বিজয় দিবসে কবি সৈয়দা পারভীনের তিনটি কবিতা

১।মহান বিজয় দিবস
(১৬ই ডিসেম্বর)
আজ বাঙালীর ঘরে ঘরে
এসেছে খুশীর জোয়ার
মহান বিজয় দিবস ১৬ ই ডিসেম্বর

২৫শে মার্চ রাত্রি যখন হয়নি নিঝুম
কেউবা ঘুম কেউবা চেতন
পাক সেনারা শহরে নামলো তখন

২৬শে মার্চ হলো যুদ্ধ শুরু
পাক সেনাদের নির্যাতনে
বাঙালী কাঁপছে দুরু দুরু
গর্জে উঠলো গুলির আওয়াজ
চললো গুলি উড়লো খুলি
ভিজে গেল রক্তে ধুলি

ছাত্ররা সব কলম ফেলে
নিল অস্ত্র হাতে তুলে
পাক সেনাদের দেশের মাটিতে দেয়নি দাঁড়াতে
সব বাঙালী মিললো তাদের সাথে

মুক্তি সেনাদের দীর্ঘ নমাস
লড়াই পরে যুদ্ধ হলো শেষ
লাখ প্রানের বিনিময়ে পেলাম স্বাধীন বাংলাদেশ

অনেক কস্টের স্মৃতি লুকিয়ে মনের ভিতরে
ডিসেম্বর আসলে স্মৃতি গুলো কেঁদে কেঁদে মরে
চোখ দুটি উঠে জলে ভরে

ভুলিনি আমরা ভুলবো না কোনদিন তোমাদের
ভুলিনি ত্যাগ বীরাঙনাদের
নিজেদের ইজ্জত দিয়ে স্বাধীনতা
এনে দিয়েছে আমাদের
বিনম্র শ্রদ্ধায় রেখে দিয়েছি
তোমাদের হৃদ মাঝারে
সাথে আছে শহীদ জননী
সাহসী মাতা তোমাদের

মাগো আর ভয় নেই
আমরা আছি তোর ১৬ কোটি সন্তান
তোর ভাল বাসায় আমাদের ভরে আছে প্রান
নিতে পারবেনা আর আমাদের গোলার ধান
শক্তি সাহস বু্দ্ধি দিয়ে হারাতে পারবেনাকোনদিন
প্রানের বিনিময়ে রাখবো তোর সন্মান

*যে বিজয় এনে দিলে ১৬ই ডিসেম্বরে
সে জয়ের লাল সবুজের পতাকা
উড়বে প্রতিবারে সবার ঘরে ঘরে*

২।”বিজয়ের আনন্দ”

ছোট মেয়েটি ডাস্টবিন থেকে
নিয়ে খুঁটে খুঁটে খাচ্ছে খাবার
দাঁড়ালাম যেয়ে তার কাছে
লজ্জা পেয়ে গেল আমায় দেখে
বললো “আইজ সারাদিন কিছু খাই নাই”
কিছু খাওন খুঁইজা খাইলাম
তোরা তো কিছু দাওনা গো আমাগোরে
মা বসাইয়া গেল কাজের লাইগা
বাবজান আমাগোরে রাইখা গেল বিয়া করতে
শুধু চেয়ে রইলাম উত্তর দিতে পারনি

কোলের ছেলেকে পাশে বসিয়ে
আট দশ বছরের ছেলে নিয়ে রোদে পুড়ে
ইট ভাঙে ইটের বোঝা মাথায় নিয়ে সারাদিনখেটে
গড়েছে উঁচু উঁচু বাড়ী অন্যের
নেই সেই বাড়ীতে তাদের প্রবেশের অধিকার
মা শুয়ে থাকে খোলা বারান্দায় বুকে নিয়ে তাদের
ছেলে বলে মা হগলে কয় বিজয় দিবস হেইডা কি
হেইডা আমাগোরে বালা খাওন দিবো
বাবজান আমাগোরে মজার খাওন কিনা দিতো
কেন্ যে আল্লা তারে লইয়া গেল আমাগো থাইকা
মা যে কেঁদে মরে দিতে পারে না কোন সান্তনা
বিজয়ের আনন্দ আসবে কিকোনদিন তাদেরঘরে

লাল সবুজের পতাকা নিয়ে যুবক ঘুরে পথে পথে
বাবা পা হারিয়েছেন মুক্তি যুদ্ধে
বি’এ’ পাশের সার্টিফিকেট আছে সাথে
পারলো না কোন চাকুরী জোগার করতে
স্বাধীনতা পারেনি তাদের অভাব মেটাতে
আমি যে মুক্তি যোদ্ধার সন্তান
পতাকার মাঝে লুকিয়ে আছে বাবার সন্মান
তাই বেছে নিয়েছে এই পেশাকে
বাবা কে”জানলো না কেউ” “চিনলো না কেউ”
পায়নি কোন পুরস্কার —-বাবা চলে গেল নিরবে

এখনো পংগু মুক্তি যোদ্ধারা
কস্টে ঘুরে পথে পথে
আমরা পারিনা তাদের বুকে জড়াতে
পারিনা বিজয় দিবসে একটি
পতাকা তুলে দিতে হাতে

হারিয়ে ফেলেছি বোধ শক্তি
আমি এসে দাঁড়ালাম একোন
ভুল আকাশের নীচে
শুনলাম আর্তনাদ হাহাকার
সবার বুকে চলে অবিরাম ত্রুন্দন
চোখের পানি একমাত্র তাদের সম্বল

“কেউ বুনে দেয় না তাদের স্বপ্ন আশার ফসল
যারা মুখ থুপড়ে পড়ে থাকে পথের ফুটপাতে
কিকরে থাকবে পতাকা তাদের হাতে
“কবে নিপীড়িত লান্ছিত মানুষ উঠে দাঁড়াবে
কবে ভরে থাকবে আনন্দে তাদের মন
কবে মোড়ে মোড়ে উড়াবে বিজয় নিশান”

“আমরা কি পারবো তাদের
পাশে দাঁড়াতে কোনদিন
কবে সবাই মিলে খুঁজে পাব সে আলোর সন্ধান”

৩। মনে পড়লো

আজ যুদ্ধের দিনগুলোর
কথা খুব মনে পড়লো
দিন গুলোর সাথে জড়িয়ে
আছে অনেক স্মৃতি আমার
পা দিয়েছি নুতন জীবনে
সেদিন বাজেনি সানাই
গর্জে উঠেছিল গোলা বারুদ
তুমি গড়েছিলে আমার জন্য
সীমাহীন স্বপ্নের জগৎ
সুখের পায়রা উড়তো নিশিদিন

তুমি ছিলে আমার জীবনে অন্তহীন গ্রন্থ
ছিল তোমার ভালবাসা ভাল লাগা
আমার সহস্র সুখের কথা
দেখেছি তোমার চোখে দেশ প্রেম
দেশকে বাঁচাতে প্রবল ইচ্ছা শক্তি

ছিলে শ্লোগানে মুখরিত মিছিলের অগ্রভাগে
নির্ঘাত মৃত্যুর সাথে দাঁড়ায়ে করেছো প্রতিবাদ
যুদ্ধের ডাামাডোল বেঁজে উঠলো
চরম বিপদ জেনেও এগিয়ে যেতো সংগ্রামী মন
করেছি বারন আজ যেওনা বাইরে
যেকোন সময় বিপদ হতে পারে
আমার মলিন মুখের দিকেচেয়ে বললো–“আমায়
আজ যেতে হবে”

আমার দু চোখে বিশ্রাম ছিলনা তোমাকে নিয়ে
আজ এখানে কাল সেখানে লুকিয়ে থাকার দিন
নয় মাস যুদ্ধের পর হলাম আমরা স্বাধীন
পেয়েছি১৬ই ডিসেম্বরে বিজয়ের দিন
উড়ালে বিজয় নিশান দরাজ কন্ঠে গাইলে
“স্বাধীনতার গান–দেশের গান”

সেদিন পথে নেমেছিল জনতার ঢল
তোমাকে বুকে জড়ায়ে অনেকে কেঁদে ছিল
আশ্চার্য্য হয়ে বললো –“তুমি বেঁচে আছ?”

বললো সেদিন আমায়” আমি দেশকে কতটুকু
দিয়েছি জানিনা –দেশ আমায় দিয়েছে
অগনিত মানুষের ভালবাসা”

এভাবে একরাশ স্মৃতি নিয়ে সাড়া দেয়
১৬ ডিসেম্বর আমার হৃদয় মাঝেে

লেখকঃ মালয়েশিয়া প্রবাসী

Comment

Comment

   
ই-মেইলঃ mohioshi@outlook.com
ফেসবুকঃ www.facebook.com/mohioshibd
মোবাইলঃ ০১৭৯৯৩১৩০৭৮, ০১৭৯৯৩১৩০৭৯
ঠিকানাঃ ১০/৮, আরামবাগ, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
কপিরাইট ©  মহীয়সী