বের হয়েছে খায়রুল ইসলাম সুহেবের গোলাপগঞ্জের বাতিঘর!

নোমান মাহফুজ:

গোলাপগঞ্জের বাতিঘর! গ্রন্থনা ও সংকলক: মোহাম্মদ বদরুল ইসলাম সুহেব। প্রকাশক: পান্ডুলিপি প্রকাশন, সিলেট  প্রকাশকাল: অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৮। প্রচ্ছদ: বায়েজীদ মাহমুদ ফয়সল। শুভেচ্ছা বিনিময়: ৪০০ টাকা। গোলাপগঞ্জের বাতিঘর। একটি তথ্যবহুল গ্রন্থ। মনকাড়া প্রচ্ছদে মোড়ানো তথ্যের ডায়রী। গোলাপগঞ্জের প্রতিটি স্কুল কলেজ মাদরাসার প্রাথমিকসহ প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সাজানো হয়েছে বইটি। যা ইতিহাস ঐতিহ্যের স্মারক হিসেবে গোলাপগঞ্জের ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে থাকবে। চারটি অধ্যায়ে পুরো বইটি অত্যন্ত সুন্দরভাবে সাজিয়েছেন। বইটিতে যা যা পাবেন; গোলাপগঞ্জ উপজেলার উৎপত্তি, নামকরণ ও ইতিহাস। আধুনিক শিক্ষায় গোলাপগঞ্জ। প্রথম অধ্যায়ে গোলাপগঞ্জ উপজেলার ডিগ্রী কলেজ, কলেজিয়েট স্কুল ও আলিয়া মাদরাসা সমূহের অতিত বর্তমানের যুগান্তকর তথ্যকোষ দিয়ে সাজিয়েছেন পর্বটি। দ্বিতীয় অধ্যায়ে উচ্চবিদ্যালয় ও দাখিল মাদরাসার বিভিন্ন তথ্য উপস্থাপন করেছেন। তৃতীয় অধ্যায়ে সরকারি অনুদান ছাড়া কলেজ, উচ্চবিদ্যালয় ও দাখিল মাদরাসা এবং চতুর্থ অধ্যায়ে ক্বওমি মাদরাসা, হাফিজিয়া মাদরাসা, সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেনের নাম, প্রতিষ্টাকাল, মুহতামিম, প্রধান শিক্ষক, অধ্যক্ষের নাম, মোবাইল নাম্বারসহ পৌরসভা ও ইউনিয়ন ভিত্তিক স্থরে সাজিয়ে তুলেছেন ডায়রীর পাতার মতো। যে সব তথ্য দিয়ে বইটি সাজানো তার প্রতিটি তথ্য উপাদানী শিক্ষক, সাংবাদিক, লেখক, গবেষক এমনকি প্রত্যেক সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্টানের জন্য ডায়রি হিসেবে বিবেচ্য। লেখকের দীর্ঘ পরিশ্রমসাধ্য এ বইটির মোড়ক উম্মোচন অতি শীঘ্রই করবেন সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ -বিয়ানীবাজার) আসনের এমপি, বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ করবেন। বইটি পেতে যোগাযোগ করতে পারেন সরাসরি ০১৭১৬-০২৯৮৫৩ নাম্বারে লেখকের সাথে। মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম সুহেব একজন সদালাপী মানুষ। তিনি সকলের কাছে একজন সাংবাদিক, সাহিত্যানুরাগী ও গ্রন্থপ্রেমিক হিসেবে পরিচিত। ১৯৭৯ সালের ১৬ জুলাই গোলাপগঞ্জের লক্ষণাবন্দ ইউপির মুকিতলা গ্রামের কৈলাশ মোকাম বাড়িতে মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম ও রাবেয়া খাতুনের ঔরসে জন্মগ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি ঢাকাদক্ষিণ ডিগ্রী কলেজের সহকারি লাইব্রেরিয়ান হিসেবে কর্মরত আছেন। লেখকের সংকলন ও গ্রন্থনা প্রেক্ষাপট সত্যিকারার্থে প্রশংসার দাবী রাখে। পরিবার, সমাজ, চাকুরীর পাশাপাশি তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করতঃ একটি উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্টানের তথ্যগুলো একই মলাটে লিপিবদ্ধ করেছেন, যা অনেকের আশ্চর্যজনক! তবে কথা অাছে, “সবাই পারে যাহা আমিও পারিবো তাহা”। এমন মানসিকতার জন্য শুহেব ভাই কৃতকার্য হতে পেরেছেন। যা অনেক নবীন প্রবীণ লেখক কবি সাহিত্যিক সাংবাদিককে অনুপ্রেরিত করবে বলে আশাবাদী। দীর্ঘ ১৬০ পৃষ্ঠার এ গ্রন্থে লেখক যেন নিরলসভাবে কলমের দ্বারা জমিন চাষ করে গেছেন। লেখক পেশায় একজন সাংবাদিক ও লাইব্রেরিয়ান। পেশাগতভাবে একজন সাংবাদিকের দায়িত্ব সততা ও ন্যায়নিষ্ঠাবান হওয়া। সেরকম দায়িত্ব থেকেই তার তথ্যপূর্ণ লেখাগুলো শক্তিমান হয়ে সমাজ, এলাকা, রাষ্ট্র তথা জনসাধারণের ওপর শাণিত। প্রতিটি তথ্য আমার কাছে মনে হয়েছে নক্ষত্রসম। গ্রন্থটি গোলাপগঞ্জের ইতিহাসে অনন্য এক দলিলপত্র। আর এই দলিলের লেখক সংকলক খায়রুল ইসলাম সুহেব অনন্য ইতিহাসের দলিল লেখক হয়ে অমর হয়ে থাকবেন। প্রত্যেক জাতি তার ঐতিহ্য অবদান নিয়ে বেঁচে থাকতে চায়। ইতিহাস  ঐতিহ্য একটা গুষ্টিকে সম্মান এনে দেয়। বিশেষ কোনো ব্যক্তির কারণে বৃদ্ধি পায় গোটা জাতির সম্মান। এই জন্যই সবাই তাদের ঐতিহ্য ধরে রাখতে চায়। আর ধরে রাখার নিমিত্তবোধ নিয়েই দীর্ঘ সাধনা বন্ধনার ফসল হিসেবে গোলাপগঞ্জবাসীর কাছে ‘গোলাপগঞ্জের বাতিঘর’ নামক বই তুলে দিলেন সুহেব ভাই। প্রত্যেক প্রকাশনা কিংবা লেখনীতে ইতিবাচক নেতিবাচক দিক থাকে। তবে আমাদের সমাজের বর্তমান অবস্থা হলো ইতিবাচকতা না খুঁজে নেতিবাচক নিয়ে সমালোচনায় ব্যস্থ থাকেন। লেখকের প্রকাশনা কার্যক্রমে কোন তথ্য উপাত্তে ভুলভ্রান্তি থেকে থাকলে লেখকের সাথে আলাপ করে নিলে সুন্দর হয়। লেখক তার পরবর্তী সংস্করণে সঠিক তথ্যটা দিবেন। সুহেব ভাই নিজেও এ ব্যাপারে আমাকে বলেছেন। আসুন! আমরা লেখকের এ উপহারকে ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করি। যার ফলে পরবর্তী প্রজন্মরা ইতিহাস ঐতিহ্য ধরে রাখতে পারে। সর্বোপরি লেখকের সুস্বাস্থ্য ও গোলাপগঞ্জের বাতিঘরের সফলতা কামনা করি।

Comment

Comment

   
ই-মেইলঃ mohioshi@outlook.com
ফেসবুকঃ www.facebook.com/mohioshibd
মোবাইলঃ ০১৭৯৯৩১৩০৭৮, ০১৭৯৯৩১৩০৭৯
ঠিকানাঃ ১০/৮, আরামবাগ, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
কপিরাইট ©  মহীয়সী