ভদ্র, শান্ত, ধার্মিক মেয়েদের ডিভোর্স হয় না

নাসিমুন নাহারঃ হঠাৎ করেই আজকাল মানুষের টুসীর ব্যক্তি জীবন নিয়ে কৌতুহল ভীষণ বেড়ে গেছে। নতুন জবে জয়েন করেছে সে কিছুদিন হলো। সবারই আগ্রহের কেন্দ্র বিন্দুতে আছে বর্তমানে। যদিও এমন পরিস্থিতির সাথে টুসী মোটামুটি ইউজ টু। যখনই কোথাও সে যায় কোন না কোনভাবে তাকে নিয়ে আলোচনা কথা হতে থাকে ! তবে আলোচনাগুলো যতখানি তার পেশাগত কাজ সংক্রান্ত হয় তার থেকেও বেশি হয় ব্যক্তি জীবন নিয়ে। এখানেই অদ্ভুত লাগে টুসীর।

কথোপকথনের শুরুটা হয় এভাবে—

বাসা কই?
আব্বু আম্মু পরিবারেরর ইতিবৃত্ত।
লেখাপড়া।
ছেলে আব্রাম।
—এই পর্যন্ত প্রশ্ন স্বাভাবিকই লাগে টুসীর কাছে।

এরপরই শুরু হয়ে যায়—-

হাজবেন্ড কি করে ? কোথায় ?
–ইঞ্জিনিয়ার ছিল। ঠিক এই মুহূর্তে কোথায় বলতে পারছি না।

ছিল মানে ?
—-আমরা এখন সেপারেটেড।

ওহ, আহারে; সরি।
—– ইটস ওকে। সরির কিছু নেই। আপনি জানতেন না বলেই তো প্রশ্ন করেছেন। আর দুঃখিত হবারও কিছু নেই।

আচ্ছা যদি কিছু মনে না করেন একটা প্রশ্ন করি? —— হুম।

কতদিন হলো সেপারেশনের ?
—- সাত বছর।

ওহহহ ! আচ্ছা কেন আলাদা হতে হলো? মানে আপনি তো খুব শান্ত, ভদ্র, ধার্মিক। লক্ষ্য করেছি সব সময় নামাজ পড়েন। পোষাক, লাইফ স্টাইল খুবই শালীন। উচ্চ শিক্ষিত। বুদ্ধিমতী।
এমন মেয়েদেরও ডিভোর্স হয় ?

সোজাসুজি প্রশ্নকর্তার চোখের দিকে তাকিয়ে গলার স্বর যতটা সম্ভব গম্ভীর আর আত্মবিশ্বাসী করে বলতে হয় টুসীকে— মিল হচ্ছিল না আমাদের। ছোট বড় বেশ কিছু ইস্যু নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছিল বারবার। বাসার পরিবেশ অসুস্থ ছিল। তাই আলাদা হতে হলো। এছাড়া ডিভোর্স হতে হলে অভদ্র, অধার্মিক, অশান্ত হতে হবে এটা অত্যন্ত ভুল ধারণা। ধর্মীয় এবং সামাজিক বিধানও যেহেতু আছে এই ইস্যুতে তারমানে ডিভোর্স অনৈতিক কাজ বোধহয় না !
আর আমি আসলে ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে সবার সাথে কথা বলতে স্বস্তিবোধ করি না।
সরি।

অনেকে তবুও থামে না। খানিক বিরতি নিয়ে শুরু করে—- আচ্ছা আপনার ভবিষ্যৎ প্ল্যান
কি এখনো তো জীবন পরে আছে আপনার?

চোখের ভেতরে কঠোর কঠিন অনুভূতি ফুটিয়ে বলতে হয় টুসীকে—- একজন ভালো মানুষ হবার চেষ্টা করা। লেখাপড়া করা। চাকরি করা আর সন্তানটাকে মানুষ করার চেষ্টা করা।

তবুও কি থামে কিছু মানুষ………

চকচকে কিম্ভূত চোখে জানতে চায়— না না এগুলো না। জানতে চাচ্ছিলাম আবার বিয়ে শাদি ঘর সংসার এসব আরকি।

এবার ঠোঁটের কোনে নিজের ট্রেডমার্ক লাজুক হাসি টেনে বলতে হয় টুসীকে—- সৃষ্টিকর্তা জানেন। হয়তো কোথাও কেউ একজন আছে কিংবা নেই। আসলে এই মুহূর্তে আমি তো খুব ব্যস্ত ছেলেকে বড় করার বিষয়ে। জব নিয়ে।
তাই on the way তে কেউ আছে কিনা খুঁজে নিতে পারছি না।
Let’s see.

লেখকঃ চিকিৎসক ও কলামিস্ট

Comment

Comment

   
ই-মেইলঃ mohioshi@outlook.com
ফেসবুকঃ www.facebook.com/mohioshibd
মোবাইলঃ ০১৭৯৯৩১৩০৭৮, ০১৭৯৯৩১৩০৭৯
ঠিকানাঃ ১০/৮, আরামবাগ, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
কপিরাইট ©  মহীয়সী