“সুলতান সুলাইমান ও হুররামের সমাধীতে” পর্ব-২(শেষ পর্ব)

জাহিদুল ইসলাম সরকার:  নামাজের সময় হয়ে গেছে। মসজিদে ভেতর প্রবেশ করে তো থ হয়ে গেছি। বিশাল গম্বুজের নিচে বিরাট মসজিদটি ব্যাপক কারুাকাজে সাজানো।ইজনিজ টাইলস দিয়ে মোড়োনো মসজিদের মেহরাবটিতে মাবের্ল পাথরের সাথে হাতির দাত ও কাঠের কারুকাজের মিশেল রয়েছে। বসানো হয়েছে মাদার অব পার্ল নামক দুর্লভ মুক্তা। প্রকান্ড ঝাড়বাতি ঝুলানো মসজিদের ভেতরে। নামাজ পড়তে গিয়ে কেমন যেন এক বিহব্বলতায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়লাম। সম্রাটের বানানো বিরাট মসজিদের বিশ্ব জাহানের সম্রাট আল্লাহ তায়ালার কাছে সেজদায় গিয়ে মনে হচ্ছে, কি সোনালী দিন গুলো ফেলে এসেছি আমরা। মসজিদগুলো আজো দাড়িয়ে আছে, নেই সে নামাজিরা। নেই সেই সে ইমান। তাইতো মুসলিমরা আজ ভিখারীর জাতি। আমারা আজ নিজেদের জাতি, সমাজ, সভ্যতা ভূলে পাশ্চাত্যের নগ্ন সভ্যতায় মোহগ্রস্থ।পাশ্চাতের চোখে বিশ্ব দেখি। মনে পড়ল মহাকবি আল্লামা ইকবালে কবিতা

বিশ্বে বইছে কুফরীর ঝড়

মুসলিম তোদের নেই যে খবর

আবু লাহাবের নেশার আসর

ভাবিস কি তোর সুখের বাসর?

 নামাজের পর মসজিদের পেছনের বাগানে এলাম। এলাম। বসফরাসের ভেসে আসা বাতাস চোখে মুখে এক ভাললাগার পরশ বুলিয়ে দিল। মসজিদটি আসলে একটি কমপ্লেক্স। মসজিদের পাশে সুলতান দুস্থ মানুষের চিকিৎসার জন্য একটি হাসপাতাল, ক্ষুধার্তদের বিনামূল্যে খাবার দেয়ার জন্য লঙ্গর খানা, হাদিস চর্চার জন্য একটি মাদ্রাসা, একট হাম্মাম খানা ও পযটকদের জন্য সরাইখানা নির্মাণ করেন। সুলতান সুলাইমানের সিরিজে যে হেরেমের সুলতান দেখানো হয়েছে, তার সাথে বাস্তবের কোন সম্পর্ক নাই। সুলতান নিজে যেমন প্রচুর মাদ্রাসা ও মসজিদ বানিয়েছেন, তেমনি নিজেও নিয়মিত নামাজ পড়তেন। ইউরোপীয়ানরা মধ্যযুগে বার বার সুলতানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে পরাজিত হয়েছে। তাদের বংশধর লেখকরা পূর্বপুরুষদের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিচ্ছে সুলতানদের চরিত্র হননের মাধ্যমে।

মসজিদের মিহরাবের সামনের বাগানে শুয়ে আছেন সুলতান সুলাইমান। ছোট্ট একটি সমাধি সৌধ। পাশে হুররাম সুলতানার কবর। তাদের সন্তান রাজকুমারী মিহিরমাহ সুলতান। একটু দুরে মিমার সিনানের সমাধী। মোনাজাতের জন্য দুহাত তুললাম। প্রবল আবেগ আর উচ্ছাস এসো জড়ো হলো মোনাজাতে। অন্তরের অলিন্দ থেকে যেন দোয়া আসছে মহান সুলতানের জন্য। ২০১২ তে গিয়েছিলাম সম্রাট আকবরের সমাধি সৌধ সেক্রেন্দায়। জীবিত থাকতেই জনগনের কোটি কোটি টাকা খরচ করে নিজের সমাধী বানিয়েছে আকবর। ইতিহাসে অমর হওয়ার জন্য। জানি না সেখানে কেউ দোয়া করে কিনা দ্বীন ও এলাহীর সেই পয়গম্বরের জন্য। তবে সুলতান সুলাইমানের শেষে ইচ্ছা ছিল মসজিদের সামনে সমাহিত হওয়ার। যেনও তারও ওসিয়ত ছিল কাজী নজরুলের মতো , মসজিদেরই পাশে আমার কবর দিও ভাই যেন গোরে থেকেও মোয়াজ্জিনের আজান শুনতে পাই। আমার গোরের পাশ দিয়ে ভাই নামাজীরা যাবে পবিত্র সেই পায়ের ধ্বনি এ বান্দা শুনতে পাবে গোর-আজাব থেকে এ গুণাহগার পাইবে রেহাই। হ্যা, সাড়ে চারশ বছর ধরে আজানের ধ্বনিতে মুখরিত সুলতানের সমাধী। দেশ বিদেশের হাজারো পযর্টক প্রতিদিন দোয়া করে যায় তার সামধী গাহে। নিজ কীর্তিতে অমর হয়ে আছে কিংবদন্তীর সুলতান সুলাইমান।

লেখকঃ পিএইচডি শিক্ষার্থী, খোজায়েলী বিশ্ববিদ্যালয়, তুরস্ক।

 

Comment

Comment

   
ই-মেইলঃ mohioshi@outlook.com
ফেসবুকঃ www.facebook.com/mohioshibd
মোবাইলঃ ০১৭৯৯৩১৩০৭৮, ০১৭৯৯৩১৩০৭৯
ঠিকানাঃ ১০/৮, আরামবাগ, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
কপিরাইট ©  মহীয়সী