সেক্স কোন লুকোচুরি খেলা নয়!

ডাঃ নাসিমুন নাহারঃ 
সুস্থ সুন্দর স্বাভাবিক জীবনের জন্য নিজেকে জানতে হবে এবং সবাইকে সচেতন করতে হবে।ইন্টেলিজেন্স, ইন্টেলেকচুয়াল, ইন্টেলেকচুয়ালিটির প্রতি সবসময়ই আমার প্রবল আকর্ষণ কাজ করে।সোজা বাংলায় বললে পন্ডিত,বই পড়ুয়া, আঁতেল টাইপ ছেলে ভীষনভাবে টানে আমায়  ।আগে জানতাম না কি এর কারন …….কেন আর সবার যখন মডেল/ ফিল্মের হিরো/সিক্স প্যাক/খেলোয়াড় ইত্যাদি ভালো লাগে, সবাই যাদের প্রতি আর্কষন ফীল করে আমার কেন তাকে ল্যাবদু গেবদু  মনে হয় !! বেশীরভাগ মেয়ে যার জন্য পাগল হয় আমার কেন তাকে মদন কটকটি  মনে হয় !! কেন বাস্তবজীবনের পড়ুয়া ছেলেটিকেই অনেক বেশি attractive লাগে?

কেনু কেনু কেনুউউউ ??? এখন খানিকটা জেনেছি।

স্যাপিওসেক্সুয়ালিটি(Sapiosexuality) এক ধরণের এট্রাকশন- যেটা শরীরকেন্দ্রিক না বরং কারো বিবেক,বুদ্ধি,চিন্তা, শিক্ষা, চেতনা,রুচি, আচরন, ম্যাচিউরিটি, জীবনবোধ দেখে জন্মায়।এমনকি সামনাসামনি না দেখে,ডেটিং সেটিং, গিফটি আদান প্রদান না করেও  গভীরভাবে প্রেমে পড়া সম্ভব এবংসেই প্রেমের আবেদন আবার অদ্ভুতভাবে দারুন শরীরীও বটে!

কারো চেহারা,বাহ্যিক গঠন, গায়ের রং,ব্যাংক ব্যালেন্স, বংশ দেখে যে আকাঙ্ক্ষা জন্মে তার স্থায়ীত্ব বড়জোর মোহ থাকা সময়টুকু পর্যন্ত।মোহ কেটে গেলে আর্কষনও কেটে যায়।

——এই বিশেষ সেক্সুয়াল টাইপটিকে মনস্তাত্ত্বিকরা চিহ্নিত করেছেন ‘স্যাপিওসেক্সুয়ালিটি’ হিসেবে।

ভার্চুয়ালি ২০০২ সালে জনৈক ব্লগার প্রথম Sapiosexuality টার্মটি ব্যবহার করেন।
২০১৪ তে বিখ্যাত ডেটিং সাইট ‘ওকেকিউপিড’ স্যাপিওসেক্সুয়ালদের জন্য আলাদা ক্যাটিগরি ওপেন করে এই সাইটে।
গেল অক্টোবরে স্যাপিওসেক্সুয়ালদের জন্য লঞ্চ হল ডেটিং অ্যাপ । ‘স্যাপিও ইন্টালিজেন্ট ডেটিং অ্যাপ’ নিয়ে এই মুহূর্তে হইচই পড়ে গিয়েছে যৌনতা-সংক্রান্ত সমাজবিদ্যাচর্চাকারীদের মধ্যে।

সোশ্যাল নেটওয়ার্ক সাইটগুলোতে দিনদিন বাড়ছে বুদ্ধিদীপ্ত পোস্টের প্রতি আকর্ষণ। অপজিট সেক্সের মানুষ খুঁজে নিচ্ছেন আকর্ষণের ব্যক্তিকে শুধুমাত্র পোস্ট বা স্ট্যাটাসে বুদ্ধির ছাপ দেখে।এখন আর প্রোফাইল পিকচারে তাদের মন ভরছে না !! নতুন কি স্ট্যাটাস থাকছে পছন্দের মানুষের আইডিতে শুধুমাত্র তা চেক করতেই বড় সংখ্যক কিছু মানুষ সোস্যাল সাইটগুলোতে ঢু মারছে নিয়মিত (seriously I’m surprised )

সমাজবিজ্ঞানীরা প্রশ্ন তুলছেন, এ থেকে আবার নতুন শ্রেণিবিভাজন জন্ম নেবে না তো?! স্যাপিওসেক্সুয়ালদের বক্তব্য- এতকাল তো শরীরীদের দাপট সহ্য করেছেন তারা, এবার তাদের সময় !

যুগ যুগ ধরে পৃথিবীতে যে কটি প্রবৃত্তি মানুষকে তার ইচ্ছায়/অনিচ্ছায় প্রবলভাবে দৌঁড়ের উপরে রেখছে যৌনাকাঙ্ক্ষা এর মধ্যে অন্যতম।
যদিও আমাদের দেশে এই অতি স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক প্রবৃত্তিটিকে নিয়ে এত বেশি hide and secrecy খেলা হয় যে মনে হয় sex একটা গোপন পাপাচার সমৃদ্ধ কোন খারাপ কাজ !!
ফলশ্রুতিতে বিকৃত যৌনতার অধিকারী ব্যক্তিদের সংখ্যা ভয়াবহ রকমের বেশি আমাদের সমাজে। বিকৃত যৌনাচার যেন রোজকার রুটিন ওয়ার্ক হয়ে উঠেছে এই লুকোচুরি খেলা সমাজে। এই লুকোচুরি খেলা শেষ হওয়ার একান্ত প্রয়োজন। এ বিষয়গুলো নিয়ে প্রকাশ্যে ব্যাপক যুক্তি সঙ্গত প্রচার এবং সচেতনতা ছড়িয়ে প্রচলিত ট্যাবুগুলো ভাঙা প্রয়োজন।

উপযুক্ত বয়স অনুযায়ী বিজ্ঞান সম্মত sex education এখন সময়ের দাবি মাত্র।এতে করে আমাদের দেশের মানুষ পর্ণ দেখে ফ্যান্টাসিময় যৌনতা শিখবে না,বুঝবে পর্ন শুধুই ফিল্ম, রিয়েল না, চটিজাতীয় বই থেকে অপজ্ঞান লাভ করবে না, পাড়াতো বড় ভাই বন্ধু,কলিকাতা হারবাল টাইপ জায়গা থেকে ভুল তথ্য শিখবে না।

প্রিয় পাঠক,
একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ হিসেবে Biological need কে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে আমি মনে করি।তবে তা অবশ্যই সুস্থ সুন্দর way তে, বিকৃত অনাচারে না।
আমি কখনোই বলছি না আপনি যাবতীয় সামাজিক, সাংস্কৃতিক,ধর্মীয় রীতিনীতিকে বৃদ্ধা আঙ্গুলী দেখিয়ে অনাচার অবাধ অনিয়ন্ত্রিত যাচ্ছেতাই জীবন যাপন শুরু করুন। ব্যাপারটা এমন না যে সবাইকেই Sapiosexual হতে হবে।যে যেমন সে তেমনই থাক।তবে সুস্থ sex concept নিয়ে থাকুক।বিকৃত যৌনাচার নিয়ে নয়।

দয়া করে ভুল ব্যাখ্যা করবেন না লেখাটির।
নিজে সঠিক তথ্য জানুন।আশেপাশের সবাইকে সচেতন করুন।
সুস্থ সুন্দর থাকুন শরীরে এবং মনে।
.

Comment

Comment

   
ই-মেইলঃ mohioshi@outlook.com
ফেসবুকঃ www.facebook.com/mohioshibd
মোবাইলঃ ০১৭৯৯৩১৩০৭৮, ০১৭৯৯৩১৩০৭৯
ঠিকানাঃ ১০/৮, আরামবাগ, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
কপিরাইট ©  মহীয়সী