পাট বাংলার সোনালী অাঁশ

পাট বাংলার সোনালী অাঁশ
রওনক নূর

“পাট‌কে সোনা‌লি অাঁশ বলা হয়” সেই ছোট্ট বেলা‌তে প‌ড়ে‌ছিলাম। যশোর থে‌কে ঢাকা যাবার সময় ফ‌রিদপু‌রের ভ্যান ভরা পাট দে‌খে অাম্মুর কা‌ছে শু‌নে‌ছিলাম যে, পাটগু‌লো অামার পুতু‌লের চু‌লের মত সোনা‌লি কেন? অাম্মু সেই বাচ্চা অা‌মি‌কে ব‌লে‌ছি‌লো এজন্যই পাট‌কে সোনা‌লি অাঁশ ব‌লে। এরপর থে‌কে অা‌মি ভাবতাম শুধুমাত্র ফ‌রিদপু‌রের পাট সোনা‌লি ব‌লেই পাট‌তে সোনা‌লি অাঁশ ব‌লে। ত‌বে এখন বু‌ঝি পাট স‌ত্যই একসময় এ‌দে‌শের সোনা ছি‌লো।

এবার ঈ‌দে ঢাকা থে‌কে বাড়ী যাবার প‌থে দেখলাম লটে ল‌টে পাট সাজা‌নো অা‌ছে ভ্যানগাড়ী‌তে। সোনা‌লি পা‌টের অাঁশগু‌লো ম‌নে ক‌রি‌য়ে দি‌লো ছোট‌বেলার পুতুল‌ মে‌য়ের মাথার সোনালী চু‌লের কথা। পা‌টের সা‌থে বাঙালীর কোথায় যেন একটা টান র‌য়ে‌ছে, বি‌নি সুতায় বাঁধা সে টান।

চট, কা‌র্পেট, ব্যাগ, পোশাক, সুতা, শো‌পিচ সহ নানা রকম সামগ্রী তৈ‌রি হয় পাট দি‌য়ে। পা‌টের তৈ‌রি পোশাক এখনও বেশ জন‌প্রিয় এ দে‌শে। নানা রকম পা‌টের সৌ‌খিন সামগ্রী সক‌লেরই মন কা‌ড়ে। পাটকা‌ঠি দি‌য়ে গ্রা‌মে জ্বালানী সমস্যা দুর করা হয়। তাছাড়া গ্রা‌মে ঘ‌রের বেড়া অথবা বাড়ীর প্রাচীর তৈরী‌তে অাজও পাটকা‌ঠি জন‌প্রিয়। পাটশাক এক‌টি পু‌ষ্টিকর খাবার এবং সুস্বাদুও ব‌টে।

পাট কর‌কোরাস শ্রেনীর গা‌ছের জাত। একসময় পাটকে কেন্দ্র ক‌রে এ‌দে‌শে অ‌নেক বড় শিল্প গ‌ড়ে উ‌ঠে। ১৯৫১ খ্রীস্টা‌ব্দে বাংলা‌দে‌শের নারায়নগন্জ শহ‌রে ২৯৭ একর জ‌মির উপর প্র‌তি‌ষ্টিত হয় পৃ‌থিবীর বৃহত্তম পাটকল অাদমজী জুট। তখনকার সম‌য়ে অাদমজী‌কে বলা হ‌তো প্রা‌চ্যের ডা‌ন্ডি।

অাদমজী পৃ‌থিবীর অন্যতম জুট মিল।‌ এ‌টি এ‌শিয়া মহা‌দে‌শের সর্ববৃহৎ কারখানা ছি‌লো। নিজ দে‌শের চা‌হিদা মি‌টি‌য়ে অাদমজী জুট মিল দে‌শের বাই‌রে পাটজাত দ্রব্য রপ্তা‌নি কর‌তে থা‌কে। ‌চিন,ভারত, অা‌মে‌রিকা, থাইল্যান্ড সহ ইউ‌রো‌পের বি‌ভিন্ন দে‌শে পাট রপ্তানী করা হতো। অা‌স্তে অা‌স্তে পাট দে‌শের সোনালী অাঁশ হ‌য়ে উঠ‌লো।

হঠাৎ ক‌রেই ১৯৮০ সা‌লে পাট শি‌ল্পে প্রচুর ধস নাম‌লো। প‌লি‌থিন অার প্লা‌ষ্টি‌কের অা‌বির্ভাব পাট শিল্প‌কে পি‌ছি‌য়ে দি‌তে থা‌কে। অব‌শে‌ষে ২০০২ সা‌লের ২২ শে জুন অাদমজী পাটকল বন্ধ হ‌য়ে যায়। পা‌টের সা‌থে যুক্ত চাষী এবং শ্র‌মিকরা অ‌নেক বে‌শি ক্ষ‌তিগ্রস্থ হয়। অন্য‌দি‌কে প‌লি‌থি‌নের ব্যবহার বে‌ড়ে যাওয়ায় প্রকৃ‌তিও ক্ষ‌তিগ্রস্থ হয়।

২০১৩ সা‌লের ১৩ ই অাগষ্ট ইং তা‌রি‌খে বাংলা‌দে‌শের পাট গ‌বেষনা ইন‌ষ্টি‌টিউট এর বিজ্ঞা‌নি ড: মকসুদুল অাল‌মের নেতৃ‌ত্বে দে‌শি পা‌টের জীবন রহস্য উ‌ন্মোচন ক‌রে গোটা বিশ্ব‌কে তাক লা‌গি‌য়ে দেয়।

পাট শি‌ল্পের উন্নয়ন হ‌লে এ‌দে‌শে প্রচুর মানু‌ষের কর্মসংস্থান হ‌বে। পাটশি‌ল্পে বি‌শেষ ভা‌বে নজরদারী কর‌লে এক‌দিন পাট অাবার বাংলা‌দে‌শের সোনালী অাঁ‌শে রুপ নি‌বে ইনশাঅাল্লাহ্।

Comment

Comment

   
ই-মেইলঃ mohioshi@outlook.com
ফেসবুকঃ www.facebook.com/mohioshibd
মোবাইলঃ ০১৭৯৯৩১৩০৭৮, ০১৭৯৯৩১৩০৭৯
ঠিকানাঃ ১০/৮, আরামবাগ, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
কপিরাইট ©  মহীয়সী