মুক্তি যেভাবে পেয়েছি

গুলশান আরা ইতিঃ

ইশরাকের বয়স যখন ২ বছর তখন আমি আমার জীবনের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটা বিচক্ষণতার সাথে নিয়েছিলাম বলে আমি মনে করি। আমাকে এজন্য অনেক প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছিল সে সময়। যারা আমাকে প্রশ্নবাণে জর্জরিত করবে বলে জিভে শান দিয়েছিল,তাদের সেই আশায় আমি জল ঢেলে দিয়েছিলাম। অযথা কথা না বাড়িয়ে, বাকী জীবনটা কেবল ছেলেকে নিয়ে থাকব -নিজের  এই স্হির সিদ্ধান্তে অনড় ছিলাম।

দীর্ঘ দিনের প্রবঞ্চনা আমাকে ভেতরে ভেতরে এক ধরনের শক্তি অর্জনে সাহায্য করেছে। যখন আমি শ্বশুর বাড়ী’র সবাইকে কথাটা জানালাম, তারা খুব হাস্যকর ভাবে আমাকে নিবৃত করতে চাইলেন। স্বামী যেমনই হোক তাকে আকড়ে ধরে, মাটি কামড়ে ওখানেই থাকতে হবে/যেহেতু বাবা- মা তখন বেঁচে নেই সেহেতু আমার যাবার তো কোন জায়গা নেই ( তারা আমার অসহায়ত্বে খুব চিন্তিত!) / ধার্মিক পরিবারের মেয়ে হয়ে এরকম চিন্তা করাও যে পাপ তা কেন বুঝতে পারছি না- ইত্যাদি ইত্যাদি। সবচেয়ে বড় অস্ত্রের প্রয়োগটা এল সবশেষে। ছেলেটার মুখের দিকে তাকিয়ে যেন সব মেনে নেই…

আমি মানতে পারিনি। মানতে চাইও নি।
ছেলেটার কথা ভেবেই।
আমি চাইনি তার মায়ের নিত্যদিনকার অপমান দেখে দেখে ও বড়ো হোক।

আমি কষ্ট পেয়েছিলাম কিন্তু ভেঙে পড়িনি। আমি চেষ্টাও করেছিলাম, বুঝিয়েও ছিলাম। কাজ হয়নি। তার বা তাদের ধারণা ছিল, আমি কোনমতেই ঐ স্বর্গোদ্যান ছেড়ে  কোত্থাও কোনদিন যেতেই পারব না!  কিন্তু আমি পেরেছিলাম।

অবশ্য তখনকার সময়ে আমার আশে পাশের মানুষ গুলো আমাকে আমার ইচ্ছার বাইরের কোন বিষয়ে জোর করে কিছু চাপিয়ে দেয়নি।
এটা একটা মেয়ের জন্য বিশেষ পাওয়া।

এক ভদ্র মহিলা আমাকে বুঝাতে এলেন। তিনি যথেষ্ট সুন্দরি, চলনসই শিক্ষিতও। স্বামী ভদ্র লোকটির পয়সার গরম আছে বেশ। আর তাই অন্যান্য গুণও। স্ত্রী কে সময় দেন না, বাইরেই তার আরেকটা জগত নিজের মত করে গুছিয়ে নিয়েছেন। তাই বলে ঘরের বউ আর সন্তান দের দায়িত্ব নেন নি তা কিন্তু নয়। সন্তানাদি ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ছে, ফড়ফড় করে ইংরেজী আওড়ায়, সময় পেলেই মহিলাটি শপিং এ যান, নিজেই ড্রাইভ করেন। দু’ হাত ভরে বাসায় ফেরেন। সাজগোজও করেন বেশ। আর আজ এটা কিনেছি, কাল ওটা -এই ছিল তার আলোচনার বিষয়। বেশীরভাগ সময়। তেলতেলে চেহারায় একটা সুখি সুখি ভাব!
কিভাবে এত উপেক্ষা সহ্য করে, কেবলমাত্র বিলাসী জীবন যাপনের জন্য একটা মানুষ এসব করতে পারে তা আমাকে ভাবাত।

তিনি যখন আমাকে সদুপদেশ দিতে এলেন, আমি মনে মনে যে জবাবটা দিলাম- তা হলো, ” কোন মেয়েই এ ধরণের বর্বর আচরণ সহ্য করবে না। যদি না সে নিরুপায় হয়। আপনার নিশ্চয়ই  কোন উপায় নেই বলে থাকছেন। কিন্তু আমার তো পায়ের তলায় শক্ত মাটি বা মাথার উপর নিশ্চিন্ত ছাদ দুটোই আছে! ”

প্রথম প্রথম ওই ‘হার্মাদ’ টা হম্বি তম্বি করলেও দীর্ঘদিন পর নাকি আমার অপরিহার্যতা ( ! ) বুঝতে পেরেছে।

ছেলেকে নিয়ে বেশ আছি।সর্বাবস্হায় আল্লাহ্‌র কাছে আমার অসীম কৃতজ্ঞতা।

 

Comment

Comment

   
ই-মেইলঃ mohioshi@outlook.com
ফেসবুকঃ www.facebook.com/mohioshibd
মোবাইলঃ ০১৭৯৯৩১৩০৭৮, ০১৭৯৯৩১৩০৭৯
ঠিকানাঃ ১০/৮, আরামবাগ, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
কপিরাইট ©  মহীয়সী