রোজায় অজ্ঞান হওয়া প্রতিরোধে যা করবেন

ডা. শাকিল মাহমুদ: অজ্ঞান হওয়া প্রতিরোধে সেহরিতে সুষম খাবার খান। রোজা আল্লাহতায়ালার হুকুম। এটি পালনের মাধ্যমে দুনিয়া ও আখিরাতের সুখ, শান্তি ও সফলতা পাওয়া যায়। দুনিয়ার সফলতার মধ্যে সুস্থতা বিশাল নিয়ামত। রোজায় সুস্থতার জন্য স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি। সেটি না হলে রোজাতে আমাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে।

 

রোজায় মানুষ অজ্ঞান হয় যে কারণে—

১. সেহরিতে সুষম খাবার না খাওয়া।

২. সেহরিতে কম খাওয়া বা না খাওয়া।

৩. অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস অবস্থায় রোজা রাখা।

৪. বেশি গরম পরিবেশে দীর্ঘ সময় কাজ করা।

৫. রোজা রেখে ক্লান্ত শরীরে দীর্ঘক্ষণ ভিড় আছে এমন জায়গায় থাকা।

৬. রোজায় দীর্ঘক্ষণ পরিশ্রমের ব্যায়াম করলে।

৭. আবেগজনিত হতাশা ও দুশ্চিন্তা।

৮. পানিশূন্যতা হলে।

৯. রক্তচাপ কমে গেলে।

অজ্ঞানের ঠিক আগে শরীরে যা ঘটে—

১. মাথাব্যথা

২. বমি বমি ভাব

৩. গরম গরম অনুভূতির সঙ্গে ঘাম হওয়া

৪. চোখে ঝাপসা দেখা এবং অত্যন্ত ক্লান্ত অনুভব করা।

রোজায় অজ্ঞান প্রতিরোধে যা করবেন—

১. সেহরিতে আদর্শ সুষম খাবার খেতে হবে। এটি বেশিক্ষণ শক্তি জোগাবে, ক্লান্তি ভাব দূর করে শরীরকে ফিট রাখবে। আদর্শ খাবার হিসেবে শাকসবজি, লাল আটার রুটি, বাসমতি চালের ভাত, ডিম, মাছ, মাংস, খেজুর ও দুই গ্লাস পানি খেতে হবে।

২. সেহরিতে কম খেয়ে বা না খেয়ে রোজা রাখা যাবে না। শেষ মুহূর্তে সেহরি খেতে হবে। এতে সারা দিন শরীরে শক্তি থাকবে।

৩. রোজার আগে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ রেখে এবং ইনসুলিনসহ অন্যান্য ওষুধের ডোজ ঠিক করে রোজার সময় খেতে হবে।

৪. বেশি গরমে যেহেতু পানিস্বল্পতা তৈরি হয়ে অজ্ঞান হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তাই এটি প্রতিরোধে মাঝেমধ্যে বিশ্রাম নিয়ে প্রতিদিনের কাজগুলো করুন।

৫. রোজা রেখে ক্লান্ত শরীরে একদিনে দীর্ঘক্ষণ ঈদ শপিং না করে অল্প অল্প করে শপিং শেষ করুন।

লেখক : সহকারী অধ্যাপক, গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজ, সাভার, ঢাকা।

Comment

Comment

   
ই-মেইলঃ mohioshi@outlook.com
ফেসবুকঃ www.facebook.com/mohioshibd
মোবাইলঃ ০১৭৯৯৩১৩০৭৮, ০১৭৯৯৩১৩০৭৯
ঠিকানাঃ ১০/৮, আরামবাগ, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
কপিরাইট ©  মহীয়সী