গর্ভের সন্তানসহ যেভাবে বিচ্ছেদ…….

সাফা মেহজাবিনঃ

বিয়ের পর থেকে একান্ত সময় কাটানোর মত প্রয়াস অম্লানের মাঝে ছিল না।স্বামী IT firm এ জব করতো। চাইলে ঘরে বসে কাজ করা যেত। বয়স কম হলেও আমি তা বুঝি।স্ত্রী হিসেবে আমি ছিলাম ঘরনী হিসেবে আনা হয়েছে, তাই আছি মতবাদের মত।
সুন্দরী হিসেবে ততটা খারাপ ছিলাম না । তবু আমি আমার স্বামীর কাছে কুৎসিত।এর কারণ ভেদ করার মত বুদ্ধিমান আমি নই সবে ১৬ বছর বয়স, একাদশ শ্রেণীতে পা দিয়েছি আর বাবা মারা গেলেন। আর্থিক অবস্থায় অবনতি দেখা দিয়েছিল আমাদের ঘরে। এরই মাঝে ভালো জায়গা থেকে প্রস্তাব
মা গছিয়ে দিলেন আমায়…।
তাতে মায়ের কোন দোষ দেখি না।
উনার জায়গায় আমি হলে তাই করতাম।

বিয়ের পর দু-চারটে দিন স্বামীকে পেয়েছিলাম কাছে, তারপর আর নেই।
নেই মানে হারিয়ে যায়নি
সকালে খেয়েই উধাও হত, ফিরত রাতে, কখনো কখনো মাঝরাতে।
এত রাত অব্দি কোথায় ছিল জানতে চাইলে বলতো “তুমি কৈফিয়ত চাওয়ার কে? ”
হৃদয় ভেঙ্গে যেত ভাবতাম সে যদি এভাবে না বলে বলতো- কাজ ছিল তাই লেট হয়েছে, তবে কি খুব খারাপ হয়ে যেত?

কথা বলার ভঙ্গী আর উপস্থাপন করার ভাবের মাঝেও সুখ দুখ জড়িত থাকে, সে কি বোঝেনা??

এরপর রোজ তার শার্টে মেয়েদের পারফিউম এর ঘ্রান,লিপস্টিকের দাগ, অফিসের ব্যাগে গিফটের বক্স
আর মোবাইলে রোমান্টিক মেসেজ।
একদিন এ নিয়ে খুব ঝগড়া হলো…

আমি যুক্তি দিয়েছিলাম আর সে শুধু অন্যায় ভাবে কথা বলা শুরু করে দিল। আমি শুধু জানতে চেয়েছিলাম এসবের মানে কি?
আর তাতেই যাচ্ছেতাই কান্ড ঘটে গেল।

হুট করে বলে ফেললো তার আমার সাথে সংসার ঠিকিয়ে রাখার মত কোন ইচ্ছা নেই।
কথাটা আমার কানে তীরের মত বিদ্ধ হলো।
সবকিছু দেখে সহ্য করে আমি যেখানে সমাধা চাইছিলাম
সেখানে অম্লান কি করে বিচ্ছেদ চাইলো?
ভেবে কুল পাইনি? তখনো বুঝিনি এখানে ৩য় ব্যক্তি হিসেবে কেও কলকাঠি নাড়ছে।

বাড়ি থেকে কল এলে হেসে কথা বলতাম। খুব করে বোঝাতাম মাকে – তার মেয়ে অনেক ভালো আছে সুখে আছে।

অপটু হাতে আমি আমার সংসারটাকে খুব গুছিয়ে নিয়েছিলাম। শাশুড়ি মা আর শশুড় ও আমায় খুব ভালবাসতেন।তাদের ইচ্ছাতেই আমাদের বিয়েটা হয়েছিল। অম্লানের অনিচ্ছা ছিল কিন্তু তাদের মুখের উপর না করতে পারেনি।

আমাদের মাঝে ঘটে যাওয়া ঝড়ের কথা তাদের কাউকে ঘুর্নাক্ষরেও ঠের পেতে দেইনি।ভেবেছি ঠিক হয়ে যাবে।

পুনরায় একদিন অম্লানের সাথে আমার কথা কাটাকাটি হলো, বিষয়:- ব্যাগের পকেটে রাখা ডায়মন্ডের রিং
জানতে চেয়েছিলাম কেন কিনা হয়েছে?
গালে দুচড় লাগিয়ে সে পালটা প্রশ্ন করে:- তোমার এত সাহস হলো কিভাবে,? ব্যাগে হাত দাও?

জীবনে এই প্রথম মার খেয়েছিলাম আমি।
বলেছিলাম :-
আমি যখন তোমার কাপড় ধোই, যখন ময়লা জুতোগুলো ধোই,যখন হাত পুড়ে রান্না করে সামনে এনে দেই তখন কি জিজ্ঞেস করো কোন সাহসে এসব ধোও,কেন করো?
আমি তোমার বিয়ে করা স্ত্রী বলে।

জবাব দেয়নি, আগে থেকে এনে রাখা ডিভোর্স পেপারটা এগিয়ে দিয়ে বলে সাইন করে ফেল, আমি আর একমুহুর্ত সময় তোমাকে আমার ঘরে দেখতে চাইনা।মোহরের ৬লাখ টাকার চ্যাক ও ছিল সাথে।
[এত গুছিয়ে কেও ডিভোর্স দিতে পারে আগে কোথাও শুনিনি]

মাথাটা চক্কর খেল,
পেটে কেও জোরে একটা লাথি মারলো বলে মনে হলো।গর্ভজাত সন্তান তার মায়ের দুক্ষে কাতর হয়ে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে ।বাইরের কথা শোনেই প্রতিবাদ শিখে গেছে আমার গর্ভের সন্তান।
আমি যে ৫ মাসের গর্ভবতী এই কথাটা শোনার মত সময় ছিল না তার।
খুব স্পষ্ট করে নামটা সাইন করে দিলাম, যে আসছে তাকে নিয়েই বেচে থাকবো বলে।
ব্যাগ পত্র নিয়ে বেরিয়ে পরলাম।
বড় হলে এই সন্তানই আমাকে দেখে নিবে।

Comment

Comment

   
ই-মেইলঃ mohioshi@outlook.com
ফেসবুকঃ www.facebook.com/mohioshibd
মোবাইলঃ ০১৭৯৯৩১৩০৭৮, ০১৭৯৯৩১৩০৭৯
ঠিকানাঃ ১০/৮, আরামবাগ, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
কপিরাইট ©  মহীয়সী