একটি জিপিএ-৫ ও শিক্ষা ব্যবস্থার বেহাল অবস্থা

আহমেদ আরিফ:

একজন ছাত্র-ছাত্রী কে জীবনের ট্র্যাক থেকে আজীবনের জন্য ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়ার জন্য আজকের দিনটি ই যথেষ্ট,

হ্যাঁ আমি জানি একটি ফলাফল কোন কিছুই না,তাই বলে আমি বাস্তববর্জিত কথার তুবড়ি ছোটাবো না কেননা এদেশের সমাজ ও শিক্ষা ব্যবস্থায় সৃজনশীলতার দাম নেই এখানে ফলাফল ই সবকিছু,

একটি ফলাফল ই এ সমাজে একজন ছাত্র-ছাত্রী কে মূল্যায়নের মাপকাঠি, এই যে ধরুন একজন মেধাবী ছাত্র/ছাত্রী যদি দুর্ভাগ্যবশত পিএসসি,জেএসসি,এসএসসি,এইচএসসি এর মতো পাবলিক পরীক্ষায় জিপিএ- ৫ বঞ্চিত হয় তবে দু-একজনের নিরুপায় লোকদেখানো সান্ত্বনা ছাড়া তার ভাগ্যে আর কিছুই জুটে না, এমনকি সে তথাকথিত ভালো স্কুল, কলেজ এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া তো “বহত দূর কি বাত ( অনেক দুরের কথা )” ফর্ম ও নিতে পারবে না,যদিও ভালো স্কুল/ভালো কলেজ/ভালো বিশ্ববিদ্যালয় বলে কিছু নেই এটা বরং হবার কথা ছিলো ভালো ছাত্র-ছাত্রীদের স্কুল/কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয়,

আমরা মুখে বলছি ফলাফল ই সবকিছু নয় অথচ প্রতিটি ক্ষেত্রেই মেধাবী, মেধাহীন শ্রেণীবিভাজন করছি ওই ফলাফলের ভিত্তিতেই,এ যেন “ধর্মেও আছি আবার জিরাফেও আছি” অবস্থা , যদিও এতে ভুক্তভোগীর কোন লাভ ই হয় না,

আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলছি “আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় আপনার ভেতরে কিছু থাকুক বা না থাকুক ভালো ফলাফল করার ক্ষেত্রে তা কখনোই অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় না ( যেমন : কুলা, গঞ্জ,চোঙ্গা,টোপর,ডাব,ডাগর,ডিঙ্গা,ঢেঁকি দিয়েই আপনার ৬ষ্ঠ শ্রেণী থেকে একেবারে মৃত্যু পর্যন্ত বাংলা ২য় পত্র পড়া শেষ )।” এবং এদেশের প্রেক্ষাপটে ভালো ফলাফলটাই আসল এবার তা যে কোন উপায়েই হোক, কেননা এখানে আপনার সামগ্রিক অর্জনের চেয়ে সাময়িক অর্জন ই প্রশংসিত ও সর্বগ্রাহ্য ( কি ভয়াবহ অবস্থা)।

তবে আমি এখনো মনে করি ফলাফল আসলেই কোন ব্যাপার ই না তবে তা প্রমাণ করতে হবে তোমাকেই তোমার কাজে, কর্মে, মানসিকতা ও সৃজনশীলতায় । যদিও তা খুব সহজসাধ্য কিছু নয় এবং সবাই তা পারেও না,তাছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফল ছাড়া এ সমাজে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে হলে শুধু স্রোতের বিপরীতে চলাই নয় বরং তোমাকে নিজে চলার জন্য নিজের মতো করে সম্পূর্ণ নতুন একটি পথ তৈরি করতে হবে এবং এ কাজে তুমি কারো নুন্যতম সহযোগিতাও পাবেনা কারন এ সমাজটা হলো একটি টর্চারসেল (নির্যাতন কক্ষ) আর আমাদের বাবা-মা রা হলেন এক-একজন ইনভেস্টর (বিনিয়োগকারী) যাদের কাছে আর্থিক লভ্যাংশটা ই আসল ।

যদি এতসব প্রতিকূলতার সাথে লড়াই করার মতো দৃঢ় প্রতিজ্ঞা ও মন-মানসিকতা থাকে তবে দু-একটি ফলাফল তোমার কাছে তুচ্ছতর অন্যথায় এদেশে তুমি মরে কবরে গিয়ে শান্তিতে থাকতে চাইলেও পরীক্ষার ফলাফল জিপিএ – ৫ থাকতেই হবে।

পরিশেষে, এটা অবশ্যই সবাই কে মনে রাখতে হবে যে,
“জীবনের জন্য পড়াশোনা কিন্তু পড়াশোনার জন্য জীবন নয়……”

Comment

Comment

   
ই-মেইলঃ mohioshi@outlook.com
ফেসবুকঃ www.facebook.com/mohioshibd
মোবাইলঃ ০১৭৯৯৩১৩০৭৮, ০১৭৯৯৩১৩০৭৯
ঠিকানাঃ ১০/৮, আরামবাগ, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
কপিরাইট ©  মহীয়সী