’৭১-এর যুদ্ধশিশু ১-কাজী রফিক।

বিংশ শতাব্দীর ঘৃণ্য অমানবিক অপরাধের ফসল বাংলাদেশী নারী ও বালিকার গর্ভে পাকিস্তানী দখলদার বাহিনীর ধর্ষনের পরিনতিতে জন্ম হওয়া যুদ্ধশিশু।এই যুদ্ধশিশুরা অক্টোবর ১৯৭১ থেকে সেপ্টেম্বর ১৯৭২-এর মাঝের সময়ে জন্মগ্রহন করে।তাদের মায়েরা সমাজ পরিবারএর ভয়ে ও লজ্জায় অনন্যেপায় হয়ে জন্মের পরই শিশুদের পরিত্যাগ করতে বাধ্য হয়।পরিচয়হীন এই যুদ্ধশিশুদের স্থান হয় কোন মাতৃসদনে,রাজধানীর মাদার তেরেসা আশ্রয়কেন্দ্রে কিংবা কোন অনাথ আশ্রম ও সেবাকেন্দ্রে। শিশুকে জন্ম দিয়েই মায়েরা কেউ আত্মগোপন করে,কেউ আত্মহত্যা করে অনেকে অসুস্থ হয়ে ধুকে ধুকে মারা যায়।বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে এসব জানা যায়।
দেশের মানুষ ওই শিশুদের প্রতি নির্মম ও উদাসীন মনোভাব দেখান।অনেকে এই যুদ্ধশিশুদের ‘শত্রূসন্তান’ বলেও আখ্যায়িত করে।পাশাপাশি ধর্ষিতা নারীদের প্রতিও দেখা হতো অসন্মানের চোখে।কিন্তু বঙ্গবন্ধু ধর্ষিতাদের বীরাঙ্গনা সন্মান প্রদান করেন। তারপরও তারা নিজেদের প্রকাশ করতে সাহস পাননি।১৯৯৯ সালে প্রথম জনসমক্ষে আসা নারী হলেন মানবাধিকার কর্মী ভাস্কর ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিনী।তিনি তার নিগ্রহের কাহিনী তুলে ধরেন।সর্বশেষ ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক একাত্তরের ধর্ষনের শিকার নারী ও যুদ্ধশিশুদের জাতির ’শ্রেষ্ঠসন্তান’বলে আখ্যায়িত করেন এবং তাদের যথাযথ সন্মান ও পুনর্বাসনের অনুরোধ করেন।
যাক সময় অনেক গড়িয়েছে। এ ৪৫ বছরে আজ সে যুদ্ধশিশুরা কোথায় কি অবস্থায় আছে কে জানে তাদের খবর ।সেদিন কতজন যুদ্ধশিশু জন্মেছিলো তার পরিসংখ্যনও নেই।আমার এ লেখায় শুধু ১৫জন যুদ্ধশিশুর কাহিনী তুলে ধরবো,১৯৭২সালে কানাডার ১৪টি পরিবার তাদের দত্তক নিয়েছিলেন।তারা বর্তমানে কেমন আছেন,তারা কি তাদের জন্মইতিহাস জানেে ? সরাসরি তাদের সঙ্গে,তাদের কানাডীয় বাবা মার সঙ্গে কথা বলেছেন কানাডা প্রবাসী মুস্তফা চৌধুরী।
যে ১৬টি শিশুকে দত্তক নেয়া হয় তার জন্যও আইন তৈরী হয়।অনেক বিধি বিধান মেনে নিয়ে দত্তক নিতে হয় ওই বাবা মাকে।সেসময়কার বঙ্গবন্ধুর সরকার অনুধাবন করেছিলেন এই যুদ্ধশিশুদের নিশ্চিত একটি ভবিষ্যৎ দিতে হলে বিদেশীদের কাছে দত্তক দেয়াই উত্তম।তারই ফলে প্রনয়ন করা হয় দত্তকপ্রদান আইন।
আমলাতান্ত্রিক জটিলতা অতিক্রম করে ১৯৭২ এর ১৯ জুলাই ১৫জন যুদ্ধশিশু যাত্রা করে কানাডার উদ্দেশ্যে।
এয়ুদ্ধশিশুরাহলো-,শিখা,রানী,ওমর,সাবিত্রী,অরুণ,রাজিব,মলি,প্রদীপ,সময়,অনিল,বাথল,আমিন,রাজিনা,রুফিয়া(রিতা) ও জরিনা।তাদের প্রত্যেকের জন্ম ২৩-১০-১৯৭১ থেকে ১২-০৩-১৯৭২ এর মধ্যে।এরা সবাই পুরান ঢাকার ইসলামপুর রোডের মিশনারিজ অব চ্যারিটির শিশু ভবনের।সেখানেই তাদের জন্ম এবং মিশনারিজের সিস্টার ও সন্যাসিদের দেয়া নাম।পরবর্তীতে কানাডিয়ান বাবা মা তাদের নামের পদবীর সঙ্গে ওই নামগুলো মিলিয়ে রাখে।যেমন-শিখা দীপা মার্গারেট,আমিনা লিন উলসি,রাণী জয় মরাল, ক্রিস্টোফার ওমর বুনস্ট্রা,রায়ান বাথল গুড ইত্যাদি।এসব জানার উৎস হচ্ছে বাংলাদেশ সরকারের শ্রম ও কল্যান মন্ত্রনালয় প্রদত্ব যুদ্ধশিশুদের জন্মসনদ ও কানাডার দত্তকগ্রাহী বাবা মায়ের কাছ থেকে সংগৃহীতআনুষ্ঠানিক দলিল থেকে।যাত্রা শুরু হলো যুদ্ধশিশুদের বিমানযোগে। প্রথমে নয়াদিল্লী তারপর নিউ ইয়র্ক কেনেডি বিমানবন্দর এবং অবশেষে টরেন্টো ও মন্ট্রিয়ল বিমান বন্দর। অনেক ঝঁকিপূর্ণ ছিলো দুর্বল এ শিশুদের যাত্রা……………..চলবে
(লেখক: কবি এবং সাংবাদিক)

Comment

Comment

   
ই-মেইলঃ mohioshi@outlook.com
ফেসবুকঃ www.facebook.com/mohioshibd
মোবাইলঃ ০১৭৯৯৩১৩০৭৮, ০১৭৯৯৩১৩০৭৯
ঠিকানাঃ ১০/৮, আরামবাগ, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
কপিরাইট ©  মহীয়সী