শিশুর ডায়রিয়া

নুসরাত জাহান প্রমাঃ
ডায়রিয়া ৩ ধরনের।
১। একিউট ডায়রিয়া (Acute watery diarrhoea) -ডায়রিয়া ১৪ দিনের কম। দিনে ৩ বা ওর বেশি পায়খানা হওয়া।সাথে রক্ত না থাকা।(মাঝেমাঝে বমি বা হালকা জ্বর থাকতে পারে)

২।পারসিস্টেন্ট (persistent diarrhoea)-
সময়কাল ১৪ দিনের বেশি হওয়া।


৩।আমাশয়(Dysentery)- ডায়রিয়ার সাথে মিউকাস(পিচ্ছিল) ও রক্ত যাওয়া। (লোকাল ভাষায় আম যাওয়া 😉) সাথে জ্বর,পেট মোচরানো থাকতে পারে।

ডায়রিয়ার কারণে ৩ ধরনের ফলাফল হয়-
১। শরীর থেকে পানি ও ইলেক্ট্রোলাইট চলে যাওয়া (যেমন সোডিয়াম,পটাশিয়াম ইত্যাদি)- ডিহাইড্রেশন হওয়া
২। প্রচুর পরিমাণে জিংক লস হওয়া
৩। ওজন হ্রাস পাওয়া।

ডায়রিয়া চিকিৎসার মূলনীতি –
১. রিহাইড্রেশন করা
২. জিংক সাপ্লিমেন্টেশন দেওয়া
৩. খাবার অব্যাহত রাখা।

ঘরোয়া ভাবে চিকিৎসা-
১. খাবার স্যালাইন (ORS)
২. অন্যান্য – বাচ্চা ব্রেস্টফিড করলে, শিশুর বয়স ছয় মাসের কম বয়স হলে তা কন্টিনিউ করা।
ছয় মাসের বেশি হলে বুকের দুধের পাশাপাশি অন্যান্য স্বাভাবিক খাবার দেওয়া যেমন ফ্রেশ খিচুড়ি, ফ্রেশ ফ্রুট জুস।
৩.  খাবার স্যালাইন পরিমাণ – প্রতিবার পায়খানার পর
বাচ্চার বয়স দুই বছরের কম হলে – ৫০-১০০ মিলিলিটার
দুই বছর এবং এর বেশি হলে – ১০০-২০০ মিলিলিটার।
(বাজারের জুস, সফট ড্রিংকস দেওয়া যাবে না)
৪. জিংক সাপ্লিমেন্টেশন – ১৪ দিন ধরে চলবে।
বাচ্চার দিনে অন্তত ৬ বার খাবার খাওয়া দরকার।

বাচ্চার চোখ বসে গেলে, দূর্বল হয়ে পড়লে, রেস্টলেস হলে, ঠিকমত খেতে না পারলে তাৎক্ষণিক ডাক্তার দেখানো প্রয়োজন। এবং ডায়রিয়ার সময়কাল, তীব্রতা এবং বাচ্চার অবস্থা বিবেচনা করে পরবর্তী চিকিৎসায় যাওয়া হবে।

(তথ্যসূত্র – WHO)

লেখকঃ শিক্ষার্থী, মা ও শিশু মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল,চট্রগ্রাম।

 

Comment

Comment

   
ই-মেইলঃ mohioshi@outlook.com
ফেসবুকঃ www.facebook.com/mohioshibd
মোবাইলঃ ০১৭৯৯৩১৩০৭৮, ০১৭৯৯৩১৩০৭৯
ঠিকানাঃ ১০/৮, আরামবাগ, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
কপিরাইট ©  মহীয়সী