বাজান গো আমার চারপাশে খালি অন্ধকার।আলো তো দেহি না বাজান।”

Comment

Comment

   
ই-মেইলঃ mohioshi@outlook.com
ফেসবুকঃ www.facebook.com/mohioshibd
মোবাইলঃ ০১৭৯৯৩১৩০৭৮, ০১৭৯৯৩১৩০৭৯
ঠিকানাঃ ১০/৮, আরামবাগ, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
কপিরাইট ©  মহীয়সী