“কুরবানী কি এবং কেমন হওয়া উচিৎ”

সালমা সাহলিঃ

আরবিশব্দقربان (কুরবান)থেকে“কুরবানী” শব্দটি এসেছে, যার অর্থ – “নিকটবর্তী হওয়া বা নৈকট্য অর্জন করা।” ইসলামী পরিভাষায় “কুরবানী” বলতে দুইটি ঈদের মধ্যে যে দিনটিতে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশে পশু জবেহ করা হয় সেটাকেই বুঝায়। আরবি ‘উদহিয়া’ ‘কুরবানী’র আরেকটি প্রতিশব্দ। উদহিয়া বা আদহানুন থেকে বহুবচনআদহা(ضদ্বদ আক্ষরটি দ্বদ/যদ উচ্চারণের কারণে ‘আযহা’ও বলা হয়)। এই দিনকে আরবিতে ‘ইয়ামুল আদহা’ বলা হয়। অর্থাৎ নির্দিষ্ট সময়ে, নির্দিষ্ট ভাবে যে পশু আল্লাহু আযিয এর সন্তুষ্টি এবং নৈকট্য অর্জনের আশায় জবেহ করা হয় সেটাই হচ্ছে কুরবানীর দিন, (যেটি আরবি জিলহাজ্জ মাসের দশ তারিখ)। আমরা যাকে ‘ঈদুল আযহা’ বা ‘কুরবানী ঈদ’ বলি।কোরবানির দিনটি হলো বছরের শ্রেষ্ঠ দিন। হাদিসে এসেছে— আব্দুল্লাহ ইবনে কুর্ত (রা:) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- আল্লাহর নিকট দিবস সমূহের মাঝে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ দিন হল কোরবানির দিন, তারপর পরবর্তী তিনদিন (আবু দাউদ-১৮৬৫)।

মানব ইতিহাসের প্রথম থেকেই কুরবানী করার বিধান ছিলো। পবিত্র কুরআনের সুরা আল মায়িদার ২৭ নাম্বার আয়াতে এই বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। আর এই বিধানটি প্রত্যেক জাতির জন্য প্রযোজ্য ছিলো। আল্লাহ সুবাহানু তায়ালা বলেন, “আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্য কুরবানীর এই বিধান করে দিয়েছি” (সুরা- হাজ্জ-৩৪)। যা আমাদের জন্যেও পালনের নির্দেশ এসেছে।“(ভবিষ্যৎ মানুষদের জন্য এ বিধান জারী রেখে) তার স্মরণে আমি অব্যাহত রেখে দিয়েছি” ; (সুরা সাফফাত-১০৮)। অর্থাৎ পশু কুরবানীর বিধানটি ইব্রাহীম(আঃ) এর পরবর্তী মানুষের জন্যেও চালু রাখা হয়েছে।যা পালন করা আমাদের জন্য ওয়াজিব। সুরা কাওসারের দ্বিতীয় নাম্বার আয়াতেআল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাঁর স্মরণ বা ইবাদতের দিক নির্দেশনা দিয়ে বলেন, “অতএব তোমার পালনকর্তার উদ্দেশে তুমি সালাত পড়ো এবং (তাঁর নামে) কুরবানী করো”। এবং অন্য আয়াতে বলেন, “( হে রাসুল সঃ) তুমি বলে দাও, আমার সালাত, আমার কুরবানী, আমার জীবন ও আমার মরণ সবকিছু সারা জাহানের রব্ব মহান আল্লাহর জন্য” সুরা আন’আম-১৬২। নিঃসন্দেহেকুরবানী একটি ইবাদত যার একমাত্র  উদ্দেশ্য আল্লাহর সন্তুষ্টি হওয়াবাঞ্চনীয়। এই রকম প্রত্যেক ইবাদত কবুলের প্রথম শর্ত হল, ইবাদতে ইখলাস থাকা।

আমাদের সমাজের বেশীর ভাগ মানুষই কুরবাণী দেন, তবে সেটি অনেকের জন্য ইবাদত থাকেনা।অর্থাৎ কুরবানীর এই ইবাদতটি খাঁটি ভাবে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে হয় না। তারা এব্যাপারে বিশেষ কোন জ্ঞান বা ধারনাই রাখেন না। ফলে তাদেরকুরবাণী হয়ে উঠে সামাজিক রীতি, গোস্ত খাওয়া-খাওয়ানো, লৌকিকতা এবং আলোচনার বিষয়। সাধারণত যে বিষয় গুলি আমাদের সমাজের কুরবানীকারীদের মাঝে দেখা যায় তা নিম্নরূপঃ

ক) লোক লজ্জাঃ কুরবানী না করলে সমাজের লোকেরা কি বলবে! লোকের সামনে নিজেকে ছোট হতে হবে।

খ) খাওয়ার উদ্দেশ্যঃ আশেপাশে সবাই গোস্ত খাবে। কুরবানী না করলেআমার পরিবার কি খাবে।

গ) দাম্ভিকতাঃ আমি সমাজের উঁচু শ্রেনীর লোক, বড় গরুটি দিয়ে কুরবানী না দিলে আমি অন্যদের সম-মানে চলে যাবো।

ঘ) অন্যের দৃষ্টি আকর্ষণঃ আমার অনেক টাকা হয়েছে সুতরাং এবার বড় গরু/উট দিয়ে কুরবানী দিবো যেন মানুষকে দেখে।

ঙ)আত্ম-প্রচারঃ  হাটের সব চেয়ে দামী পশুটি কিনে সংবাদ হবার সুযোগটি আমি নিবো। সমাজে প্রসিদ্ধ হবার এটা একটা মাধ্যম। ইত্যাদি।

অথচ এই দিনের শিক্ষা হচ্ছে- বিশেষ কিছু ইবাদত করা। এছাড়া,আত্মত্যাগ এবং নিজের আনন্দে, খাদ্যে আত্মীয়-গরীব দুঃখীদের শরীক করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে সচেষ্ট হওয়া।এই দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, মুসলিম জাতীর পিতা হযরাত ইব্রাহিম (আঃ) আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশে কি করে আত্মত্যাগ করেছিলেন। আমাদের উদ্ভুদ্ধ করে নিজেদের আনন্দ, খানা-পিনা আত্মীয় পরিজন এবং গরিব-দুঃখীদের সাথে ভাগ করে নিতে।আল্লাহ তায়ালা বলেন;“আল্লাহর কাছে ঐসবের গোশত এবং রক্ত পৌঁছে না বরং তাঁর কাছে পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া (আল্লাহ ভীরুতা)। এভাবে তিনি এগুলোকে তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন যাতে তোমরা আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা কর এজন্য যে, তিনি তোমাদের পথ-প্রদর্শন করেছেন ; সুতরাং আপনি সুসংবাদ দিন সৎকর্মপরায়ণদেরকে (সুরা হাজ্জ ৩৭)। কুরবানীকারীর উচিত এমন আচরণ করা যেন পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী ও অভাবীদের মনে আনন্দ জাগ্রত হয়। আর এটা অন্য এক ধরনের আনন্দ যা কোরবানির গোশতের পরিমাণ টাকাদিয়ে অর্জিত হয়না।

কুরবানীর দিনটিকে আমাদের কিছু বিশেষ আমল করা অতীব জরুরী।
গোসল করা, ঈদের সালাত পড়া, এর জন্য সুগন্ধি ব্যবহার, সুন্দর পোশাক পরিধান করা। তাকবীর পাঠ করা, কোরবানির পশু জবেহ করা এবং এর গোশত আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী, বন্ধু-বান্ধব ও দরিদ্রদের মাঝে বিতরণ  করা।

১) তাকবীরঃ আরাফার দিনের ফজর থেকে শুরু করে যিলহজ্জ মাসের তেরো তারিখের আসর পর্যন্ত তাকবীর বলা। আল্লাহ তায়ালা বলেন; “আর তোমরা আল্লাহকে স্মরণ কর নির্দিষ্ট দিন সমূহে” (সূরা বাকারা: ২০৩)। তাকবীর বলার নিয়ম-আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়ালিল্লাহিল হামদ।
আল্লাহর মহত্মের ঘোষণা এবং তাঁর ইবাদত ও কৃতজ্ঞতার বর্হি:প্রকাশের উদ্দেশ্যে পুরুষদের জন্য মসজিদে, বাজারে, বাড়িতে ও পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের পরে উচ্চ স্বরে তাকবীর পাঠ করা সুন্নত। আর মহিলারা নিজ অবস্থানে নীচুস্বরে করতে পারেন।

২) কুরবানী করাঃ এই দিনে ঈদের সালাতের পর কুরবানী করা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি ঈদের আগে জবেহ করল, তার উচিত তদস্থলে আরেকটি কুরবানী করা। আর যে এখনো কুরবানী করেনি, তার উচিত এখন কুরবানী করা” (বুখারী ও মুসলিম)। কুরবানী পরবর্তী আরো তিন দিন কুরবাণী করার সময় থাকে। যথা: যেহেতু রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তাশরীকের প্রতিটি দিনই হল কুরবানীর দিন।” (সিলসিলা সহীহাহ-২৪৬৭)

৩) গোস্ত বিতরণঃ কুরবানী করা এবং কুরবানীর গোস্ত বিতরণ করা ভিন্ন দুটি আমল। দুটি আমলের সাওয়াবও আলাদা। আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় পশু জবেহের মাধ্যমেই এই কুরবানীর ওয়াজিব আমলটি আদায় হয়ে যায়। আর এর গোস্ত বন্টনের বিষয়টি তেমন নয়, কিছুটা ঐচ্ছিক। তবে গোস্ত বন্টনের শরীয়তে নির্দেশনা দেয়া আছে। তাহলোসেনিজপরিবার-পরিজনকেনিয়েখাবেএবংপাড়া-প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন, যারাকুরবানীরসামর্থ্যরাখেনাতাদেরওদানকরবে।সহীহমুসলিমেবর্ণিতআছে, রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহুআলাইহিওয়াসাল্লামবলেছেন, … (কুরবানীরগোশত) তোমরাখাও, জমাকরেরাখোএবং (গরীব-অসহায়দেরও) দানকরো।তবেদানেরব্যাপারেকুরবানীকারীরউপরশরীয়তকোনোবাধ্যবাধকতাআরোপকরেনি; বরংপ্রত্যেককেতারঅবস্থাঅনুপাতেদানকরতেবলাহয়েছে।

৪) গোসল করা এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হওয়াঃ  পুরুষদের জন্য সুগন্ধি মাখা ও সকলে সুন্দর পোশাক পড়া।  কুরবানীর গোস্ত ভক্ষণ করা: ঈদুল আজহার দিন রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদগাহ থেকে ফিরে আসার আগে খাবার গ্রহণ করতেন না। বরং তিনি কুরবানী করার পর তার গোস্ত খেতেন। (যাদুল মায়াদ: ১/৪৪১)

৫) ঈদগাহে সালাত পড়াঃ  ঈদগাহে সালাত আদায় করা সুন্নত। কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদগাহে পড়েছেন। তবে বৃষ্টি বা অন্য কোন কারণে মসজিদে পড়া বৈধ।

৬) জামায়াতের সাথে ঈদের সালাত আদায় করা এবং খুতবা শোনাঃ  ইবনে তায়মিয়াসহ অনেক গবেষক আলেমগণের মতে,ঈদের সালাত জামাতে পড়া ওয়াজিব। এই মর্মে হাদিস বর্ণিত হয়েছে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন: “অতএব তোমরা রবের উদ্দেশ্যেই সালাত পড় এবং কুরবানী করো” (সূরা কাউসার: ২)। সুতরাং ওজর ছাড়া তা বাদদেয়া যাবে না।পুরুষদের সাথে নারীরাও ঈদের সালাতে হাজির হবে। এমনকি ঋতুবতী ও কুমারী মেয়েরাও। তবে ঋতুবতী নারী শুধু খুৎবা শুনবে এবং ঈদের সালাত থেকে বিরত থাকবে।

৭) রাস্তা পরিবর্তন করানঃ এক রাস্তা দিয়ে ঈদগাহে যাওয়া এবং অপর রাস্তা দিয়ে ঈদগাহ থেকে প্রত্যাবর্তন মুস্তাহাব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনটি করতেন।

৮) ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করাঃ পরস্পরে শুভেচ্ছা বিনিময় করা সাহাবীদের থেকে প্রমাণিত। সুতরাং আমাদের এই দিনে আত্মীয়, বন্ধু, প্রতিবেশীদের সম্ভাষণ জানানো উচিত।

৯) তাওবাহ , দুয়া ও জিকরঃ এই দিনটি কিছুতেই হেলায় না কাটিয়ে তাওবাহ ইস্তেগফার, তাজবীহ- তাহলীল করা এবং বেশী বেশী দুয়া করা উচিত।

আমরা অনেকে দুটি ঈদেই নানা ধরণের ভুল-ভ্রান্তিতে পতিত হই। এগুলো থেকে আমাদেরকে সতর্ক থাকা আবশ্যক। যেমন-

১) সম্মিলিত তাকবীরঃ একজন তাকবীর পাঠ করবে আর অন্যরাও সমস্বরে তাকবীর পাঠ করবে-এটা ঠিক নয়। (বরং প্রত্যেকেই নিজে নিজে উঁচু আওয়াজে তাকবীর পাঠ করবে-এটাই সুন্নত)ন                                              ২) ঈদ আনন্দের নামে পাপে লিপ্ত হওয়াঃ ঈদের দিনগুলোতে গান-বাজনা শোনা, সিনেমা থিয়েটার দেখা, নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা ইত্যাদি অন্যায় কাজে জড়িয়ে পড়া।

৩) কুরবানীকারী ব্যক্তি চুল-নখ কর্তনঃ কুরবাণী করতে ইচ্ছুক ব্যক্তি কুরবানী করার আগে নখ-চুল ইত্যাদি কাটা ঠিক নয়। কারণ, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এটি নিষেধ করেছেন।

৪) অপচয় করাঃ অপচয় করা হারাম।আল্লাহ তায়ালা বলেন;  “তোমরা খাও এবং পান করো তবে অপচয় করো না। তিনি অপচয় কারীদের ভালোবাসেন না” (সূরা আরাফ: ৩১)। কৃপণতা যেমন ঠিক নয়, তেমনি প্রয়োজনের বেশী কোন কিছুই ভাল নয়। আমাদের দেশের লোকেরা বিশেষ করে কম বয়সি মহিলারা এবং স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া মেয়েরা পোশাক এবং সাজগোজে প্রচুর টাকা খরচ করে। অথচ গরীব লোকদের দু’টাকা বেশী দিতে তাদের অপচয় মনে হয়।

৫) বেশভূষায় অসঙ্গতিঃ পুরুষদের জন্য টাখনুর নিচে কাপড় পরিধান ও দাঁড়ি মুণ্ডন করা হারাম। নারীদের জন্য ঈদগাহে যাওয়া বৈধ, তবে সুগন্ধি ও সৌন্দর্য প্রদর্শন পরিহার করা আবশ্যক। মুসলিম নারীর জন্য এটা শোভনীয় নয় যে, সে আল্লাহর ইবাদত ও সালাতের উদ্দেশ্যে বের হয়ে পর পুরুষের সামনে বেহায়াপনা প্রদর্শনী ও সুগন্ধি ব্যবহারের মাধ্যমে মহান আল্লাহর নাফরমানীতে লিপ্ত হয়।

৬) সামর্থ রেখে কুরবানী না করাঃ অনেকে অসুস্থতাবা ঝামেলার কারণেকুরবানী না করে সে পরিমাণ টাকা সদাকা করে দিতে চান।কূরবানী না করে তার পরিমাণ টাকা সদকা করে দিলে কুরবানী আদায় হবে না।

৭) অন্তরকে কলুষমুক্ত না করাঃ আত্মীয় স্বজনদের সাথে সুসম্পর্ক স্থাপন, তাদের সাথে দেখা-সাক্ষাত করা, পারষ্পারিক রাগ,বিদ্বেষ,হিংসা ও ঘৃণা থেকে অন্তরকে পরিচ্ছন্ন করা। এতীম, গরীব-অসহায় মানুষের প্রতি দয়া করা, তাদেরকে সাহায্য-সহযোগিতার হাত প্রসারিত করা উচিত।                                                                              ৮) পরিবেষ দূষণ করাঃ আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় কুরবানী করলেও অনেকে আমরা পরিবেষ দূষণের কথা ভাবি না। যত্রছত্র ভাবে ময়লা- আবর্জনা রাস্তার পাশে এবং এখানে সেখানে ফেলে দেই। এতে আমরা অন্যের অসুবিধা ও পরিবেষ দূষণের মাধ্যমে পূণ্যের পাশাপাশি নিজের অজান্তে পাপ কাজও করে বসি।কুরবানীর পশু জবেহের পর তার রক্তসহ সকল আবর্জনা নির্দিষ্ট জায়গায় না ফেলা খুবই গর্হিত কাজ। সম্ভব হলে সেগুলি মাটিতে পুঁতে ফেলা উচিত।

পরিশেষে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা,-তিনি যেন আমাদেরকে এমনউত্তম আমল করার তাওফীক দান করেন, যাতে আমরা তাঁর সন্তুষ্টী অর্জন করতে পারি। তিনি যেন আমাদেরকে দীনের জ্ঞান সঠিক দান করেন এবং ঐ সকল লোকদের অন্তর্ভুক্ত করেন যারা এই দিনগুলো তথা জিলহজের মাসের দশ দিনে শুধু তাঁরই সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নেক আমলে সচেষ্ট হয়। আমীন।

 

লেখকঃ  কবি ও সাহিত্যিক,  লস এঞ্জেলেস;   ইউ,এস,এ

Comment

Comment

   
ই-মেইলঃ mohioshi@outlook.com
ফেসবুকঃ www.facebook.com/mohioshibd
মোবাইলঃ ০১৭৯৯৩১৩০৭৮, ০১৭৯৯৩১৩০৭৯
ঠিকানাঃ ১০/৮, আরামবাগ, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
কপিরাইট ©  মহীয়সী