স্বাতীর চিলেকোঠা – ১

সানজিদা সিদ্দিকী কথা: স্বাতী ঠিক করেছে আজ কিছুই করবে না। আজ স্বাতীর ইচ্ছা দিবস। স্বাতীদের বাড়িটা দোতালা। পুরানো ধাঁচের বাড়ি। দোতালা বাড়ির অর্ধেক ছাদ আর অর্ধেক বাড়ি। স্বাতীর বাবার গাছপালার শখ। ছাদ ভর্তি রাজ্যের গাছ এনে ভর্তি করে রেখেছে। স্বাতী এমনিতে নিচ তলায় বাবা মার পাশের ঘরেই ঘুমায় কিন্তু দোতালায় ছাদের পাশে ওর একটা ঘর আছে। ঘরভর্তি বই। একটা কফি মেকার কিনে নিয়েছে ও। যখন ওর মন খুব খারাপ থাকে তখন স্বাতী ওর চিলেকোঠার ঘরে আসে। কফির গন্ধে স্বাতীর মন ভালো হয়ে যায়। স্বাতীর আজ মন খারাপ। ও আজকে ওর মন খারাপ ঘরের ডানদিকে যে বিরাট বড় জানালা তার পাশে রকিং চেয়ারে বসে আছে। এখান থেকে ওর বাবা রায়হান চৌধুরীর বিশাল বাগানের প্রায় পুরোটাই দেখা যায়। এই জানালাটায় কোন গ্রীল নাই।

(এক্রেলিকে আঁকা)

 

স্বাতীর মা রাহেলা বেগম মাত্র স্বাতীকে একটা পিরিচে করে সিদ্ধ ডিম দিয়ে গেছে। ডিমটা মাঝ বরাবর আড়াআড়ি কাটা। কুসুম গলে পড়ছে।উপরে গোলমরিচ আর বিট লবন ছিটানো। এমনিতে স্বাতীর এই জিনিস প্রিয় কিন্তু আজ ওর রাগে গা কাঁপছে।
‘মা, যাবার সময় দরজা লাগিয়ে যেও।আর উপরে যাতে কেও না আসে’।
স্বাতীর মা রাহেলা বেগম চিন্তিত ভংগিতে মেয়ের দিকে তাকিয়ে বের হয়ে গেলেন। উনার মেয়েকে উনি ভালোই চিনে। নিশ্চয়ই ভয়ংকর কিছু ঘটেছে। এখন ওকে হাজার জিজ্ঞেস করেও কোন লাভ নাই।
স্বাতী আকাশ দেখছে। বৃষ্টি আসবে মনে হয়। আজ ও বৃষ্টিতে ভিজবে। স্বাতী অপেক্ষা করছে।
ঝুম শ্রাবনের অপেক্ষা…..

Comment

Comment

   
ই-মেইলঃ mohioshi@outlook.com
ফেসবুকঃ www.facebook.com/mohioshibd
মোবাইলঃ ০১৭৯৯৩১৩০৭৮, ০১৭৯৯৩১৩০৭৯
ঠিকানাঃ ১০/৮, আরামবাগ, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
কপিরাইট ©  মহীয়সী