নারী নির্যাতন ও নারীধর্ষণের কারণ ও প্রতিকার কী??

রিফাত কান্তি সেনঃ 

মানবতা আজ অসুস্থ মানুসিকতায় পরিনত হয়েছে।পত্রিকার পাতা গুলোতে তাকালেই ধর্ষণ,লুটতরাজ,হত্যা,অপমৃত্যুসহ সামাজিক নানা অপরাধের চিত্রগুলো দেখছি আমরা। যদি দেশের অভ্যন্তরীন কথা চিন্তা করি;তবে যে অমানবিক দিকটির কথা চিন্তা করতে হয়, তাহলো নারীধর্ষণ,শিশুধর্ষণ।প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও ধর্ষণের খবর পাচ্ছিই আমরা।

আমরা আবেগপ্রবন এক জাতি,কিন্তু স্বার্থের কাছে ইহা প্রতিবারই বিসর্জিত।মানবিকতা অনেকটাই নিচে নেমে গেছে; তাইতো প্রাইমারী পড়ুয়া নারীশিশুদের থেকে শুরু করে উচ্চ শিক্ষিত কেউই বিষাক্ত সাপের ছোবল থেকে রক্ষা পায়না। অসুস্থ মানুসিকতার বলি হচ্ছে তাঁরা।তনু থেকে শুরু করে রূপা কেউই রক্ষা পায়নি বিষাক্ত এসব সাপদের ছোবল থেকে।এমনকি ছোট্ট শিশুর্ওা। কয়েক দিন আগে কুমিল্লায় ধর্ষণের শিকার হয়ে প্রাণ হারাতে হয়েছিলো তনুর।ঠিক এর ক’দিন পরই বাসে গনধর্ষণের শিকার সিরাজগঞ্জের রুপা খাতুন।এছাড়া প্রতিদিনই কোন না কোন ধর্ষণ, হত্যা, লুন্ঠনের খবর আমরা শুনতে পাই।কেউ, কেউ বলবে,’নারী কেনো ঘরের বাইরে যাবে? এত রাতে ঘরের বাইরে কী? একা-একা রান্তায় চলা ঠিক নয়।’এসবই বলবে কিছু সুশীল সমাজের লোকেরা। তাইলে প্রশ্ন হচ্ছে এটা কী নারী স্বাধীনতার পরিপন্থী? স্বাধীন দেশে নারী কেনো ভয়ে পরাধীন থাকবে?

দিনের পর দিন শুধু এই অপকর্মগুলো বেড়েই চলেছে।মানবিক দৃষ্টি যেন নূইয়ে পড়েছে।দয়া-মায়া যেন বিসর্জন দিয়ে ফেলেছে কিছু মানুষ। প্রতিবাদ হচ্ছে কিন্তু তা আবার অন্য ঘটনায় ধামা চাপা খেয়ে যাচ্ছে।এমতবস্থায় কিছু মানুষের মানুসিকতা হীনমন্যতায় রুপ নিয়েছে।কেনো মানুষের এই মূল্যবোধের অবক্ষয়? কেনো মানুষ অমানুষে রুপান্তর হচ্ছে? যেনো এটি এখন প্রশ্ন হয়ে দাড়িয়েছে।অমানুষ এসব নরপশুদের  হাত থেকে বাদ যাচ্ছে না কোমলমতী শিক্ষার্থীরাও। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো ধর্ষকদের আইনের কাছে সোপর্দ করা হলেও ;আইনের ফাঁক-ফোকর দিয়ে ঠিকই এরা জামিনে বেড় হয়ে যাচ্ছে।ফলস্বরুপ আবার অপকর্মে জড়ানোর সম্ভাবনা থেকে যাচ্ছে। জামিনে মুক্তির কারণে আত্ববিশ্বাস বাড়ছে অন্য নরপশুদের।

 

কেনো ঘটছে এসব অপকর্মগুলো?

১) সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়।

২) রীদের অসচেতনতার দরুন।

৩) নারীর পোষাক-আশাকেউশৃঙ্খলতা।

৪) পুরুষের হীনমন্যতা।

৫)মাদকের প্রাদুর্ভাব।

৬)বেকারত্ব।

৭)নারীর প্রতিপুরুষের লালসা।

৮)যৌন উত্তেজক ঔষধের অবাধ ছড়াছড়ি।

৯)নেশাগ্রস্থ ,বিবেকহীনমানুষ।

১০)নারীকে ভোগপণ্য ভাবা।

১১) সঙ্গদোষ।

১২) সুশিক্ষার অভাব।

১৩) বিদেশী সংস্কৃতির প্রভাবে।

 

প্রতিকার:

ক্             বিশেষ ট্রাইব্যুনালে দ্রুত বিচার করে সর্বচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করা।

খ             সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা।

গ             জাপানের মত প্রাথমিক স্তর থেকেই তিনটি জিনিসের উপর গুরুত্ব দ্ওেয়া:-

কননিচিওয়া (হ্যালো)-পরিচিতমানুষকে দেখামাত্র হ্যালো বলবে।

আরিগাতোউ (ধন্যবাদ)-সমাজে বসবাস করলে একে অপরের উপকার করবে।সর্বদা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে।

গোমেননাসাই (দুঃখিত)-ভুল হলে ক্ষমা চাইবে।এতে করে ছোটকাল থেকে মানুসিকতার পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাবে।

ঘ             ধর্ষক যত প্রভাবশালী  হোক না কেনো,আইনের মার প্যাঁচে যেনো  সে পার না পেয়ে যায়।

ঙ             ধর্ষকের ছবি প্রকাশ করা এবং ধর্ষণের শিকার হ্ওয়া ব্যক্তির নয়।

চ              স্কুল-কলেজে নারী নির্যাতন সম্পর্কে সেমিনারের আয়োজন করা।

ছ             প্রচারনা বাড়ানো।

জ            অক্ষর-জ্ঞানহীন মানুষকে ধর্ষণের ভয়াবহতা সম্পর্কে জানানো।

ঝ             সমাজের সচেতন লোকদের বিষয়টি নির্মুলে এগিয়ে আসতে হবে।

 

 

লেখক:

খন্ডকালীন শিক্ষক: কড়ৈতলী উচ্চ বিদ্যালয়।

সহ-সম্পাদক:- কড়ৈতলী শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ আশ্রম।

নাগরিক সাংবাদিক,সমাজকর্মী।

জেলা: চাঁদপুর,উপজেলা: ফরিদগঞ্জ,গ্রাম: কড়ৈতলী,পো: কড়ৈতলী ।

 

ই-মেইল: senrifat3@gmail.com

 

Comment

Comment

   
ই-মেইলঃ mohioshi@outlook.com
ফেসবুকঃ www.facebook.com/mohioshibd
মোবাইলঃ ০১৭৯৯৩১৩০৭৮, ০১৭৯৯৩১৩০৭৯
ঠিকানাঃ ১০/৮, আরামবাগ, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
কপিরাইট ©  মহীয়সী