সবচেয়ে প্রশান্তির কাজ হচ্ছে ভালোবাসা

হাবীবাহ নাসরীনঃ

একটি মেয়ে আমাকে মেসেজে জানিয়েছে, কোনো এক ছেলে তাকে বলেছে, সেই ছেলেটির সামনে দাঁড়ানোর যোগ্যতাও নাকি সেই মেয়েটির নেই। মেয়েটি আমাকে জিজ্ঞেস করেছে, আপু, নিজের জ্ঞান নিয়ে যে অহংকার করে, সে কি আসলেই জ্ঞানী?

আমি তাকে উত্তর দিয়েছি, না। সে জ্ঞানী নয়, সে অভিশপ্ত, মূর্খ। পৃথিবীতে অনেক মানুষ, সবাইকে সবার প্রয়োজন নেই। দাঁড়িও না তার সামনে। কেউ একজন তখনই গুরুত্বপূর্ণ, যখন তুমি তাকে গুরুত্ব দিচ্ছ। অন্যের কারণে নিজেকে কষ্ট দেয়ার কোনো মানে নেই।

এখন, কথা হলো, বুঝলাম, আপনি সত্যিই অনেক যোগ্যতাসম্পন্ন। সত্যিই আরেকজনের যোগ্যতা নেই আপনার সামনে দাঁড়ানোর। কিন্তু এই কথাটি আপনি তাকে কীভাবে বলেন? আমি যখন নতুন একটি পোশাক পরি, নিজেকে দেখতে সুন্দর লাগে, পরক্ষণেই আমার মনে পড়ে, এই পোশাকটি আগামীকাল গায়ে দেয়ার সৌভাগ্য আমার নাও থাকতে পারে। এই যে প্রতিদিন রাস্তা পার হই, কে জানে, রঙিন পোশাকটি গায়েই আমি বাসচাপা পড়ে মরে যাই কি না! তবে তো আগামীকালই আমাকে সাদা কাফন পরে শুয়ে থাকতে হবে!

একজন পুরুষকে চিনি। যিনি নিজের অর্থবিত্তের অহংকারে তার মধ্যবিত্ত পরিবারের প্রেমিকাকে ফিরিয়ে দিয়েছিলো, অপমান করেছিল। মেয়েটি কেঁদেছিল খুব। কোনো অভিশাপ দেয়নি। শুধু বলেছিল ওর ভালো চাই। কিন্তু আল্লাহ্ ন্যায়বিচারক। তিনি কাউকে বঞ্চিত করেন না। ছেলেটির শেষ পর্যন্ত ভালো হয়নি। সে আজ নিঃস্ব, রিক্ত, মৃত্যুপথযাত্রী। মাত্র চার-পাঁচ বছরেই পুরো চিত্র বদলে গেছে।

বছর চারেক আগে আমি এক আপুর সঙ্গে সাবলেট থাকতাম। আপুর স্বামী বেশ টাকাপয়সা ইনকাম করতো। একবার বাসার কাছেই কী এক মেলা চলছিল। আপু সেখান থেকে ঘুরে এলো। আমি বললাম, আমাকেও নিয়ে যেতেন। আপু বললেন, তুমি যাও না! তোমাকে তো ঢুকতেই দেবে না ওখানে। ওখানে সব ফরেনাররা আসে। বড়লোকের কারবার। চারশ টাকা টিকিটের দাম, তুমি কিনতে পারবা?

অপমানে সেদিন চোখে পানি এসেছিল। তবু তাকে কিছু বলিনি। এখন, এই সময়ে এসে বিদেশীদের (যারা তাদের গবেষণার প্রয়োজনে এদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফল নারীদের সঙ্গে কথা বলতে চায়) সঙ্গে কথা বলার জন্য বিভিন্ন সংস্থা থেকে আমাকে ইনভাইটেশন জানানো হয়। মিটিং শেষে বের হওয়ার সময় খামের ভেতর চকচকে নোট দিয়ে দেয়, আমার সময়ের দাম! আমার তখন সেই আপুটার কথা মনে পড়ে।

যে ছেলেটা আমার ছবি দিয়ে ফেইক আইডি খুলে আমাকে অপদাস্থ করার চেষ্টা করেছিল, তাকেই একটি কাজ পাইয়ে দেয়ার জন্য আমি সুপারিশ করি। যে মেয়েটি আমাকে গালাগালি দিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছিল, তার কদর্য কার্যকলাপের প্রমাণাদি পেয়েও আমি তাকে কিছুই বলিনি, ক্ষমা করে দিয়েছি।

মানুষের কেন সৃষ্টি হয়েছে জানেন? মানুষের সৃষ্টি হয়েছে স্রষ্টা এবং তার সৃষ্টিকে ভালোবাসার জন্য। ভালোবাসতে তো কোনো কষ্ট হয় না। সবচেয়ে প্রশান্তির কাজ হচ্ছে ভালোবাসা। একজনকে অপমান করে দেখুন, মানসিকভাবে আপনি কিছুতেই শান্তি পাবেন না। ভালোবেসে দেখুন, আপনার চেয়ে সুখী আর কেউ হবে না। কেউ যদি ভুল করে আর আপনি জানেন যে কোনটা ঠিক, তবে তার ভুলটি ধরিয়ে দিন। সমাধানটি বলে দিন, এর বেশি কিছু নয়। ভালোবাসতে যদি নাই পারেন, অন্তত কাউকে অপমান করা থেকে বিরত থাকুন। মানুষের সঙ্গে হেসে কথা বলুন। বিনয়ী হোন। বিনয়ের বিকল্প নেই।

Comment

Comment

   
ই-মেইলঃ mohioshi@outlook.com
ফেসবুকঃ www.facebook.com/mohioshibd
মোবাইলঃ ০১৭৯৯৩১৩০৭৮, ০১৭৯৯৩১৩০৭৯
ঠিকানাঃ ১০/৮, আরামবাগ, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
কপিরাইট ©  মহীয়সী