পুরুষরা যেভাবে  নির্যাতিত !

আলপনা তালুকদারঃ 

নানা সময়ে পুরুষরাও তাদের বৌদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করেন যা তাদের মনোকষ্টের কারণ। সেগুলো বিচ্ছিন্নভাবে আমি আমার আগের লেখাগুলোতে উল্লেখ করেছি। আজ সেগুলো একসাথে তুলে দিলাম।

বেশীরভাগ পুরুষ তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে যে অভিযোগটি করেন, তা হলঃ বৌরা শ্বশুরবাড়ির লোকদের দেখতে পারেনা, তাদের সাথে ভাল আচরণ করেনা। তাদের পিছনে টাকা খরচ করা অপচয় মনে করে, খরচ করতে দেয়না। স্বামীরা গোপনে বাড়ীতে টাকা পাঠায়। বৌরা জানতে পারলে অশান্তি করে, টাকার হিসাব রাখে, এত টাকা কোথায় খরচ করেছে, তার কৈফিয়ত চায়। স্বামীর প্রাক্তন প্রেমিকার কথা তুলে অশান্তি করে, খোঁটা দেয়।

অনেকে অভিযোগ করেন, কোন কারণে ঝগড়া হলেই বৌ আত্মহত্যার হুমকি দেয়, কথা বলেনা, আলাদা ঘরে ঘুমায়, রাগ করে বাপেরবাড়ী যায়, বাচ্চাদের সাথে রাগারাগি করে, ওদের মারে। শেষেরটি তাদের সবচেয়ে বড় মনোকষ্টের কারণ। (মানুষ তীব্র মানসিক পীড়নের সম্মুখীন হলে কখনও কখনও নানা প্রতিরক্ষামূলক কৌশল বা Defense Mechanism ব্যবহার করে অভিযোজন করে। স্বামীর উপর রাগ করে বাচ্চাকে মারা – এটাকে বলে Displacement. এ বিষয়গুলো নিয়ে একটা আলাদা লেখা লিখেছি।)

একজন বলল, তার স্ত্রীকে তার পছন্দ হয়না। কারণ তার মন-মানসিকতা, চিন্তা-ভাবনা, রুচি,… কোনকিছুই তার সাথে মেলেনা। ফলে তিনি বৌয়ের সাথে কোনকিছু শেয়ার করতে পারেননা। ফলে তিনি তার পুরনো প্রেমিকাকে ভুলতে পারেননা, মিস করেন। মনে করেন, প্রেমিকাকে বৌ হিসেবে পেলে জীবনটা অন্যরকম হত। এই না পাওয়ার কষ্ট তাকে দিনরাত মানসিকভাবে বিপর্যস্ত রাখে। কখনো কখনো তিনি ডিভোর্সের কথা ভাবেন। ছেলের কথা ভেবে তাও করতে পারেন না।

একজন জানালো, তার বউ খুব নোংরা, কোনকিছু গুছিয়ে রাখেননা। পুরো বাড়ীর জিনিসপত্র এলোমেলো পড়ে থাকে। দামী দামী ফার্নিচারের প্রতিটার উপরে এক ইঞ্চি করে ধূলার স্তর। বাথরুম, কিচেনসহ পুরো বাড়ী নোংরা হয়ে থাকে। বউ নিজে পরিস্কার করেননা, কাজের লোককে দিয়েও করাননা। স্বামী নিজে মাঝে মাঝে করেন বা কাজের লোককে দিয়ে করান। এই নিয়ে রোজ অশান্তি।

একজন জানালো, তার স্বল্প আয়ে সংসার চালাতে এমনিতেই কষ্ট হয়। তার উপর তার বউ অপচয় করেন। তাকে না জানিয়ে পকেট থেকে টাকা নিয়ে খরচ করেন।প্রতি মাসের শেষে তার বাজার খরচের টাকা থাকেনা। বৌ কথা শোনেননা। প্রতি মাসে তার শাড়ী কেনা চাইই চাই।

একজন জানালো, তার বউ তাকে নিয়ে আলাদা থাকতে চায় প্রাইভেসীর কারণে। নিজেদের মত আলাদা, স্বাধীন থাকবে, যা খুশী করবে, যেখানে খুশী যাবে, বিলাসিতা করবে, কারো কথা মেনে চলতে হবেনা ইত্যাদি। বউ নিজে তার পরিবার ছেড়ে এসে স্বামীর সাথে থাকতে পারলে স্বামী পারবেনা কেন? আর স্বামী চায় বৌ নিয়ে বাবামার সাথে থাকতে। এই নিয়ে প্রায়ই ঝগড়া হয়।

আমার এক ডাক্তার বন্ধু প্রেম করে বিয়ে করেছে। কিন্তু তার স্ত্রী তার বাড়ীর লোকেদের সাথে কথা বলেনা, ভাল আচরণ করেনা। তার কারণ আমার বন্ধুর পরিবার তার স্ত্রীর সাথে বিয়েকে মেনে নিতে চায়নি বলে। সে তার ছোটবোনকে কাছে রেখে পড়াতে চেয়ে পারেনি। কারণ বউ তার বোনের সাথে খারাপ ব্যবহার করে। তাই আলাদা বাসা ভাড়া নিয়ে বাবামাকে এনে বোনসহ রেখেছে। ছুটির দিনে সে বাবামার কাছে ছেলেমেয়েদের নিয়ে যায়, বাজার করে বা টাকা দিয়ে আসে। বউ কখনোই যায়না। বৌ সন্দেহপ্রবণ। কোন মেয়ে বান্ধবীর সাথে কথা বলা পছন্দ করেনা। এমন কি, নিজের এলাকা থেকে যেসব মেয়েরা কলেজ-ভার্সিটিতে পড়তে আসে, তারা নানা সময়ে আসে নানা সমস্যা নিয়ে। তাদের সাথে কথা বলাও যাবেনা। বউ ফোন চেক করে। ওসব মেয়েদের গালি দেয়। মোবাইল নাম্বার বদলাতে বলে। সে বদলাতে পারেনা। কারণ অনেক রোগীর কাছে তার নাম্বারটা আছে। এসব নিয়ে চরম অশান্তি।

এক লেখক বন্ধু জানালো, তার বউয়ের দাবী, তার কোন মেয়ে ভক্ত থাকা যাবেনা। তাদের সাথে চ্যাট করা যাবেনা। কোন মেয়ে তার লেখাতে লাইক বা কমেন্ট করতে পারবেনা। করলে তা নিয়ে অশান্তি। তার পাসওয়ার্ড হ্যাক করে বউ ওসব ভক্তদের গালি দেয়।

এক বন্ধু জানালো, সে তার যেকোন সমস্যা, কষ্টের কথা বৌয়ের সাথে প্রাণখুলে শেয়ার করতে পারেনা। সে তার মত, বউ বউয়ের মত। কোন বিষয় নিয়ে তার সাথে কথা বলে সে আনন্দ পায়না। বউয়ের আগ্রহ নেই। তার সব আগ্রহ ভারতীয় বাংলা সিরিয়ালে। দুনিয়ার আর কোন কিছু তাকে টানেনা।

একজন জানালো, বিয়ের আগে বৌ বলেছিল দু’জনের আয়ে সংসার চালাবে। এখন বউ তার বেতনের টাকা দেয়না। টাকা দিয়ে কি করে, বলেও না। একার টাকায় সংসার চালাতে তার কষ্ট হয়, ব্যাংক লোন আছে। এই নিয়ে রাগারাগি হয় প্রায়ই।

একজন জানালো, তার বউ শ্বশুর শ্বাশুড়ীকে কিছু দিতে দেয়না। কোন জিনিস বা খাবার কিনে আনলে লুকিয়ে রাখে। দেয়না। তার টাকার হিসাব নেয়। বাবামা, ভাইবোনকে টাকা দিতে দেয়না। দিলে বলে, আমাকেও টাকা দাও, আমার বাবামা, ভাইবোনকে দেব। সবসময় বলে, অন্য ছেলেমেয়েরা কেউ কিছু দেয়না। সব খরচ তোমাকে করতে হবে কেন?

একজন বলল, তার বউ সংসারের বিষয়ে উদাসীন। কোন কিছু করতে চায়না। এমন কি রান্নাও না। অনেক বেলা পর্যন্ত ঘুমায়। সব কিছু কাজের মেয়ের উপর ফেলে রাখে। নিজের মেয়েকেও ঠিকমত খাওয়ায় না। মেয়েটা দিন দিন রোগা হয়ে যাচ্ছে। ছেলেমেয়েকে পড়াতেও চায়না। কাজের মেয়ে টিকেনা তার দূর্ব্যবহারের কারণে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক জানালেন, তার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা বউ
শ্বশুরবাড়ী ঈদ করতে যেতে চায়না। তার দেখাদেখি ছেলেও যেতে চায়না। তিনি প্রতিবার বাবামার সাথে গ্রামের বাড়ীতে একা ঈদ করতে যান। এ নিয়ে তার প্রচণ্ড মানসিক কষ্ট আছে।

একজন জানালো, তার স্ত্রী পরকীয়া করে। তিনি স্ত্রীকে খুব ভালবাসেন। তাই তালাক দিতেও পারছেন না। আবার তাকে ফেরাতেও পারছেন না। তীব্র মানসিক যন্ত্রণায় আছেন।

একজন বলল, তার স্ত্রীকে তার মতের বিরুদ্ধে তার সাথে বিয়ে দেয়া হয়েছে। ফলে সে স্বামীকে মন থেকে মেনে নিতে পারছেনা। পুরনো প্রেমিককে সে ভুলতে পারেনি। প্রায়ই তার কথা বলে। পরে স্বামীকে সরিও বলে। বলে, আর বলবেনা। কিন্তু আবার বলে। এলোমেলো আচরণ করে। কিছুদিন বাবার বাড়ীতেও ছিল। তাতেও স্বামীর জন্য তার আকর্ষণ তৈরী হয়নি। তিনি তালাক দিতেও পারছেন না। কারণ তিনি জানেন, তাঁর স্ত্রী খুব সৎ এবং খুবই ভাল মেয়ে।

একজন জানালেন, তিনি তাঁর গ্রামের দরিদ্র মানুষরা চিকিৎসার জন্য এলে নিজের বিশাল বাডীতে তাদের স্হান দিতে পারেন না। তাই অন্য একটি বাডী ভাড়া নিয়ে তাদের রাখেন। কখনও হোটেলে রাখেন। বউকে না জানিয়ে তাদের চিকিৎসা করান, চিকিৎসার টাকা দেন।

যদিও একসাথে থাকতে গেলে কিছু বিষয়ে মতের মিল না হওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে স্বামীদের সুবিধা হল, স্ত্রী কোন কিছু করার জন্য স্বামীকে বলতে বা চাপ দিতে পারে মাত্র, তাকে কোনভাবেই বাধ্য করতে পারেনা। মারতেও পারেনা। রাগারাগি, কান্নাকাটি, মন খারাপ করতে পারে বড়জোর। তাই এগুলোকে ‘নির্যাতন’ বলা যায়না। আর নির্যাতন মনে করলে স্বামী অনায়াসে স্ত্রীকে তালাক দিতে পারেন। কেউ নির্যাতন সহ্য করে তাকে সংসার করতে বাধ্য করতে পারেনা, করেনা। কিন্তু মেয়েরা স্বামী বা শ্বশুরবাড়ির লোকেদের দ্বারা (শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, কখনো কখনো খুন) নির্যাতিত হলে বেশীরভাগ ক্ষেত্রে বাবামা স্বামীকে তালাক দিতে দেয়না। নির্যাতন সহ্য করে সংসার করতে বাধ্য করে।

আমার বিরুদ্ধে আমার স্বামীর অভিযোগ হলঃ

আমি খরচের ছোটখাট একটা জাহাজ। টাকা খরচ করতে না পারলে আমার পেটের ভাত হজম হয়না। অপচয় করা, নানা প্রয়োজনে আত্মীয়দেরকে টাকা ধার দেয়া, দান করা আমার শখ। আমি প্রতি মাসে কমপক্ষে ষোলো থেকে বিশ হাজার টাকা দান করি, কখনও কখনও আরো বেশী। শাশুড়ীর জন্য একটা বিছানার চাদর কিনতে যেয়ে নিজের জন্যও ছয়টা কিনে আনি। কখনোই দু’একটা শাড়ী বা থ্রিপিচ আমি কিনতে পারিনা। কমপক্ষে চারটা কেনা চাই। একবার ঈদে ছয়টা জামদানী শাড়ী বাকীতে কিনে এনে স্বামীকে বলেছিলাম, “আমি কিনতে চাইনি।পছন্দ হলে কি করব? তাছাড়া দোকানদার জোর করে দিয়ে বলল, টাকা পরে দিলেও হবে।” সস্তা কোন জিনিসই আমার পছন্দ হয়না। আর সবচেয়ে বড় অভিযোগ – আমি ফেসবুকে প্রচুর সময় নষ্ট করি। ফেসবুকে লেখালেখি করতে গিয়ে মেয়েদের পড়াই না। অথচ আমার লেখার চেয়ে লোকে আমার ছবি বেশী পছন্দ করে!!! সত্যি সেলুকাস…..!!!!!

অতি জরুরী কিছু কথা :

আমি বা আমরা বলি, এতই যখন সমস্যা তাহলে স্বামী-স্ত্রী আলাদা হয়ে যান না কেন? আসলে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক এক জটিল বিষয়। তাই এ বিষয়ে চট করে কোন রায় দেয়া যায় না। কারণ এই সম্পর্কের সাথে বাচ্চাদের প্রতি ভালবাসা, একা থাকার কষ্ট, সামাজিক মর্যাদাহানি, নিরাপত্তার অভাব, আর্থিক বিষয়, বয়স, ইত্যাদি অনেক বিষয় জড়িত থাকে। তাই চাইলেও স্বামী বা বউরা অনেক সময় তালাক দিতে পারেন না।

আবার মেয়েরা স্বামীদের প্রতি যে অন্যায় আচরণগুলো করেন, তা তারা শুধু শুধু করেন না। যেমন – বেশীরভাগ সময় শ্বশুরবাড়ীর লোকজন বউকে দেখতে পারেনা। তাই বউও তাদের দেখতে পারেনা, তাদের থেকে দূরে সরে যেতে চায়, তাদের সাথে ইচ্ছে করে দূরত্ব তৈরী করে।

আমি এক বউকে জানি যে প্রায় ষোলো বছর অকাতরে শ্বশুরবাড়ির লোকেদের দেখাশোনা করেছে, স্বামীর হুকুম ছাড়াই নিজের বেতনের টাকা তাদের সবার জন্য খুশী মনে খরচ করেছে। এমনকি তাদের জন্য বাড়ী বানিয়ে দিয়েছে। এর বিনিময়ে শ্বাশুড়ি সেই বউকে “ছোটলোকের বাচ্চা” বলে গালি দিয়েছে। এখন সেই বউ আর শ্বশুরবাড়ি যায়না। শ্বশুরপক্ষের কারো সাথে যোগাযোগ রাখেনা, কথা বলেনা। তাই দোষ একতরফা বৌকে দিলে হবেনা। সমস্যা দ্বিমুখী।

অনেক স্বামী নিজের পরিবারের জন্য পয়সা খরচ করতে কখনও কার্পণ্য করেননা। কিন্তু বউকে হাতখরচ দেননা, বউকে টাকা দেয়া বা বউয়ের বাবার বাড়ীর কারো জন্য টাকা দেয়া অপচয় মনে করেন। তাই বউরাও চায়না স্বামী শ্বশুরবাড়িতে টাকা দিক। এতে তার ও তার সন্তানদের জন্য ভবিষ্যত সঞ্চয় কমে যাবে।

অনেক স্বামী স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেন যার কারণে তাদের মধ্যে ভালবাসা, বিশ্বাস, শ্রদ্ধা কমে গিয়ে সম্পর্ক খারাপ হয়। আমরা অধিকাংশ মানুষ নির্যাতন বলতে শুধু শারীরিক নির্যাতনকে বুঝি। কিন্তু অনেকগুলো আচরণ আছে যা আসলে মানসিক নির্যাতন। সেগুলো কি কি তা জেনে বা না জেনেই প্রতিনিয়ত আমাদের পুরুষরা সেগুলো করেন। ফলে এসব সহ্য করতে করতে নারীরা স্বামীর প্রতি ভালবাসা হারিয়ে শুধু সন্তানদের কথা ভেবে স্বামীর সাথে থাকেন। কখনও কাউকে সেসব নির্যাতনের কথা বলেন না। (পরবর্তী পোস্টে মানসিক নির্যাতনগুলো কি কি তা তুলে ধরব)। উন্নত বিশ্বে তালাকের হার বেশী। কারণ ওসব দেশের মেয়েরা স্বনির্ভর এবং ওসব মানসিক নির্যাতন সহ্য করে তারা সংসার করেনা। ওসব নির্যাতন করলে স্বামীরা শাস্তি পায়। আমাদের স্বামীরা বউকে মারা তাদের ‘অধিকার’ বলে জানে। খুন করেও ছাড়া পায়। সেখানে মানসিক নির্যাতন কোন বড় ব্যাপার?

অনেক সময় বাবামা ছেলেমেয়েদের অমতে তাদের অপছন্দের কারো সাথে তাদের বিয়ে দেন। এটি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দূরত্বের কারণ যা সারাজীবন তাদেরকে অখুশী করে। এটি খুব অন্যায়।

বেশীরভাগ ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রীর মানসিক দূরত্ব (মতের অমিল বা একে অন্যের প্রতি ভালবাসা না থাকা) এবং শারীরিক দূরত্ব (দূরে থাকা বা দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকা) পরকীয়া ও স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক খারাপ হওয়ার কারণ। স্বামী-স্ত্রীর উচিত, এ উভয় দূরত্ব যাতে তৈরী না হয় সে বিষয়ে সজাগ থাকা। অনেক বাবামা স্বামীর সাথে থাকতে পারবেনা জেনেও এমন ছেলের সাথে (প্রবাসী) মেয়ের বিয়ে দেন। কেউ আবার বেশী বয়সের ছেলের সাথে মেয়ের বিয়ে দেন যার কারণে পরে সমস্যা হয়। এসব বাবামার জেল হওয়া উচিত।

অনেক স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন বউয়ের কাছে বউয়ের সাধ্যের অতিরিক্ত প্রত্যাশা করেন। সে প্রত্যাশা বউরা পূরণ করতে পারেনা, বিশেষ করে কর্মজীবী বউরা। ফলে স্বামীরা অনবরত বউয়ের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করতে থাকেন। ফলে অশান্তি হয়। সব মানুষের নিজস্ব কিছু পছন্দ, ভাললাগার জায়গা থাকে। আমাদের দেশের কোন মেয়েই সেই জায়গাটা কখনোই পায়না। স্বামীরা যে যাই বলুক না কেন।

সমাধান : নিজের অবস্থান থেকে না দেখে সঙ্গীর অবস্থান থেকে সমস্যাগুলোকে দেখলে নিজের ভুল ধরতে পারা সম্ভব। আর নিজের ভুল ধরতে পারলে একে অন্যকে দোষারোপ না করে নিজের ভুল শোধরালে অনেক সমস্যা তৈরীই হবেনা। আরো কিছু পরামর্শ ছিল। লেখা বড় হয়ে গেছে বলে লিখলাম না। খুব খুব ভাল থাকবেন বন্ধুরা।

লেখকঃ সহযোগী অধ্যাপক, আইইআর, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

Comment

Comment

   
ই-মেইলঃ mohioshi@outlook.com
ফেসবুকঃ www.facebook.com/mohioshibd
মোবাইলঃ ০১৭৯৯৩১৩০৭৮, ০১৭৯৯৩১৩০৭৯
ঠিকানাঃ ১০/৮, আরামবাগ, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
কপিরাইট ©  মহীয়সী