এই দুঃখ রাখি কই???

আলপনা তালুকদারঃ 

ফেসবুকের কল্যাণে প্রচুর মানুষের স্টেটাস ও লেখা পড়ার সৌভাগ্য ও দূর্ভাগ্য আমার রোজ হয়। আমি লক্ষ্য করে দেখেছি, অনেক উচ্চশিক্ষিত মানুষ (ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার,….. এমন কি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত শিক্ষক, অধ্যাপকও আছেন যাঁদের কেউ কেউ আমার বন্ধু) তাঁদের দেয়া স্টেটাস ও কমেন্টগুলোতে প্রচুর বানান ভুল করেন। ইংরেজী বানানতো বটেই, বাংলা বানানেও অজস্র ভুল। এই দুঃখ রাখি কই? দেখে লজ্জায় আমার মাথা হেঁট হয়ে যায়। আরেকটা বিষয় আমি বুঝিনা। আমাদের শিক্ষকদের মধ্যে অনেকেরই ইংরেজীতে দূর্বলতা আছে। সেটা দোষের কিছু না। দূর্বলতা থাকতেই পারে। দোষের হলো, নিজের দূর্বলতা সম্পর্কে অজ্ঞতা। তাঁরা বোধহয় বুঝতে পারেন না যে তাঁরা যেসব ইংরেজী লেখেন, সেগুলো ভুল। অথবা তাঁরা মনে করেন, ইংরেজীতে স্টেটাস দিলে নিজের পাণ্ডিত্য জাহির করা যায়। কিন্তু তাঁরা বোধহয় এটা বুঝতে পারেন না যে, নিজের পাণ্ডিত্য জাহির করতে গিয়ে তাঁরা নিজেদেরতো বটেই, পুরো শিক্ষিত সমাজের মানসম্মান খেয়ে ফেলেন!

ইংরেজি না জানলে বাংলায় লিখলে অসুবিধা কি? গোটা পৃথিবীতে আমরাই একমাত্র জাতি যারা ভাষার জন্য জীবন দিয়েছি। অথচ সেই ভাষাকেই আমরা সম্মান দিতে জানিনা। কি দূর্ভাগ্য আমাদের! আমার মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে, বিনীতভাবে তাঁদের ভুলগুলো ধরিয়ে দেই। পরক্ষণেই মনে হয়, তাঁরা যদি সেটা পছন্দ না করেন? আবার একজনকে আমি জানি, যিনি অনবরত ইংরেজীতে কথা বলতে গিয়ে অজস্র ভুলভাল ইংরেজি বলেন, অথচ তাঁর গিন্নী ইংরেজীর শিক্ষক!!! আমি একদিন আমার বরকে জিগ্যেস করেছিলাম, “ওবার বৌ ওনার ইংরেজীর ভুলগুলো শুধরে দেননা কেন?” আমার বর বলেছিল, “ঠিক করে দিলেই যে তিনি শুনবেন বা শিখবেন, তার নিশ্চয়তা কি? আর শুধরে দেননা, সেটাই বা তুমি জানলে কি করে? এতদিনেও যিনি শেখেননি, তিনি এখন শিখবেন, এটাই বা কেন আশা করছ? তুমি নিজেই তো জান, কোন কোন শিক্ষকের একটা প্রশ্ন মডারেশন করতে আধাঘণ্টা লাগে। অথচ তাঁরা ক্যাম্পাসে এমন ভাব দেখান যে তাঁর মত জ্ঞানী গোটা পৃথিবীতে নেই!”

কথা ঠিক। তাহলে করণীয় কি? আমি সবাইকে বিনীতভাবে অনুরোধ করছি, নিজের ভাষাকে সম্মান করে শুদ্ধ বানানে বাংলায় লিখুন। আর ভুলভাল ইংরেজী না লিখে বাংলায় লিখুন। তাতে আপনার ও অন্যদের সম্মান রক্ষা পাবে। এ প্রসঙ্গে একটি কৌতুক শুনুন।

বৃটিশ আমলে এক বিচারক এক চোরের বিচার করছেন যে কিনা চ্যাকারের (বাঁশ দিয়ে বানানো) বেড়া ভেঙ্গে গেরস্তের গরু চুরি করে ধরা পড়েছে। বিচারক প্রশ্ন করলেন, “হোয়াট ইজ চ্যাকারের বেড়া?” উকিল বাবু ছিলেন ইংরেজীতে দূর্বল। তবু তিনি বিচারককে বোঝানোর জন্য বললেন, “সাম ব্যাম্বু আড়াআড়ি, সাম ব্যাম্বু খাড়াখাড়া। দ্যাট ইজ কল্ড চ্যাকারের বেড়া।”

লেখকঃ সহযোগী অধ্যাপক, আই ই আর, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

Comment

Comment

   
ই-মেইলঃ mohioshi@outlook.com
ফেসবুকঃ www.facebook.com/mohioshibd
মোবাইলঃ ০১৭৯৯৩১৩০৭৮, ০১৭৯৯৩১৩০৭৯
ঠিকানাঃ ১০/৮, আরামবাগ, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
কপিরাইট ©  মহীয়সী