আমি আমার স্ত্রীকে সাহায্য করি না

জুয়াইরা তাবাসসুমঃ
“আমার এক বন্ধু একদিন কফি খেতে আসলো আমার বাসায় ৷ আমরা কফি খেতে খেতে জীবন সম্পর্কে আলাপ আলোচনা করছিলাম ৷ কথার এক ফাঁকে আমি তাকে বললাম যে অপেক্ষা করতে, আমি প্লেটগুলো ধুয়ে শীঘ্রই আসছি ৷ সে আমার দিকে এমনভাবে তাকালো যেন আমি স্পেস রকেট তৈরী করতে যাচ্ছি ৷
তারপর সে আমাকে বললো ‘ আমি খুব আনন্দিত হলাম যে তুমি তোমার স্ত্রী কে ঘরের কাজে সাহায্য করো ৷ আমি আমার স্ত্রী কে সাহায্য করিনা কারন কোন প্রশংসা পাইনা তার কাছ থেকে ৷ গত সপ্তাহে আমি বাসার মেঝে পরিস্কার করলাম কিন্তু আমার স্ত্রী আমাকে ধন্যবাদ পর্যন্ত বলেনি ৷ ‘
আমি ফিরে এসে বসলাম এবং তাকে বললাম ” আমি আমার স্ত্রী কে কাজে সাহায্য করি না ৷ আমার স্ত্রীর আসলে সাহায্যের কোন প্রয়োজন নেই ৷ তার প্রয়োজন একজন অংশীদারের ৷

আমি আমার স্ত্রীকে ঘর পরিষ্কার করতে সাহায্য করিনা কারন যেহেতু আমি নিজেও ঘরে থাকি তাই আমারও ঘর পরিষ্কার করার প্রয়োজন হয় ৷ আমি আমার স্ত্রীকে রান্নার কাজে সাহায্য করি না কারন যেহেতু আমি নিজেও একই সাথে খাবার খাই তাই আমারও রান্না করার প্রয়োজন হয় ৷ আমি আমার স্ত্রীকে খাবার দাবারের পর প্লেটগুলো ধুতে সাহায্য করি না (বরং আমি ধুয়ে ফেলি ) কারন যেহেতু আমি নিজেও খাবারের সময় প্লেটগুলো ব্যবহার করি বলে ৷ আমি আমার স্ত্রূীকে বাচ্চাদের দেখা শোনা তে সাহায্য করি না কারন যেহেতু তারা আমারও সন্তান এবং পিতা হিসেবে আমারও সমান দায় দায়িত্ব রয়েছে ৷ আমি আমার স্ত্রূী কে কাপড় ধোয়া – শুকানো – ভাজ করার ক্ষেত্রে সাহায্য করি না বরং আমি নিজেই লন্ড্রী সংক্রান্ত সব কাজ করি এজন্য যে ময়লা কাপড় গুলো শুধু তার নয় , আমার নিজের এবং আমার বাচ্চাদেরও ৷

আমি ঘরের কাজে সাহায্যকারী নই বরং আমি ঘরের-ই অংশ ৷
তুমি জীবনে একবারের জন্য হলেও ঘর পরিষ্কার করে প্রশংসা এবং ধন্যবাদ পাবার আশা করছো ৷ কেন ? তুমি কবে ঘর পরিষ্কার – কাপড় ধোয়া – সন্তানদের সিংহভাগ দেখাশোনা করা – রান্না করা সহ যাবতীয় অন্যান্য কাজের জন্য তোমার স্ত্রীকে শেষবারের মত ‘ধন্যবাদ’ বলেছো ? খুব সম্ভত পুরুষতান্ত্রিক এ সমাজ তোমাকে শিখিয়েছে যে ঘরের যাবতীয় কাজ তোমার স্ত্রীর ৷
ঘরের যাবতীয় কাজগুলো তোমার স্ত্রীর পাশাপাশি সমানভাবে করো যেন তোমার আচরন তোমার স্ত্রীর প্রতি হয় সত্যিকারের অর্ধাংগের মত , মেহমানের মত নয় যে শুধু আসে খেতে ,ঘুমাতে আর প্রয়োজন পূরন করতে ৷
আমরা আমাদের সন্তানদের কে শেখাই সত্যিকার অর্থে সহযোগী কেমন হয় ৷ একটা সমাজের পরিবর্তন তখনই সম্ভব ৷”

উপরের কথাগুলো একটা ভিডিওর ইংলিশ সাব টাইটেল থেকে করা বাংলা অনুবাদ ৷ কথাগুলো এজন্য ভালো লেগেছে যে আমি নিজেও এরকম করেই বলতাম যে আমার হাসব্যান্ড আমাকে ঘরের কাজে অনেক সাহায্য করে ৷ কিন্তু যে পয়েন্টা আমি কিংবা আমরা ধরতে পারিনি তা হলো হাসব্যান্ডের মর্যাদা ঘরের কাজে সাহায্যকারীর মত কখনই নয় ৷ কারন ঘর যেহেতু দুজনের তাই দায়িত্ব টা সমানই ৷

Comment

Comment

   
ই-মেইলঃ mohioshi@outlook.com
ফেসবুকঃ www.facebook.com/mohioshibd
মোবাইলঃ ০১৭৯৯৩১৩০৭৮, ০১৭৯৯৩১৩০৭৯
ঠিকানাঃ ১০/৮, আরামবাগ, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
কপিরাইট ©  মহীয়সী