পুরুষ পতিতা

শামীম রায়হানঃ

পুরুষ হিসেবে বিবেচনা করলে কতোটা যুক্তি আর নারী যখন বিবেচনা করে তখন কেমন চিন্তা-চেতনায় থাকে তা ব্যাখ্যা করলে নারীপুরুষ দন্দ্ব দেখা দিতে পারে। পুরুষ শারীরিক শক্তিতে বলিয়ান হলেও সহজে হতাশ হতে পারে।যা নারীকুল সহজে হয় না। যেমন ধরুন, হাসান সাহেব গত কিছু দিন ধরে তানিয়ার সাথে একটা সম্পর্কে জড়িয়েছে। হাসান সাহেব না পারছে বউকে ছাড়তে আবার না পারছে তানিয়ার সাথে সম্পর্ক শেষ করতে।
তানিয়ার এক দফা এক দাবি, হাসান বউকে তালাক দেবে, তাকে বিয়ে করবে।হাসান সাহেব পার্কে বসে আছে একা একা মোবাইল বন্ধ করে।তানিয়া হটাৎ এসে হাজির, হাসান সাহেব বলল তানিয়ে তুমি এখানে? তানিয়া হেসে বলল আপনার অফিসে গিয়ে পাইনি, তখন মনে পড়ল মন খারাপ হলে আপনি কোথায় আসতে পারেন? হাসান সাহেব একটু দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে বলল, অনেক ভেবেছি, আর পারছি না, আর রিনাকে তালাক দিতেও যুক্তি দেখাতে পারব না। তানিয়া একটু হেসে উঠল, তারপর চোখ জ্বলজ্বল করে রেগে বলল, আমি কি পতিতা? নাটক বাদদে, হয় রিনাকে তালাক দিবি না হয় পৃথিবীর থেকে সরিয়ে দিয়ে আসবি। কালকেই। পরশু নিউমার্কেট কাজি অফিসে দেখা হবে।হাসান অবাক হয়ে তানিয়ার চলে যাওয়া দেখলো।
নিউমার্কেট থানায় বসে আছে তানিয়া, ওসি তারেখ একটু বিরক্ত হয়ে বলল কি ব্যপার কথা বলেন? না হলে হাজতে রিমান্ডে নিয়ে যাবে তখন বলবেন সব। তানিয়া একটু হেসে বলল একটা পুরুষ পতিতাকে খুন করেছি। হাসান তার নাম, লাশটা পার্কে পড়ে আছে।আমার মতো অনেক মেয়েদের সাথে তার সম্পর্ক, ভালো চাকরি করে, ঘরে সুন্দরী বউ আছে।ওসি বলল আপনি কি সুস্থ মস্তিষ্কে স্বীকার করছেন? তানিয়া হেসে উঠলো আবার, তারপর বলল আমার ব্যাগে ছুরিটা আছে।ওসি বলল চলুন আমাদের সাথে।ওরা পার্কে এলো।
পার্কের পুকুরের দিকে তাকিয়ে তানিয়া বলল পুকুরে লাশ খুঁজুন ।ওসি সাথে সাথে ডুবুরি খবর দিল।অনেক্ষণ খুঁজে পাওয়া গেলে হাসান সাহেবের লাশ।লাশ তুলে পুকুর পাড়ে রাখতেই, তানিয়া দৌড়ে দিয়ে একটা লাথি দিয়ে চিৎকার করে বলল এই সেই পুরুষ পতিতা!! মহিলা পুলিশ এগিয়ে এসে তানিয়াকে সরিয়ে নিয়ে গেল গাড়িতে।

(অনুগল্প, সকল চরিত্র ও স্থান কাল্পনিক)

Comment

Comment

   
ই-মেইলঃ mohioshi@outlook.com
ফেসবুকঃ www.facebook.com/mohioshibd
মোবাইলঃ ০১৭৯৯৩১৩০৭৮, ০১৭৯৯৩১৩০৭৯
ঠিকানাঃ ১০/৮, আরামবাগ, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
কপিরাইট ©  মহীয়সী