অন্তিম চিঠি

মাঈশা মুবাশশ্বেরাঃ

তোমার পত্র হাতে পৌছুলো আজ!
বিরামহীন পড়েই যাচ্ছি,এমন ছোটো করে লিখে কেউ?
কাগজ কলমের স্টক ফুরিয়ে গিয়েছে বুঝি ?
নাকি তোমার বুলিকেও বন্দী করে রেখেছে ওরা?

শিলাবৃষ্টি নেমেছে কদিন হলো
প্রচণ্ড বিদ্যুৎচমকে কেপে কেপে উঠছে তোমার শিশুপুত্র।
উৎসুক চোখে প্রশ্ন ছুড়ছে বারবার,
বাবা কি ফিরবে না আর?

নিষ্পাপ মনের করুণ আকুতি শুনে বিদ্যুৎচমকের আগেই চমকে উঠি
ওর তুলতুলে হাত ছুঁয়ে ছুঁয়ে গল্প শোনাই আমি।
তোমার ফেরারি বাবার এক হুংকারেই বিজলীর চেয়েও বেশি গর্জন হয়,
তোমার আসামী বাবার শব্দের স্রোতে তরঙ্গায়িত হয় অত্যাচারীর মসনদ।
তোমার জনকের ক্ষীণ ডাকে আছড়ে পড়ে বুভুক্ষিত জনতা।
বাতাসের সাথে ঝড়ের গতিতে সব অন্যায় ভাসিয়ে দিয়ে আজ প্রকোষ্ঠ সেলে,
তোমার বাবা,তোমার প্রিয়তম বাবা!

শুকনো মুখে ছেলে আমার কি এক স্বপ্নঘোরে ডুব দেয়।
আমি তন্ময় হয়ে দেখি বিপ্লবী পুত্রের দৃঢ়কায় চোয়াল।
গুমোট হয়ে থাকা মনের মেঘজালে স্বপ্ন বুননের সুর শুনি।
ওর কালো চোখে অথৈজল ছাপিয়ে সংগ্রাম খেলা করে।

তুমি লিখেছ, গরাদের ফাঁকের এক টুকরো আলো তোমার রোজকার বন্ধু এখন,
জ্যোছনা রাতে তোমার এলোকেশীর খোলাচুলের ঘ্রাণ স্মরে যুদ্ধজয়ের গল্প লিখো
কত নগর গড়ার ইতিহাস, দোর্দণ্ডপ্রতাপ ভাঙার ইতিহাস!

গরম উলের টুপি বুনেছি তোমার জন্য
কী তীব্র শীত নেমেছে!
খালি মেঝেতে আধবোজা হয়ে একটু বিশ্রাম নেও এবার।

আকাশে আজ পূর্ণচাঁদ।
এমন রাতে মাদুর পেতে ভালোবাসার গান শোনাতে তুমি
কি অপূর্ব আলোকচ্ছটা উদ্ভাসিত হতো তোমার শরীরজুড়ে
অমন ভালবাসবার শক্তি কি শুধু বিপ্লবীদেরই থাকে?

বন্ধু,তোমাকে এতো মনে পড়ছে কেনো আজ?
আমার বানানো উমের টুপি না পড়ে যমটূপি জড়াবে না গলায়।
তোমাকে হারাতে হবে বলেই কি স্মৃতি গুলো ওভাবে আঁকড়ে ধরেছে
কি নিদারুণ শূন্যতায় নরোম সন্ধ্যার অনুভূতিরা গুলিয়ে যাচ্ছে সব।

ডিমেনশিয়ায় ভুগছি, তুমি ছাড়া স্মৃতিতে কিছু নেই আর।
কষ্ট পেয়োনা তোমার সখীর এমন দিকভ্রান্ত আলাপ শুনে,
জানো তো,বিপ্লবী মনেও আরেক মন থাকে,চোখ থাকে।
সে চোখে আগুন নেভানো তীব্র বৃষ্টিও থাকে!

লেখকঃ শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

Comment

Comment

   
ই-মেইলঃ mohioshi@outlook.com
ফেসবুকঃ www.facebook.com/mohioshibd
মোবাইলঃ ০১৭৯৯৩১৩০৭৮, ০১৭৯৯৩১৩০৭৯
ঠিকানাঃ ১০/৮, আরামবাগ, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
কপিরাইট ©  মহীয়সী