অগোছালো কাজের মানুষের প্রতিভাবান ও সৃষ্টিশীল হওয়ার সম্ভাবনা বেশী থাকে

জামান সানিঃ সাইকোলজির একটি বইয়ে একবার পড়েছিলাম, যেকোন কাজ আমরা দুই বার করে থাকি। সেটা যাই হোক না কেন।

প্রথমবার করি মনে মনে।

আর দ্বিতীয়বার করি প্র্যাকটিক্যালী।

আমাদের প্রতিটি কাজ মনে মনে যতটা নিখুঁত এবং বাঁধাহীন হয় , বাস্তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এমনটা হয় না। বাস্তবে আমরা যেই বাঁধা বা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হই সেটা আমাদের মেমোরিতে সেইভ হয় এবং পরেরবার মনে মনে এই ধরনের কাজ করার সময় সেটা মাথায় রেখে আমরা কাজ করি।

আর এই জায়গাটাতে যে যতটা দ্রুত , প্রচলিত সংজ্ঞায় আমরা তাকে ততো কাজের বা কর্মক্ষম ধরে থাকি।

তবে এই জিনিসটার ভালো দিক যেমন আছে , তেমনি ভয়ংকর খারাপ একটা দিকও আছে , আর সেটা হলো এটা চিন্তার স্বাধীনতায় কাঁটাতার জুড়ে দেয়।

ছোট একটি গল্প বলি।

সার্কাসের হাতিদের পায়ে যেই চিকন দড়ি লাগানো থাকে , সেটা কিন্তু তার শক্তির সামনে কিছুই না। কিন্তু এরপরও হাতি কখনও সেই দড়ি ছিড়ে পালানোর চেষ্টা করে না।

কেন???

কারণ হাতিকে একেবারে ছোটবেলায় সার্কাস টিমে আনা হয় এবং তার পায়ে সেই একই চিকন দড়িটি বেঁধে দেয়া হয়। সেই বয়সে তার এই শক্তিটি থাকে না যে সে এই দড়ি ছিড়তে পারবে। তাই সে বারবার এই দড়ি ছিড়ে পালাতে চেষ্টা করে পায়ে ব্যথা পায়। এবং একটা সময় মন থেকে মেনে নেয় যে এই দড়ি ছেড়ার সামর্থ্য তার নেই।

এভাবে আজীবন এটা মেনেই সে আর কখনও তা ছেড়ার চেষ্টা করে না।

কারণ শারীরিকভাবে সে এই কাজটি করার সামর্থ্য রাখলেও , মনে মনে সে এই কাজটি করার সামর্থ্য হারিয়েছে।

মানুষের জীবনটাও এরকমই।

তাই সাইকোলজি বলে, গোছানো ধরনের লোকজন কাজে ভালো হলেও , খুব একটা প্রতিভাবান বা সৃষ্টিশীল হোন না।

অগোছালো লোকদের মস্তিষ্ক থেকে যুগে যুগে জন্ম নিয়েছে সীমান্তের বাইরের ভাবনাগুলো।

লেখকঃ চিকিৎসক ও কলামিস্ট

Comment

Comment

   
ই-মেইলঃ mohioshi@outlook.com
ফেসবুকঃ www.facebook.com/mohioshibd
মোবাইলঃ ০১৭৯৯৩১৩০৭৮, ০১৭৯৯৩১৩০৭৯
ঠিকানাঃ ১০/৮, আরামবাগ, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
কপিরাইট ©  মহীয়সী