আপনি কতটুকু আত্ম মর্যাদাশীল? পর্ব-৩ (শেষ পর্ব)

ডা. মো. তাজুল ইসলামঃ  ৯।আপনি ঘৃণা, ক্ষোভ পুষে রাখেন? নিজের ইগোর কারনে অন্যকে ক্ষমা করা কঠিন মনে হয়?
তার মানে আপনার কাছে “সম্পর্কের” চেয়ে  ” ইগো” বড়। এই বড় ইগো আপনার সম্পর্কগুলো নষ্ট করে দিচ্ছে তথাপি “গো” ধরেছেন ভাঙ্গবেন তবু মচকাবেন না ( এক বছর পূর্বের একটি লেখায় লক্ষ করেছি দুএকজন সেখানে মন্তব্য করেছে সবাইকে-সব কিছুকে ক্ষমা করা যায় না। তাদের এই “গো” ধরার মূল কারণ ইগো। ক্ষমা না করে ঐ বিষয় নিয়ে সারাজীবন নিজকে যন্ত্রনার মধ্যে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ? এতে ঐ লোকের কিছু যায় আসে কি? ক্ষমা করতে হবে নিজের মনের শান্তি আনার জন্য, ঐ লোকের প্রতি উদারতা দেখানোর জন্য নয়।)
মনে রাখবেন উচ্চতর আত্ম মর্যাদাসম্পন্ন লোকেরা নিজকে “সঠিক” প্রমাণ করার চেয়ে “সম্পর্ককে” বেশী গুরুত্ব দেয়।

১০। অন্য দিকে আপনি নিজকেও ক্ষমা করতে পারেন না?
আপনি নিজেই নিজের বড় সমালোচক? আপনি তাহলে নিজের ভুল থেকে শেখার চেয়ে “ভুলের ভারে” অবনত হয়ে থাকেন। নিজের প্রতি সদয় হোন, নিজকে ভালোবাসুন। ভুল,অন্যায় অন্যরা করলে যেমন ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন, নিজের বেলায় সেটি করা আরো গুরুত্বপূর্ণ। দৃড় আত্মমর্যাদা সম্পন্ন ব্যক্তিরা নিজকে “আসামী” করে রাখে না, নিজকে খারাপ, মন্দ ভেবে হীনমন্যতায় ভুগে না। তারা নিজকে ভালোবাসে, শ্রদ্ধা করে তাই নিজকে ক্ষমা করে দেয় অনায়াসে।

১১। আবার কোনো ভুল, অন্যায় করলে তার জন্য ” ক্ষমা” চাইতে ইগোতে বাধে? উচ্চ আত্মমর্যাদাবোধ থাকলে ভুল স্বীকার ও তার জন্য ক্ষমা চাইতে কুন্ঠা বোধ থাকার কথা নয়।
এতে ছোট হয়ে যাবো, মাথা নীচু হয়ে যাবে এরকম ভাবনাই বরং হীনমন্যতার লক্ষণ। ভুলের জন্য যেমন নিজকে অপরাধী করে রাখবেন না। তেমনি এর জন্য ক্ষমা চেয়ে নিজকে “ভারমুক্ত” রাখার ক্ষেত্রে কুন্ঠা বোধ করবেন না।

১২। প্রায়ই অন্যদের সমালোচনা, বদনাম করে বেড়ান? সব বিষয়ে সবাইকে সমালোচনা করা মানে আপনি কোন কিছুতে খুশী নন। অন্যদের কাছ থেকে অনুমোদন, প্রশংসা যেমন ভিক্ষা করে বেড়াবেন না; তেমনি অন্যদের সার্বক্ষণিক সমালোচনা করে যাবেন এটিও ঠিক নয়। দুটিই প্রমাণ করে আপনার আত্মশ্রদ্ধার ঘাটতি আছে।
…………

শেষ কথা

লাও জু ( lao tzu) বলেছেন “যখন আপনি নিজের মতন থাকতে তৃপ্তি পাবেন ও অন্যের সঙ্গে তুলনা করবেন না বা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না- তখন দেখবেন সবাই আপনাকে সম্মান করছে।”
আজ থেকে এরকমটি চেষ্টা করুন এবং দেখুন কেমন অনুভব করছেন।
আত্মমর্যাদাবোধ সবল থাকলে আমরা অন্যদের শ্রদ্ধা এমনিতেই পাবো, যা পেতে আমরা তাদের তুষ্ট করার নানান চেষ্টা করি। আবার আত্মমর্যাদাবোধ উচু থাকলে আমরা নিজকে ভালোবাসতে শিখবো, এমনকি যদি তেমনটি অন্যদের কাছ থেকে নাও পেয়ে থাকি।

লেখকঃ অধ্যাপক ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট ঢাকা। 

Comment

Comment

   
ই-মেইলঃ mohioshi@outlook.com
ফেসবুকঃ www.facebook.com/mohioshibd
মোবাইলঃ ০১৭৯৯৩১৩০৭৮, ০১৭৯৯৩১৩০৭৯
ঠিকানাঃ ১০/৮, আরামবাগ, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
কপিরাইট ©  মহীয়সী