বাংলাদেশের ও উন্নত দেশের সিজার অপারেশনে কতটা পার্থক্য !

নাহার লিজঃ

কয়দিন থেকেই ভাবছিলাম , বাংলাদেশের প্রেগনেন্ট মেয়েদের সিজার অপারেশন বিষয়টি নিয়ে কিছু একটা লিখব।সেই সংগে বাইরের দেশের এ বিষয়ক কিছু হালচাল তুলে ধরব।যেটা আমি নিজে সরাসরি প্রত্যক্ষ করেছি।
সেদিন প্রথম আলো পত্রিকার এক জরিপে দেখলাম, বাংলাদেশের শতকরা ৭০% মাতৃ সিজার অপারেশন অপ্রয়োজনীয় ।
আর দেশের বাইরের সিজার অপারেশন ও নরমাল ডেলিভারীর ব্যাপারটা এতোদিন শুধু লোকমুখেই শুনেছি ।এখন বাস্তবেও প্রত্যক্ষ করলাম।
এখানে গর্ভধারিণীর তেমন কোনো বড় ধরনের জটিলতা না থাকলে drরা রোগীর সিজারের নামও নিতে চায় না।আর অন্য কোনো ছোট জটিলতা থাকলেও তারা সেটা অন্যভাবে সারিয়ে তোলার চেষ্টা করে।তারা রোগীকে “সি” সেকশনে পাঠায় একান্ত নিরুপায় হলে।এর আগে নয়।আর তারা নরমাল ডেলিভারী করানোর জন্য কোনো জটিলতা না থাকলে প্রায় ৪৩ সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা করে। যদিও তারা শেষ মুহূর্তে সার্বক্ষণিক চেক-আপ updateএ রাখে রোগিনীকে।
তবে মূল সময় হলো ৪০সপ্তাহ ।আরো extra দু তিন সপ্তাহ পর্যন্ত তারা দেখে।
Bd তে সম্ভবত ৩৮ সপ্তাহের বেশী wait করে না।
পেটে পানি না থাকলে বা শুকিয়ে গেলে bd dr.রা ত আর এক মুহূর্ত দেরী করে না।কিন্তু এখানে দেখলাম, পেটে পানি না থাকলেও কৃত্রিম ভাবে পানির ব্যবস্থা করেও অনেক সময় নরমাল ডেলিভারী করানোর চেষ্টা করা হয়। সেভাবেও ব্যর্থ হলে শেষ পর্যায়ে বাধ্য হয়ে সিজার করায় ।
তাই বিদেশে 90% ই নরমাল delivery হয়।
বাচ্চা নরমাল হওয়ার জন্য তারা রোগীকে প্রচুর হাঁটতে বলে।আর নানা ধরনের ব্যায়াম শিখিয়ে দেয়।
আর এখানে সিজার অপারেশনের হাতও ভালো।
এখানে রোগীনীকে কসমেটিক আর সিলাই দুটোই করে।
ফলে রোগীর আর তেমন কোনো risk থাকে না।
আপারেশনের পরও তারা রোগীকে প্রচুর হাঁটতে বলে।
এটা রোগীর পেটের জন্য অনেক ভালো হয় ।
অথচ bd তে অপারেশনের পরই রোগীর পেটে বড় একটা বেল্ট পরিয়ে রাখে আর সেলাই কাঁচা থাকা অবস্হায় বেশী হাঁটতে নিষেধ করে। ফলে অনেক রোগী সিলাইয়ে ভীষণ ব্যথা পায় ।আর শরীরে বাড়তি মেদ জমে। এখানে অপারেশনের পরও তেমন কোনো এন্টিবায়টিক দেওয়া হয় না খেতে। দিলেও অল্প ।শুধু ভিটামিন দেয় কিছু। এমনিতেও বিদেশের dr.রা অতি দদরকারের বাইরে তেমন কোনো ওষুধ দেয় না।
ব্যাপারগুলো আমাদের দেশের ঠিক বিপরীত।
আর আমাদের দেশের অধিকাংশ মেয়েরাও এখন নরমাল delivery এর চেয়ে সিজার অপারেশন করাটাকেই বেশী credit ও fashion মনে করে। নরমাল deliveryএর একদিনের প্রসব ব্যথার কষ্ট তারা সহ্য করতে নারাজ।অনেকে আবার ভীষণ ভয়ও পায়।
আগের যুগে ত আমাদের নানী দাদিদের সবার নরমাল প্রসব হতো।
আর bd dr.রা ত বেশীর ভাগই সিজার বানিজ্য করে।
রোগীকে তারা গর্ভাবস্তায় কখনও তেমন হাঁটতে বলে না ।আর বেশী পানি খেতে বলে না,যাতে রোগীর নরমাল প্রসব ব্যথা না ওঠে।অনেক রোগীর ত ইনজেকশন দিয়েও প্রসব ব্যথা ওঠানো যায় না।
ফলে দেশে যেসব মেয়েরা নরমালে বাচ্চা নিতে চায়, তাদেরও বাধ্য হয়ে সিজার করানো ছাড়া উপায় থাকে না।আর সিজারে dr.রা প্রাইভেটে অনেক মোটা অংকের টাকা নেয়।কিন্তু বিদেশেতো চিকিৎসা free.এমনকি সিজারেও টাকা লাগে না।

Comment

Comment

   
ই-মেইলঃ mohioshi@outlook.com
ফেসবুকঃ www.facebook.com/mohioshibd
মোবাইলঃ ০১৭৯৯৩১৩০৭৮, ০১৭৯৯৩১৩০৭৯
ঠিকানাঃ ১০/৮, আরামবাগ, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
কপিরাইট ©  মহীয়সী