একজন সফল নারী উদ্যোক্তা শাহানাজ চৌধুরী এনির গল্প

আব্দুল্লাহ হুমায়ূনঃ
” ভাই আমি সিংগেল মাদার, প্রচুর পরিশ্রম করে এত দূর আসছি। নিজে স্কুটি চালাই, প্রয়োজনে পিকাপে বসে গাছ নিয়ে আসি। আবার রেডিসনে গিয়েও ক্লাইন্ট মিটিং এটেন্ড করি। মোটকথা আমি কাজ কে সন্মান করি।” ধাক একজন প্রতিষ্ঠিত সফল মানুষের মুখ থেকে পরিচয়ের শুরুতেই এমন অহংকার বিহীন সুন্দর কথা শুনে অবাক না হয়ে পারা যায়না।
.
বলছিলাম আমাদের সবার প্রিয় এনি আপার কথা। দুই দুইটা নার্সারির মালিক তিনি, সারা ঢাকা শহরে যার কাজের সুনাম। তার কাছে প্রতিটি ক্লায়েন্ট সমান গুরুত্বের, প্রতিটি ক্লায়েন্ট কেই ভালো সার্ভিস দেয়ার চেষ্টা করেন। গাছ নিয়ে তার কার্যক্রম এত চমৎকার যে, নিজ চোখে না দেখলে বর্ননায় প্রকাশ করে বোঝানো কঠিন। গাছ দিয়ে তার সাজানো দেখলে সত্যিই অবাক না হয়ে পারা যায়না।
.
( অফিস, টার্গেট, প্রমোশন, দৌড় আর দৌড়, অবশেষে ক্লান্তি। একটু সবুজ সেই ক্লান্তি কিছুটা হলেও উপশম করতে পারে। সারাদিন কম্পিউটার স্কিনে তাকিয়ে থাকতে থাকতে হঠাৎ টেবিলের পাশে যদি দেখেন সবুজ গাছটি আপনার দিকে মিটি মিটি চোখে তাকিয়ে আছে তাহলে নিশ্চয় মন্দ লাগবে না।
আর দেরি কেন আমিতো আছি আপনার পাশে। সব দায়িত্ব আমার। গাছে পানি দেওয়া, যত্ন করা, নষ্ট হলে পাল্টিয়ে দেওয়া। তাহলে আর টেনশন কিসের??? )
___________
Aney’s garden এর উপরের এই বিজ্ঞাপনটি মন ছুঁয়ে যাবে যে কারো।
.
অসম্ভব বলে কিছু নেই। ইচ্ছা, আন্তরিকতা, একাগ্রতা, পরিশ্রম ও সততা থাকলে বিনা পুঁজিতেও সফলতা সম্ভব। খালি হাতে বা একেবারে শূণ্য হাতেও যে সফল হওয়া যায়, তার উজ্জল দৃষ্টান্ত সফল নারী উদ্যোক্তা শাহানাজ চৌধুরী এনি।
.
অন্যদের মতো শখের বশে নয় কিম্বা মাটির ব্যাংকে জমানো পুঁজি নিয়ে নয়। স্বামী, ভাই, আত্মীয় স্বজন বা বন্ধু বান্ধবের সহযোগিতা নিয়েও নয়। একেবারে খালিহাতে এবং সম্পূর্ণ একা লড়াই করে তিনি এখন নারী সমাজের সফল নারী উদ্যোক্তার মডেলে পরিনত হয়েছেন।
.
” ২০১১ সালে স্বামী মারা যান, তখন তার তিনটি বাচ্চাই ছোট। হঠাৎ করে তাদের নিয়ে কোথায় যাবেন, কী করবেন বুঝতে পারছিলেন না। আত্মীয় – স্বজন ছিল। কিন্তুু তাদের কাছে সাহায্যে নিতে যাননি। আসলে কারও দয়ায় বাঁচতে ইচ্ছে করেনি তার। তিনটি সন্তান নিয়ে অথৈ সাগরের মাঝে যখন হাবুডুবু খাচ্ছিলেন, ঠিক তখনোই সিদ্ধান্ত নিলেন স্বনির্ভর হবেন।
.বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এমনিতেই নারীদের একাকী চলাফেরা ও স্বনির্ভর হওয়ার প্রচেষ্টা চ্যালেঞ্জিং, তার উপর তিনি আবার এমন সাহসী নারী – যিনি স্কুটি বা বাইক চালান।

শাহানাজ চৌধুরী এনি। ২০১১তে স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে কঠিন জীবন যুদ্ধের শুরু। একেবারে শুন্য হাতেই শুরু। শুরুতে ছোট খাটো চাকরি, পরে জিয়াউর রহমান কমল নামের একজনের সাথে বাগানের কাজ শুরু করেন। তারপর ওনার কাছ থেকে কাজ শিখে পরে নিজে একাই কাজ শুরু করেন। গাছ ভাড়া দেওয়া, ছাদে বাগান করা। ল্যান্ডস্কেপ ডিজাইন করা। উত্তরা ক্লাবে প্রতিবছর পহেলা বৈশাখ এ মেলা করেন, বনসাই করেন, গাছ দিয়ে ইন্টেরিয়র ডিজাইন করেন। উত্তরা দিয়া বাড়িতে একটা নার্সারি। আর একটা কুর্মিটোলা তে।
.
তিন মেয়ে। বড় মেয়ে আর্কিটেকচার এ ডিপ্লোমা করছে। মেজ মেয়ে আদমজি কলেজে প্রথম বর্ষে এবং ছোট জন ক্লাস সিক্সে।
.
সফলতার স্বীকৃতি হিসেবে নারী উদ্যোক্তা নেটওয়ার্ক ঘোষিত নারী সম্মাননা পুরস্কার-২০১৭ এর জন্য মনোনীত হয়েছেন।
.
শাহানাজ চৌধুরী এনি বাংলাদেশের একজন সফল নারী উদ্যোক্তা। ইচ্ছা, আন্তরিকতা, একাগ্রতা, পরিশ্রম ও সততা তাকে আজ উচ্চ শিখরে তুলে নিয়ে এসেছে।

লেখকঃ প্রতিষ্ঠাতা, নারী উদ্যোক্তা নেটওয়ার্ক, ঢাকা

Comment

Comment

   
ই-মেইলঃ mohioshi@outlook.com
ফেসবুকঃ www.facebook.com/mohioshibd
মোবাইলঃ ০১৭৯৯৩১৩০৭৮, ০১৭৯৯৩১৩০৭৯
ঠিকানাঃ ১০/৮, আরামবাগ, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
কপিরাইট ©  মহীয়সী