মেঘবিষাদ

শাহীন আক্তারঃ 
আষাঢ়ের প্রথম দিন। মধ্য দুপুরে ঝুম বৃষ্টি নেমেছে। অলস জানালার কাঁচ বেয়ে নেমে পড়া বৃষ্টির দিকে অপলোক তাকিয়ে আছে মেঘ। কি অদ্ভুত সুন্দর সাজে সেজেছে আজ প্রকৃতি! সবুজ গাছের পাতাগুলো বৃষ্টির জলে স্নাতো হয়ে আরো বেশি সবুজ আর সতেজ হয়ে উঠেছে। আহা সবুজ প্রকৃতি আর বর্ষার মাঝে কি চমৎকার মেলবন্ধন ! দুজনে মিলেমিশে একাকার হয়ে আছে। সোদা মাটির ঘ্রান আসছে। বুক ভরে নি:শ্বাস নিলো মেঘ!
আচ্ছা? বৃষ্টি কি আমার কখনও পছন্দ ছিলো? নিজেকেই নিজে প্রশ্ন করলো মেঘ।
একটা সময় ছিলো যখন এই বৃষ্টি, মেঘলা আকাশ সবই আমি অপছন্দ করতাম। বৃষ্টির মাঝে ভাল লাগার কি আছে? যত্তসব! এগুলো সব মেয়েলি আদিক্ষেতা। মেয়েদের তো খেয়েদেয়ে কাজ নেই তাই বৃষ্টি নামলেই আনন্দে আত্নহারা! কবিরদেরও ঐ একই দশা। বৃষ্টি-বাদলা নিয়ে রাজ্যের কবিতা, গান। বাবা প্রকৃতি নিয়ে মাতামাতি না করে কাজের কাজ করো। দেশটাতো রসাতলে গেলো। কে শোনে কার কথা! এখন তো আবার দেশে পহেলা আষাঢ়ও ঘটা করে পালন করে।
পেছনের কথা মনে আসতেই মেঘের কল্পনার চোখে পুরোনো কারো ছবি ভেসে উঠলো…
অবন্তি ! যাকে আমি বর্ষারানী ডাকতাম ।
বৃষ্টি নিয়ে কি যে পাগলামি করতো মেয়েটা ! আকাশে মেঘ জমতে না জমতেই অবন্তির বৃষ্টি নিয়ে দীর্ঘ কর্মসূচী শুরু হয়ে যেতো। নীল শাড়ী, নীল টিপ পরে ছাদে গিয়ে  ঝুম বৃষ্টিতে ভিজতো আর গলা ছেড়ে জগৎ সংসারে যত বৃষ্টির গান আছে গাইতো। একেবারে বদ্ধ পাগল! এই পাগলির পাল্লায় পড়ে আমিও যে কতবার অনিচ্ছা সত্ত্বেও বৃষ্টিতে ভিজে জ্বর বাঁধিয়েছি, সে খবর আমার ঈশ্বর জানেন! বৃষ্টির একটা  ঘ্রান আছে সে কথা বিশ্বাস করানোর জন্য সে রীতিমত আমাকে একটা ডিপ্লোমা কোর্স করিয়ে ফেলেছিলো।
সোদা মাটির ঘ্রান! মেঘ আবারও দুচোখ বন্ধ করে ফেললো। সত্যি বৃষ্টির মাঝে কোমল একটা ঘ্রান জড়িয়ে থাকে।
অবন্তি বলেছিলো,
যেদিন বৃষ্টিকে হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করতে শিখবে সেদিন ঠিকই বৃষ্টির ঘ্রানকে আবিষ্কার করতে পারবে।
হুমম সত্যি এখন আমি বৃষ্টির ঘ্রান বুঝতে পারি। এখন আমি অনেক কিছুই হৃদয় দিয়ে অনুভব করতে শিখে গিয়েছি। পেয়ে হারানোর বেদনা মানুষকে অনেক কিছুই শিখিয়ে দিয়ে যায়।
অবন্তির একটা স্বপ্ন ছিলো, একগুচ্ছ কদম ফুল এনে কেউ ওর হাতে গুঁজে দিয়ে বলবে, “অবন্তি তোমাকে অনেক ভালবাসি”.. ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজবে রবীঠাকুরের সেই চিরচেনা গান,
‘বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল, করেছো দান’ 
নাহ্ সে স্বপ্ন আমি কোনদিন পূরণ হতে দেই নি।
অবন্তির কথা মনে হতেই হঠাৎ চোখের কোনে এক বিন্দু জল এসে জমা হলো।
মেঘ আবারও জানালার দিকে তাকালো। অবিরাম বৃষ্টি!
মুঠোফোনটা বেজে উঠলো। মেঘ ধীর পায়ে এগিয়ে গেলো টেবিলের উপরে রাখা মুঠোফোনটার কাছে। অপরিচিত নাম্বার। ছাত্রজীবনে এমন অপরিচিত নাম্বার মুঠোফোনের স্ক্রীনে ভেসে উঠলে মন কেমন এক অজানা আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে উঠতো! বয়সটা এখন আর সেই কোঠায় নেই।
এ সময় আবার কে ফোন দিলো? মেঘ ফোনটা রিসিভ করলো।
হ্যালো?
কোন  সাড়া শব্দ নেই।
মেঘ আবারও বললো,
হ্যালো?
এবারও নিস্তব্ধ ! অপর প্রান্ত থেকে কেবলই ভারী বর্ষনের সুর।
ফোনটা কেটে দিলো মেঘ। মানুষের আর খেয়ে-দেয়ে কাজ নেই। ফোন করে কথা বলে না। অযথা সময় নষ্ট!
আবারও মুঠোফোন বেজে উঠলো! সেই অপরিচিত নাম্বার।
মেঘ এবারো রিসিভ করে বললো,
হ্যালো?
কোন কথা নেই।
আরে আশ্চর্য ! কথা যদি না বলেন, তাহলে ফোন দিয়েছেন কেন? কে বলছেন প্লিজ!
নিশ্চুপ !!!
যথারীতি আবারও ফোন কেটে দিলো মেঘ। প্রচন্ড বিরক্ত হয়ে জানালার পাশে এসে দাঁড়ালো । এমন মুষলধারার বর্ষার মধ্যে কার এমন শখ হলো যে ফোন করে কথা না বলে অন্যকে বিরক্ত করা? কে হতে পারে? এখন তো কেউ আমার সাথে মজা করে না? কে?
হঠাৎ মেঘ জানালার সামনে থেকে সরে এসে মুঠোফোনটা হাতে নিলো।
আমি এবার ফোন দেব। অপর প্রান্ত থেকে রিসিভ করলেই তো বুঝতে পারবো নারী না পুরুষ ভর দুপুরে বিনাবাক্যে ফোনের টাকাগুলো নষ্ট করছে।
ফোন বাজছে। অপর প্রান্ত থেকে কেউ ধরছে না।
মেঘ এবার অবাক হয়ে বললো,
আরে আশ্চর্য ? এতক্ষন ফোন করে কথা না বলে চুপচাপ আমার কন্ঠ শুনছিলো আর যখন আমি ফোন করলাম, ফোনই ধরছে না!
এবার ঠেলা সামলাও। যতক্ষন না ফোন রিসিভ করবে, আমি ফোন করেই যাব। এটা যে কোন মেয়ের নাম্বার সেটা বুঝতে আমার বাকি নেই। এখন ভয়ে ফোন ধরছে না।
ফোন অবিরাম বেজেই যাচ্ছে। মেঘ ফোনের খেলায় মেতে উঠেছে। ঠিক আগের মত। একটা সময় ছিলো যখন মেঘ অনেক মেয়ের সাথেই ফোনে আলাপ জমিয়ে ফেলতো। মেয়েরা খুব সহজেই মেঘের কথার জালে আটকে পরতো। মেয়ে পটানোর এক ঐশ্বরিক ক্ষমতা নিয়েই মেঘ জন্মেছিলো। তার ভূবন ভোলানো হাসি খুব সহজেই মুগ্ধ করতো যেকোন নারীকে। কিন্তু অবন্তিকে প্রেমের জালে  জড়াতে অনেক বেগ পেতে হয়েছিলো মেঘকে। এই মেয়েটাই মেঘের বারোটা বাজিয়ে দিয়েছিলো। কিছুতেই বশ মানে না। কিন্তু মেঘও নাছোরবান্দা। শেষ পর্যন্ত ঠিকই অবন্তিকে প্রেমের জালে আটকে ফেলেছিলো। এরপর কত ঘটনা ঘটে গেছে জীবনে…
মেয়েটা আমাকে সত্যি ভালবেসেছিলো। মেঘের বুকের ভেতরটা হঠাৎ মোচড় দিয়ে উঠলো। স্মৃতির পাতায় ভেসে উঠলো অবন্তির করুণ মুখ!
সেদিন আমি অবন্তির এক সমূদ্র ভালবাসাকে প্রত্যাক্ষাণ করেছিলাম। আমার দম্ভ-অহংকার আমাকে বিবেক শূন্য করে ফেলেছিলো। মেয়েদের মন নিয়ে খেলার নেশায় আমি এতই মত্ত ছিলাম যে সত্যিকারের ভালবাসাকে পরোখ করে দেখার সুযোগ আমার হয়নি। অবন্তিকে ফিরিয়ে দিয়েছিলাম। ওর হৃদয় ভাঙ্গা আর্তনাদ আমার পাষাণ হৃদয়কে এতটুকু বিচলিত করতে পারেনি! অবন্তির চোখের জলের অভিশাপই এখন আমি বয়ে বেড়াচ্ছি। অবন্তি আমাকে কোনদিনও ক্ষমা করবে না।
আচ্ছা ? আমার কথা ওর মনে পড়ে ?
মুঠোফোনটা বেজে উঠলো.. সেই অপরিচিত নাম্বার!
মেঘ তাড়াতাড়ি ফোন রিসিভ করলো।
এবারও অপর প্রান্ত থেকে নি:শব্দরাই দল বেঁধে কথা বলছে।
মেঘ দুচোখ বন্ধ করে ফেললো। ফোনের অপর প্রান্তে নিস্তব্ধ বর্ষার ধ্বনি মেঘকে জানিয়ে দিয়েছে ভালবাসায় প্রত্যাক্ষাত এক হৃদয় এখনও তাকে মনে রেখেছে।
এভাবে নিরবে অনেকটা সময় পার করে ফেললো দু প্রান্তের দুটি হারানো হৃদয়।
নিস্তব্ধতা কাটিয়ে কাঁপা কন্ঠে মেঘ বললো,

অবন্তি?

নাহ্ নিরুত্তর !
আমি জানি, তুমি অবন্তি..! তোমার নিশ্বাসের প্রতিধ্বনি আমাকে জানিয়ে দিয়েছে তুমি সেই অবন্তি…!!!!
অবন্তির দুচোখ ছলছল করছে। দশ বছর! এত বছর পর মেঘ কি করে বুঝতে পারলো, ফোনের এপারে আমি?
ওর জীবনে তো অনেক মেয়ে এসেছিলো। আমি তো তাদের ভীড়েই একজন ছিলাম যাকে মেঘ কখনও ভালবাসেনি। তাহলে কিভাবে বুঝলো আমি?
মেঘ শান্ত স্বরে অবন্তিকে বললো,
অবাক হচ্ছো? যে কিনা তোমার ভালবাসাকে ফিরিয়ে দিয়েছিলো সে দশ বছর পর কি করে বুঝতে পারলো ফোনের অপর প্রান্তের নির্বাক মানুষটি তুমি?
অবন্তি কিছু বললো না। এক জীবনের সকল অভিমান এই মানুষটাকে ঘিরে। তার সাথে কথা বলা যাবে না।
মেয়েদের মন নিয়ে খেলতে খেলতে আমি হয়ে গিয়েছিলাম পাক্কা খেলোয়াড। মেয়েগুলোও ছিলো ঠিক আমারই মত। কিন্তু একমাত্র তুমি ছিলে ব্যতিক্রম । তোমার সাথে মিথ্যা ভালবাসার অভিনয় করতে করতে কখন যে আমি তোমাতে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিলাম, বুঝতে পারিনি। তোমাকে যেদিন ফিরিয়ে দিয়েছিলাম, সেদিন আমার সেকি গর্ব, সেদিন আমি জয়ের হাসি হেসেছিলাম, আর তুমি পরাজয়ের গ্লানি মাথায় নিয়ে ফেলেছিলে চোখের জল! চলে গিয়েছিলে অনেক দূরে!
অবন্তি,তুমি চলে যাওয়ার পর আমি একটু একটু করে উপলব্ধি করলাম, তুমিহীনা আমি পুরোপুরি অস্তিত্বহীন। কি করে আমি তোমার মাঝে হারিয়ে গিয়েছিলাম, আমি নিজেও জানি না। তোমাকে হারিয়ে আমি মর্মে মর্মে টের পেয়েছি প্রিয়জন হারানোর ব্যথা! অভিমানী তুমি কখনও জানতেও পারোনি এ অধম তোমাকে কতটা ভালবেসেছিলো! আজও আমি তোমাকেই ভালবাসি.. তোমারই প্রতীক্ষায় আমার প্রতিটি প্রহর কাটে। জানি আমায় কোনদিন তুমি ক্ষমা করবে না। তোমাকে দেয়া কষ্টরা আমায় এতটাই অভিশাপ দিয়েছে যে আমি মাত্র আর কয়েকমাসের অতিথি এই পৃথিবীতে।
ফোনের ওপার থেকে ভেসে এলো চাপা কান্নার করুণ শব্দ।
মেঘ কিছুক্ষন নির্বাক দেয়ালে ঝোলানো ঘড়িটার দিকে তাকিয়ে রইলো!
এ মুহূর্তটাকে যদি বেঁধে রাখতে পারতাম! আমার মত একজন পাষন্ড প্রতারকের জন্য তার প্রেয়সী চোখের জল ফেলছে!
অবন্তী, কথা বলবে না?
অবন্তি নিশ্চুপ!
দশটি বছর শুধু তোমার প্রতীক্ষায় বসে ছিলাম। কিন্তু আজ এত বছর পর যখন তোমার সাথে যোগাযোগ হলো, তখন এভাবে চুপ করে থেকে আমাকে কষ্ট দিওনা। এই মুহূর্তটাকে দশ বছর থেকেও দীর্ঘ মনে হচ্ছে।
অবন্তির চোখের সামনে জ্বল জ্বল করে ভাসছে মেঘের সাথে শেষবার দেখা হবার সেই ঘটনাটা।
কি অপমানই না মেঘ সেদিন করেছিলো অবন্তিকে। নতুন প্রেমিকার হাত ধরে পৃথিবীর সবচেয়ে বোকা মেয়েটিকে ভালবাসার জগৎ থেকে দূর দূর করে তাড়িয়ে দিয়েছিলো। কোথায় গেলো সেইসব প্রেমিকারা? কেন আজ মেঘ একাকী, নি:সংগ? তাহলে কি আমাকে দেয়া কষ্টের অভিশাপেই?
অবন্তি ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো, আমিতো মেঘকে অভিশাপ দেইনি? ভালবাসার মানুষকে অভিশাপ দেয়া যায়?
অবন্তি ? মেঘের করুণ আকুতি।
জানি আমার প্রতি তোমার মনে অনেক অভিমান, ক্ষোভ জমে আছে। আমি ক্ষমার অযোগ্য । সবাই আমাকে একে একে ছেড়ে চলে গেছে। কিন্তু আজ এত বছর পর যখন তুমি আমায় ফোন করলে, তাহলে ধরে নেব, চাইলেও তুমি আমাকে মন থেকে ঘৃনা করতে পারনি, পারনি ভুলে যেতে। এখনও তোমার হৃদয়ের কোন এক গোপন প্রকোষ্ঠে মেঘের অস্তিত্ব রয়ে গিয়েছে। আজ আমি অনেক দিন পর শান্তিতে ঘুমোতে পারবো। পৃথিবী ছেড়ে যেতে আর আমার কষ্ট হবে না। জানি আমার অভিমানী অবন্তি আর কোনদিনও আমার সাথে কথা বলবে না। না বলুক! তোমার নিরুত্তর হৃদস্পন্দনই হোক এই অধমের এক টুকরো প্রাপ্তি!
অবন্তি মনে মনে শুধু এটুকুই বললো,
তুমি কেমন আছো শুধু এটুকু জানার জন্যই তোমাকে ফোন দিয়েছি। আর কোন কারণ নেই। তোমার দেয়া দহনে জ্বলেপুড়ে ছাই হয়ে আমার নবজন্ম হয়েছে। ঠিক ফিনিক্স পাখির মত। আমার ক্ষতবিক্ষত হৃদয়টাকে কেউ একজন তার ভালবাসার স্পর্শে রাঙিয়ে দিয়েছে। এখন আমি তাকেই ভালবাসি।
অবন্তি? কোথায় তুমি?
আকাশের কন্ঠ শুনে অবন্তি তাড়াতাড়ি চোখের জল মুছে ফেলে ফোনটা হাতের মুঠোর মধ্যে ভরে ফেললো।
একগুচ্ছ কদমফুল হাতে আকাশ এসে হাজির অবন্তির সামনে,

“বাদলও দিনেরও প্রথমও কদমও ফুল…”

অবন্তি হেসে ফুলগুলো হাতে নিয়ে আকাশকে বললো,
আমার ভুলোমনো বরটার আর কিছু মনে না থাকুক, বর্ষার প্রথম দিনের  কদমফুল আনতে ভুল হয়না।
ভুল হবে কি করে? আমার একমাত্র আদরের বউয়ের প্রিয় ফুল!
অবন্তি ফোনটা সুইচড্ অফ করতে ভুলে গিয়েছিলো। মেঘ চুপচাপ অবন্তি আর আকাশের কথা শুনছিলো।
অবন্তি আকাশকে ছোট্ট একটা ধমক দিয়ে বললো,
আদরের বউয়ের জন্য প্রিয় ফুল আনতে গিয়ে নিজের তো চৌদ্দটা বাজিয়ে ফেলেছো। সারা গায়ে কাদায় মাখামাখি। কি কদমগাছে উঠেছিলে নাকি?
আকাশ অট্টহাসিতে ফেটে পরলো।
হুমম কাদায় মাখামাখি করেছি। এখন এই কাদায় তোমাকেও মাখবো! আকাশ অবন্তির কাছে আসতেই অবন্তি ছুটতে লাগলো।
অবন্তি ছুটে পালাচ্ছে, খবরদার আকাশ! তুমি আমাকে এই কাদা গায়ে ধরবে না। ভাল হবে না কিন্তু!
অবন্তি আর আকাশের ছেলেমাুনষি, খুনসুটি মেঘ এতক্ষন উপভোগ করছিলো।

অবন্তি ঠিক ওর মনের মত মানুষকেই জীবনসঙ্গী হিসেবে পেয়েছে। মেঘের মনটা সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞতায় ভরে গেল।

নাহ্ ! ওদের মাঝে আর নাই বা থাকলাম । ফোনটা কেটে দিলো।
বৃষ্টি থেমে গেছে। সোদা মাটির গন্ধটা আরো প্রকট হয়েছে। মেঘ আবার জানালার পাশে এসে দাঁড়ালো । খোলা আকাশের দিকে তাকালো। কালো মেঘ সরে গিয়ে ধীরে ধীরে আকাশটা স্বচ্ছ হচ্ছে।
মেঘে অস্ফুটোস্বরে বলে উঠলো,
অবন্তি তুমি ভাল থেকো, সুখে থেকো, মেঘের আড়ালে কখনই তোমার স্বচ্ছ আকাশ ঢাকা পড়বে না। দূর থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মেঘ তোমার মঙ্গল কামনা করে যাবে…!!!!

Comment

Comment

   
ই-মেইলঃ mohioshi@outlook.com
ফেসবুকঃ www.facebook.com/mohioshibd
মোবাইলঃ ০১৭৯৯৩১৩০৭৮, ০১৭৯৯৩১৩০৭৯
ঠিকানাঃ ১০/৮, আরামবাগ, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
কপিরাইট ©  মহীয়সী