“প্রসঙ্গ যখন সম্পর্ক “

সালমা তালুকদারঃ

ভাবার কোনো কারণ নেই যে,একটা সম্পর্ক একবার তৈরী হয়ে গেলে তা আজীবনের জন্য থেকে যায়।যে কোনো সম্পর্ক যে কোনো মুহূর্তে ভেঙ্গে যেতে পারে।চোখের সামনে স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক, বাবা মা এর সাথে ছেলে মেয়ের সম্পর্ক, ভাই বোনের সম্পর্ক, কঠিন বন্ধুত্ব,কঠিন ভালোবাসা ভেঙ্গে যেতে দেখে এই অভিজ্ঞতা লাভ করেছি।আমি নিজেও অশালিন কথা,হিংসাত্বক আচরণের জন্য সম্পর্ক ভেঙ্গে সামনে এগিয়েছি।খারাপ লেগেছে তবু পেছন ফিরে তাকাইনি।আশা করেছি ভুল বুঝবে।ফিরে আসবে।আসেনি।যারা দিন শেষে নিজের ভুল বুঝে শোধরাতে না পারে তাদের সাথে নিয়ে পথ চললে নিজেকেই বিপদে ফেলে দেয়া হবে।সম্পর্ক ঠিক ঠাক রাখতে চাইলে তা মেইনটেইন করতে জানতে হয়।সেটা যে কোনো সম্পর্কই হোক না কেন।
এমন অনেক সম্পর্ক আছে যারা নিজেরা সম্পর্ক মেইনটেইন করে না বা করতে জানে না।কিন্তু অপর পক্ষ থেকে আশা করে। যাদের কখনো ছাড়া যায় না।সাথে নিয়েই চলতে হয়।হতে পারে তার দ্বারা ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা আছে।সেক্ষেত্রে বিবেক খাটিয়ে বুঝে পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে।না পারলে সত্যিই তাকে পেছনে ফেলে সামনে এগোতে হবে।কারণ কখনোই জীবন কারো জন্য থেমে থাকে না।যে জীবনকে আমরা থামিয়ে দিতে চাই।প্রতিনিয়ত বসে থেকে মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করি, সেটা কোনো জীবনই না।

বর্তমান সমাজে স্বামী স্ত্রী সম্পর্ক সবচেয়ে কঠিন সম্পর্ক। আজকে সকালেই একটা আর্টিকেল পড়ছিলাম।স্বামী স্ত্রী দুজনেই বিদেশে থাকেন।স্বামী তার স্ত্রীর কোনো রকম হকই পূরণ করেন না।দুইজন এক বাসায় থাকেন একেবারেই অপরিচিতের মতো।প্রয়োজন যখন স্বামীর তখন তিনি এগিয়ে আসেন।স্ত্রীর প্রয়োজনের কোনো খবর রাখেন না।যার ফলে স্ত্রী এখন পর্যন্ত সন্তানের মা হতে পারেননি।তাকে স্বজনরা বন্ধ্যা বলতেও ছাড়েন না।শ্বাশুরীর প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলতে পারেন না তার ছেলেই দায়ী এজন্য।ছেলে তার অনেক ব্যাস্ত।সারাদিন অফিস,টিভি,ল্যাপটপ নিয়ে ব্যাস্ত থাকেন।রাতে বিছানায় শুতে এসেই জানিয়ে দেন কোনো শব্দ যেনো করা না হয়।তিনি ভীষণ ক্লান্ত।স্ত্রী বাচ্চা নেয়ার কথা বা সেক্স নিয়ে কথা বলতে গেলে বলেন ছিঃ তুমি না বাঙালী মেয়ে?এগুলো বলো কি করে? লজ্জ্বা করে না?এভাবে স্ত্রীর যে কোনো কথা আটকে যায় স্বামীর ভদ্রতার কাছে। তবে যখন কোনো কিছু প্রয়োজন হয় তখন সুন্দর করে বলে,”মায়া একটু এদিকে এসো তো।”মহিলার নাম মায়া।এই কারণেই হয়তো তিনি এতো মায়াবতী।স্বামীর মুখে নিজের নাম শুনলে তিনি সবকিছু ভুলে যান।পুরো লেখা জুড়ে ছিলো তার দীর্ঘশ্বাস।লেখাটা পরে যে কারো মন খারাপ হয়ে যাবে।

আমার ভালো লাগেনি।কারণ যেহেতু সন্তান নেই,তিনি নতুন করে জীবন শুরু করতে পারতেন।এরকম অসংখ্য পরিবার আছে।বেশির ভাগ পরিবারে সন্তানের ভালোর জন্য মা সেক্রিফাইজ করেন।চলে যান না সুখের আশায় অন্য কোথাও।তবে আমি বলবো যদি যাওয়ার কোনো অপশান থাকে যাওয়া উচিৎ।সন্তান ফেলে যাওয়ার পক্ষপাতি আমি না।স্বাবলম্বী নারী তার গর্ভের সন্তানকে সাথে করে নিয়ে যাওয়া উচিৎ।কারণ যে পুরুষ তার স্ত্রীর না সে তার সন্তানেরও না।আর মা তো মা ই।আর যদি যাওয়ার কোনো জায়গা না থাকে বা মা যদি স্বাবলম্বী না হন তাহলে যুদ্ধ করে আল্লাহ্‌ তায়ালার উপর ভরসা করে থেকে যাওয়াকে আমি দোষের কিছু মনে করি না।কারণ দিন একসময় সবারই আসে।তবে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে, পরিবারে অবশ্যই নিজের একটা অবস্থান তৈরী করে নিতে হবে।অবস্থানটা কিভাবে তৈরী করতে হবে সেটা বুদ্ধি খাটিয়ে নিজেরই বের করতে হবে।

সব কিছুর পরেও একটা কথা থেকে যায়।সেক্স।পুরুষ যেহেতু তার স্ত্রীর কাছে আাসছে না,বুঝতে হবে সে তার চাহিদা অন্য কোথাও মেটাচ্ছে।অথবা তার কোথাও কোনো সমস্যা হচ্ছে।সেটা খুঁজে নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করতে হবে।আর সত্যিই যদি স্বামীর বহুগামিতা থাকে সেক্ষেত্রে স্ত্রীকে কোনো সিদ্ধান্তে আসতে হবে।কারণ স্ত্রী যখন অন্য কারো বুকে শান্তি খুঁজতে যাবে সমাজ তখন ঠিকই আঙ্গুল তুলবে।ভেতরটা আর তলিয়ে দেখবে না।সেক্ষেত্রে চাহিদা অনুযায়ী সে কি করবে এটা বোধ হয় সেই মহিলার উপর ছেড়ে দেয়া উচিৎ।কারণ আমার নিজের এক আত্মীয়ার বিয়ে হয়েছে এগার বছর বয়সে।বিশ বছর হতে না হতে তিনি তিন সন্তানের মা হয়েছিলেন।এবং বিশ বছরেই তিনি স্বামীহারা হন।তার শ্বাশুরী তাকে মা এর মত আগলে রেখেছেন।ব্যাস্ত রেখেছেন।তার চরিত্রের উপর কেউ আঙ্গুল তুলতে পারেনি।সন্তানরা বড় হয়ে বিয়ে হয়েছে তখন তার শ্বাশুরী মারা গেছেন।তিনি পেরেছেন।সবাই পারে না।তাই বলেছি এটা তাদের ব্যাপার।চাহিদা অনুযায়ী কিভাবে পরিস্থিতি সামাল দিবেন।তবে সব সময় সর্বাবস্থায় ঘুরে দাঁড়ানোর পক্ষপাতি আমি।একেক জনের ঘুরে দাঁড়ানোর স্টাইল একেক রকম।সেটা বুঝে নিয়েই ঘুরে দাঁড়াতে হবে।
এই কথাগুলো কেবল তাদের জন্য যারা জীবনে ব্যর্থ হতে চায় না।সম্পর্কের জালে জড়িয়ে ঘরে বসে থেকে কেবল চোখের জলে বুক ভাসাতে চায় না।সমস্যাকে ভয় না পেয়ে তার সমাধানের জন্য সদা উৎসুক থাকে।তাদের জন্য, যারা নিজের এই ছোট্ট জীবনটাকে ভালোবাসে।হাত পা গুটিয়ে বসে না থেকে জীবনের মূল্য খোঁজার চেষ্টা করে।নিজের ভেতরের সুপ্ত প্রতিভাকে জাগ্রত করায় সচেষ্ট হয়।

 

 

Comment

Comment

   
ই-মেইলঃ mohioshi@outlook.com
ফেসবুকঃ www.facebook.com/mohioshibd
মোবাইলঃ ০১৭৯৯৩১৩০৭৮, ০১৭৯৯৩১৩০৭৯
ঠিকানাঃ ১০/৮, আরামবাগ, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
কপিরাইট ©  মহীয়সী