ছোট বাচ্চাদের রোজা রাখার জন্য উৎসাহ দিন

তাহনিয়া ইসলাম খান: অনেকেই আছেন পরীক্ষা, স্কুল খোলা, কষ্ট হবে, বাচ্চা মানুষ, ইত্যাদি বলে বাচ্চাদের রোজা রাখতে দেন না। ফলে বাচ্চারা রোজা রাখায় অনভ্যস্ত হয়ে যায়। এমনকি বড় বাচ্চারাও আজকাল রোজা রাখে না।আমার মনে আছে, আমরা যখন খুব ছোট ছিলাম, তখন দিনে দুটো রোজা রাখতাম। সকাল থেকে দুপুর, আবার দুপুর থেকে ইফতার পর্যন্ত। রোজা না থাকলেও ইফতারের আগে কোনো কিছু মুখে দেওয়া একদম নিষেধ ছিল। ইফতারে একসাথে সবার সাথে বসে খেতে হবে। তার আগে যতই খিদা লাগুক, খাওয়া যেতো না। আব্বুকে দেখতাম ইফতার শুরু হওয়ার ১৫/২০ মিনিট আগে খাবার সামনে নিয়ে দু’আ করতো। আমরাও বসে দু’আ করতাম।

হুট করে কোনো বাচ্চাই সবগুলো রোজা রাখতে পারবে না। তাই একদম প্রথম রোজা, শুক্রবারের রোজা, ২৭ রমজানের রোজা আর শেষ রোজাটা রাখার জন্য তাদের উৎসাহ দিন। এরপরের বছর গুলোতে রোজার সংখ্যা বাড়াতে থাকুন। এভাবেই রোজা রাখা অভ্যাস হয়ে যাবে।

যেদিন বাচ্চারা রোজা রাখবে, সেদিন তাদের প্রিয় খাবারগুলো ইফতারের মেন্যুতে রাখার চেষ্টা করুন।

রোজা রাখার বিনিময়ে আল্লাহ্‌ তাদের কি দিবেন, সে ব্যাপারে আলোকপাত করুন। আর মাস শেষে আপনি নিজেও তার জন্য একটা সারপ্রাইজ গিফট রাখুন অথবা স্পেশাল ট্রিট দিন। রোজার শুরুতেই সারপ্রাইজ গিফট বা ট্রিটের কথা জানিয়ে রাখুন। সেদিন দেখলাম কয়েকজন মিলে বাচ্চাদের নিয়ে রোজা আসা উপলক্ষে একটা পার্টি করেছে। সেখানে বিভিন্ন ক্রাফট ওয়ার্কের মাধ্যমে বাচ্চাদের রোজা সম্পর্কে ইনফরমেশন দেওয়া হয়েছে। বাচ্চারা হৈ হুল্লোর করে, খাওয়া দাওয়া করে, খেলতে খেলতে রোজার গুরুত্ব জেনে গিয়েছে। ইবাদত যে এনজয় করার ব্যাপার, এই ব্যাপারটা তারা নিজের অজান্তেই শিখে গিয়েছে।

রোজার মাসে ছোট যে কোনো একটি সুরা আপনি নিজেও মুখস্থ করুন, সন্তানকেও মুখস্থ করান। কে আগে মুখস্থ করতে পারে, তার প্রতিযোগিতা করুন। যে কোনো ছোট দু’আও মুখস করতে পারেন। মুখস্থ করে ফেলার জন্য আলাদা গিফট দিন। বাচ্চাকে বুঝাতে হবে যে, গিফট দেওয়াটা লোভ দেখানোর জন্য না, এটা আসলেই তার পাওনা, কারণ সে কষ্ট করে মুখস্থ করেছে, আর আসল গিফট পরকালে আল্লাহ্‌’র কাছ থেকে পাবে।

তারাবির নামাজ পড়ার সময় সন্তানকেও সাথে নিয়ে বসুন।

রোজায় দান সাদাকা বেশী বেশী করুন, বাচ্চাদের সাথ নিয়ে করুন, এ ব্যাপারে বাচ্চাদের সাথে আলাপ আলোচনা করুন। ফলে তারা সেটা আপনার কাছ থেকে দেখে শিখবে।

আগে রোজার সময় খাবার দোকানগুলো বন্ধ থাকতো। আর যেসব খোলা থাকতো সেগুলো ঢেকে ঢুকে খাবার বিক্রি করতো। অনেকের নানা সমস্যা থাকতেই পারে, তাই মানুষজন নিজেকে আড়াল করেই খেতো। কিন্তু ইদানীং রোজা না রেখে অনেকেই সবার সামনেই খাওয়াদাওয়া করে। ফলে রোজার যে ভাবগাম্ভীর্য ব্যাপারটা আছে, সেটা থাকে না। রোজার মাসে আপনার বাচ্চাকে মার্কেটে নিয়ে গিয়ে, খুব প্রয়োজন না থাকলে সবার সামনে খাওয়াবেন না। এটাও যে এক ধরনের শিষ্টাচার সেটা শিখাবেন। তার লজ্জা ভেঙে দিবেন না।

ইফতারের কিছু আগে খাবার সামনে নিয়ে বাচ্চাদের সাথে নিয়ে বসে দূ’আ করুন। দু’আ কবুলের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়কে কাজে লাগান, বাচ্চাদেরকেও কাজে লাগানো শেখান। রোজা রাখুক বা না রাখুক, ইফতারের আগে যেনো কেউ খাবার না খায়, সেটা শেখান।

রোজার আগেই ঈদের কেনাকাটা শেষ করার চেষ্টা করুন। বাচ্চাদের সাথে নিয়ে কাজটা করুন। ফলে রমজান মাসে ইবাদতের সময় বেশী পাবেন। এই ব্যাপারটা বাচ্চাদের বুঝিয়ে দিন। আশা করা যায়, বড় হতে হতে এটাও তাদের অভ্যাসে পরিণত হয়ে যাবে। ছোট বলে ভাববেন না যে তারা বুঝবে না। তারা অনেক কিছুই বুঝে। নিজেকে দিয়ে বিচার করুন। আপনি যখন ছোট ছিলেন, তখন কি অনেক কিছু বুঝেননি?

কেউ দেখুক বা না দেখুক, আল্লাহ্‌ যে সব দেখছেন, আল্লাহ্‌’র কাছে যে কিছুই লুকানো যায় না, এই ব্যাপারটা সবচেয়ে সহজে রোজার সময়েই শেখানো যায়। তাই এই সময়ের সদ্ব্যবহার করুন।

রোজা আসছে। সবার জন্য দু’আ রইলো, যেন আমরা সবাই রোজার মাসটা পেয়ে যাই ও সুন্দর করে এই মাসের ইবাদতগুলো পালন করতে পারি এবং আল্লাহ্‌ যেনো সেসব কবুল করে নেন। আমীন।

Comment

Comment

   
ই-মেইলঃ mohioshi@outlook.com
ফেসবুকঃ www.facebook.com/mohioshibd
মোবাইলঃ ০১৭৯৯৩১৩০৭৮, ০১৭৯৯৩১৩০৭৯
ঠিকানাঃ ১০/৮, আরামবাগ, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
কপিরাইট ©  মহীয়সী