একান্ত সাক্ষাৎকারে লেখক শামীমা নাসরিন ।


সব লেখকের কাছেই প্রথম বই মানেই আলাদা অনুভূতি ।দশ মাস সন্তান গর্ভে ধারন করার পর যে ত্যাগ আর সুখ থাকে একজন লেখকের কাছে তাঁর সৃষ্টি বই ও সে একই অনুভূতির প্রেরনা দেয় ।জ্ঞান বিজ্ঞানে পৃথিবীর সাথে বাংলাদেশ ও এগিয়ে যাচ্ছে । সব কিছুর সাথে প্রকাশনা জগতে ও এসেছে অনেক পরিবর্তন । অনেক অনেক নতুন নতুন বই আর লেখক আসছে সৃজনশীল জগতে । সবার অভিজ্ঞতা এবং জ্ঞান এক নয়।প্রকাশনায় সবার স্বপ্ন আর একাগ্রতা ও এক নয়। এই বছর যাদের প্রথম বই প্রকাশ হয়েছে তাদের মধ্যে লেখক শামীমা নাসরিন ও একজন।২০১৭ সালের বইমেলায় তাঁর রচিত প্রথম বই ‘জলতরঙ্গ’ প্রকাশ হয় এডর্ন পাবলিকেশন্সের অংগ সংগঠন অক্ষরসংস্কৃতি থেকে। আজকে মহীয়সীতে তিনি বই লেখা এবং অভিজ্ঞতা নিয়ে তাঁর একান্ত কিছু অনুভূতি ব্যক্ত করেছেন ।

১।মহিয়সীঃ কেমন আছেন?
লেখকঃ আলহামদুলিল্লাহ ভালো।

২।মহিয়সীঃএই বইমেলায় আপনার প্রথম উপন্যাস প্রকাশিত হলো। কেমন লেগেছে নিজেকে লেখক হিসেবে দেখতে?

লেখকঃ আমি মূলত একটা স্মৃতিচারনমূলক একটা উপন্যাস লিখেছি মাত্র।সেই অর্থে নিজেকে লেখক বলে দাবী করতে পারছিনা।লেখকদের নিজস্ব সৃজনশীলতা থাকতে হয়। আমার এই উপন্যাসটিতে সেই অর্থে আমার নিজস্ব সৃষ্টি কিছুই ছিলনা।আমি এই পৃথিবীর সর্ব্বময় যিনি তার সৃষ্টির একটা অংশকে সাজিয়ে বই আকারে রূপ দেয়ার চেষ্টা করেছি মাত্র।

৩।মহিয়সীঃ বইটি কি বিষয়ে লেখা?
লেখকঃ ঐ যে বললাম স্মৃতিচারন.।

৪।মহিয়সীঃ আপনার লেখা বইটি বইমেলায় কেমন সাড়া ফেলেছে?

লেখকঃ সাধারনত এসব বই খুব একটা তেমন সাড়া ফেলেনা যতক্ষন না লেখক বিখ্যাত হয়।যেমন রবিঠাকুর, নজরুল বিদেশে সেক্সপীয়ার, টলস্টয় আমাদের দেশের ডঃ হুমায়ুন আহমেদ স্যার উনাদের জীবন কাহিনি সম্পর্কে সবার একটা কৌতুহল থাকে।উনাদের স্মৃতিচারন মূলক লেখা পাঠক সমাদৃত ও হয় অনেক।প্রথম বই হিসাবে স্মৃতিচারন মুলক উপন্যাস খুব একটা পাঠক সমাদৃত হয়না।

৫।মহিয়সীঃ লেখা প্রকাশে সবচে কার বেশি উৎসাহ পেয়েছেন?

লেখকঃ লেখাটা আমি শুরুতে খেলাচ্ছলে ফেসবুকে ধারাবাহিক লেখা শুরু করেছিলাম।কিছুদূর যেতে আত্নীয় স্বজন, বন্ধু বান্ধব তদুপরি ভাইবোন সকলের উৎসাহ আমাকে অনেকদূর টেনে নিয়ে যায়।একপর্যায়ে তাদের সকলের উৎসাহে বইটি প্রকাশের মুখ দেখে।

৬।মহিয়সীঃ একজন লেখককে কি কি বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখতে হয় লেখা শুরু করার আগে?
লেখকঃ লেখা শুরু করার আগে আমি মনে করি বাক্য বিন্যাস এবং বানানের প্রতি যত্নশীল হওয়া উচিত।

৭।মহিয়সীঃবইমেলায় একজন নতুন লেখকের সবচে বড় প্রতিবন্ধকতা কি?

লেখকঃ বইমেলায় প্রতিবন্ধকতা বলতে যা সেটা আমার কাছে খুবই স্বাভাবিক মনে হয়।পাঠক মেলায় এসে সবসময় পূরোনো প্রতিষ্ঠিত লেখকের লেখা খোঁজ করে।নতুনদের একটু চান্স তো দিতে হবে। এছাড়া তেমন কিছু নেই।মেলা সার্বজনীন। একজন লেখক এখান থেকে তার লেখার সিঁড়িটার নাগাল পায়।তাছাড়া ভাবতে ভাল লাগে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ বই মেলা সংগঠিত হয় আমাদের বাংলাদেশে।এরপরে যেটা সেটা সম্ভবত ফ্রাঙ্কফুটে দশ দিনের।

৮।মহিয়সীঃ বাংলাদেশে এখন নারীরা পুরুষের পাশা পাশি লেখার জগতে বেশ সক্রিয় । বিষয়টা কতো টুকু সত্য বলে মনে করেন

লেখকঃ বাংলাদেশে এখন নারীরা পুরুষের পাশা পাশি লেখার জগতে বেশ সক্রিয় কারন আমাদের দেশে নারীরা আর ঘরের কোনে বসে থাকেনা।তাদের বিচরনের জগত অনেক বিস্তৃত । অন্যান্য অনেক কাজের পাশাপাশি পড়াশুনা ও করে প্রচুর। তাদের জ্ঞানার্জনের প্রতি তৃষ্ণা, স্পৃহা তাদের অনেক সৃজনশীল করেছে।

৯।মহিয়সীঃ অনেকেই অভিযোগ করে নতুন লেখকদের বই প্রকাশের ব্যপারে প্রকাশকদের কাছে হয়রানি হয় । আপনার অভিজ্ঞতা কেমন?

লেখকঃ সে অর্থে আমি অনেক ভাগ্যবতী।আমাকে তেমন কিছুই পোহাতে হয়নি।এডর্ন পাবলিকেশন্স এর সি ই ও জাকির হুসাইন সাহেব তাদের অন্য এক অঙ্গ সংগঠন থেকে আমার বইটা নিজ দায়িত্বে প্রকাশ করেন।অন্য প্রকাশনায় গেলে হয়তো আমারো এরকম তিক্ত অভিজ্ঞতা হতে পারতো। আমি সত্যি এজন্য তার কাছে চিরকৃতজ্ঞ।

১০।মহিয়সীঃ সাহিত্য জগতে আপনার অনুপ্রবেশ স্থায়ী হবে কি?
লেখকঃ যদি পাঠক চান….

১১। মহিয়সীঃবাংলাদেশে নারী লেখকদের উত্তরনে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা কি?
লেখকঃসংসারের দায়বদ্ধতা।পুরুষদের মত সব কিছু বাদ দিয়ে নারী এখনো অতটা প্রফেশনাল হয়ে উঠতে পারেনি।

১২।মহিয়সীঃ বই বাজারজাত করা এবং পাঠকের কাছে পৌঁছে দিতে কোন আরও কোন বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া উচিত
লেখকঃ এক্ষেত্রে আমি মনে করি প্রচারনা টা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

১৩।মহিয়সীঃ সাহিত্য জগতে আপনার প্রবেশে আপনার সবচেয়ে ভাল অভিজ্ঞতা কি
লেখকঃ আমার অভিজ্ঞতা তেমন কিছু না।তবে আমি নিজেকে অনেক সমৃদ্ধ মনে করি।অনেক গুনীজনের সাহচার্য্য আমি পেয়েছি, পাচ্ছি।

১৪।মহিয়সীঃ যারা লেখার জগতে নিজেকে দেখতে চায় তাদের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন।
লেখকঃতাদের উদ্দেশ্যে একটি ই নিবেদন লেখার আগে বেশি বেশি পড়ুন।

১৫।মহিয়সীঃ আপনার লেখা নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?
লেখকঃ পরিকল্পনা কিছু নেই।যতদিন সুস্থ শরীরে বেঁচে থাকবো আল্লাহ এবং পাঠক চাইলে লিখবো।

মহীয়সী কে সময় দেওয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ।
মহীয়সী কে ও অনেক অনেক ধন্যবাদ । লেখক হিসেবে কিছু বলার সুযোগ করে দেওয়ায় । অনেক শুভ কামনা রইল ।

লেখকের ফেসবুক থেকে সংগৃহীত তার বিভিন্ন সময়ের ছবি:


(লেখকের প্রকাশিত প্রথম বই)


(সাহিত্য আড্ডায় সাহিত্য অনুরাগী বন্ধুদের সাথে)


(বই মেলায় লেখক সাহিত্যপ্রেমী প্রিয়জনদের সাথে)


(পরিবারের সদস্যদের সাথে লেখক)


(প্রিয় জীবনসঙ্গীর সাথে একান্ত স্মৃতিময় ছবি)

Comment

Comment

   
ই-মেইলঃ mohioshi@outlook.com
ফেসবুকঃ www.facebook.com/mohioshibd
মোবাইলঃ ০১৭৯৯৩১৩০৭৮, ০১৭৯৯৩১৩০৭৯
ঠিকানাঃ ১০/৮, আরামবাগ, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
কপিরাইট ©  মহীয়সী