নারীর মন ও অপরাধবোধ!

যূথিকা জাকারিয়াঃ

বস্তুত সমাজের নিয়মের কারণে বিচ্ছেদ যেকারণেই ঘটুক পুরুষটি গায়ে দাগ লাগেনা। যখন কোন নারীর সংসার ভাঙে, দোষ চাপানো হয় আরেক নারীর কাঁধে।সেই অপর নারীটি নোংরা, তাই তার স্বামী ফাঁদে পড়েছে।কয়না যে আমার জামাইর চরিত্রের দোষ আছে।ইনিয়ে বিনিয়ে বিলাপ করে, পরের ঘাড়ে তো বটেই নিজেরেও কাঠগড়ায় দাঁড় করায়। খুঁজতে থাকে রোজকার জীবনে তার কোথায় গলদ ছিলো!!সেকি দৌপদীর মতো রাঁধুনী নয়?দাম্পত্য জীবনে সে কি হতে পারে নাই রম্ভা কি মেনকার মতো রঙ্গময়ী? আর কিছু না পেলে আঁতিপাতি করে খোঁজে বেনানারসির ভাজে, কোথাও লালের সাথে কালো সুতা মিলে কিনা! বউ শ্বাশুড়ি ননদের ঝগড়ায় বউয়ের স্বামী প্রবরটি নিরাপদেই থাকেন তারে কেউ টানেনা।মা বলে বউ আমার মানিকের মাথাডা খাইছে তো বউ বলে শ্বাশুড়ী মাগী শয়তান। বুড়ি মরলে মাজারে হরির লুট দিমু। সব সব দোষ নারীর, তা সে সন্তানহীনতা হোক চাই তালাক বা ধর্ষণ। ধর্ষণের মতো গুরুতর দোষও পড়বে নারীর ঘাড়ে যেন সে ঢঙ কইরাই মরতে গেছিল। সবার আগে চেঁচাইবো আরেক নারী,তুই কেন গেলি? নিশ্চয় আগে কতা কইছিলি,তারে ক্যামনে চিনস?

পুরুষ তো বটেই নারীও নারীরেই দোষী করে সবেতেই।যেন পুরুষ বড় বিশ্বাসের, তারে তো অবিশ্বাস করাই সম্ভব না।যতোই সে প্রেম কি বিয়ের কথা বলে নিয়ে তুলুক লিটনের ফ্ল্যাটে কি বেঁচে দিক পল্লীর কোন মাসির কাছে।যতো যাই হোক মুরুব্বী রা যেমন কইতো আজো তেমনিই আছে সব সোনার আংটি আবার ব্যাকা!সাত মাইয়ার বছর বিয়ানি মাও তাই তার বহুফষল তোলা শরীর নিয়ে আরেকবার স্বামীর সোহাগ যাচে,এইবার যুদি খোদার আরশ নড়ে! এইবার যুদি পুলা হয় যুদি লাইগ্যা যায় লটারী!! হায় কেন যে জন্মায় বছর বছর এতো মাইয়া!! যদিও বিজ্ঞাণ বলে সব দেশেই মোটামুটি কন্যাশিশু জন্মের হার কম।তবুও মায়েরা দেবতার থানে মাজারে মাজারে হত্যে দিয়ে পড়ে একটা পুত্রের আশায়।যেন পুত্র সনন্তান জন্ম দিতে না পারলে তার নারী জন্মই বৃথা গেল।

লেখক যূথিকা জাকারিয়া

Comment

Comment

   
ই-মেইলঃ mohioshi@outlook.com
ফেসবুকঃ www.facebook.com/mohioshibd
মোবাইলঃ ০১৭৯৯৩১৩০৭৮, ০১৭৯৯৩১৩০৭৯
ঠিকানাঃ ১০/৮, আরামবাগ, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
কপিরাইট ©  মহীয়সী