একটি হারানো আইফোন ফিরে পাবার গল্প…

সৎ রিক্সাওয়ালাটির সাথে এ টি এন বাংলার জ ই মামুন

জ ই মামুনঃ

শুক্রবার মাঝরাতে গুলশান থেকে ফিরছিলাম বন্ধু রুমি নোমানের গাড়িতে। ধানমন্ডিতে বাসার কাছে গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে রাস্তা পার হয়ে যখন ঘরে ঢুকতে যাবো, দেখি পকেটে ফোন নেই। বাসায় ঢুকে অন্য ফোন থেকে রুমিকে কল করলাম, গাড়িতে ছিলেন আরেক বন্ধু জোনায়েদ সাকী। তারা তন্ন তন্ন করে খুঁজেও গাড়িতে ফোনটি পেলেন না। অথচ ফোনে কল দিলে রিঙ বাজে। তারপর গুলশানে যে বাসায় গিয়েছিলাম, সেখানে ববি ভাই আর মিঠাই মিলে হুলুস্থুল খুঁজেও যখন ফোনটির দেখা মিললো না, ধরেই নিলাম পাঞ্জাবির পকেট গলে রাস্তায় কোথাও পড়ে গেছে আমার প্রিয় জেট ব্ল্যাক আই ফোন সেভেন প্লাস।

প্রবল মন খারাপ নিয়ে ঘুমোতে গিয়ে ঘুমোতে পারি না। আজকাল ফোন তো শুধু ফোন নয়, দুনিয়ার অর্ধেক থাকে ফোনের ভেতরে। সহকর্মী কেরামত উল্লাহ বিপ্লব আমার হয়ে জিডি লিখে থানায় পাঠায়। নানাজন নানা সান্ত্বনা দেয়, সমবেদনা জানায়। আমাদের এডমিনের হেড মনির মামা আমার জন্য নতুন সিম কার্ড তুলে রাখে। কিন্তু কিসে কি, ফোনেরই তো খবর নেই। সকালবেলা বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে ভোলায় যাবার কথা ছিলো। কিন্তু ফোন হারিয়ে সেই কর্মসূচিও বাতিল করি।

সন্ধ্যার পরে সহকর্মী মাহমুদের মোবাইলে ফোন করেন চ্যানেল আই এর রিপোর্টার মাসুম। তার মাধ্যমে কথা হয় তাদের নিউজ এডিটর জাহিদ নেওয়াজ জুয়েলের সাথে। তিনি একটি ফোন নাম্বার দিয়ে বলেন, এই লোকের কাছে আছে আপনার ফোন। আমি তাকে কল দেই। তিনি শহীদ, হাজারিবাগ টালি অফিস লেনের এক রিকশা গ্যারেজের মালিক। তার গ্যারেজের এক রিকশা চালক, নাম শফিকুল, যিনি আগের রাতে ধানমন্ডি ২৭ নম্বর রাস্তায় আমার ফোনটি পেয়েছেন।

কাল রাতে কাজকর্ম শেষ করে সাড়ে ১১ টার দিকে আমি টালি অফিস লেনে পৌঁছাই। গিয়ে দেখি সেই ফোন হাতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে গ্যারেজ মালিক শহীদ, রিকশা চালক শফিকুলসহ আরো কয়েকজন। ফোনে তখনো চার্জ ছিলো। হাতে নিয়ে ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিতেই প্রাণ ফিরে পেলো আমার প্রিয় ফোন। ওরাও নিশ্চিত হলেন, ফোনটা আমারই।

ফোন ফেরত পাওয়ার গল্পের পেছনের ঘটনা শুনলাম শহীদ আর শফিকুলের কাছে। আগের রাতে ফোনটা রাস্তায় পেয়ে শফিকুল প্রথমে তার পকেটে রাখেন। কিন্তু বারবার শব্দ হয় দেখে গামছা দিয়ে পেঁচিয়ে রিকশার সিটের নিচে রাখেন। এই ফোনে কি করে কথা বলতে হয় তা তিনি জানেন না। সারাদিন ভয়ে ফোনটা তিনি ধরেনওনি। তার মনে হতে থাকে এই ফোন রাখলে তাকে পুলিশে ধরতে পারে। সন্ধ্যায় ফোনটি তিনি দিয়ে দেন গ্যারেজ মালিক শহীদুলের কাছে।

শহীদ ফোনটি আনলক করতে পারেন না। কিন্তু দেখেন একটু পরপর বিভিন্ন মেসেজ আসছে। লক অবস্থায়ও তা দেখা যায়। কিন্তু সব মেসেজ ইংরেজিতে, তিনি ইংরেজি পড়তে পারেন না। হঠাৎ বাংলায় একটা মেসেজ আসে, সেই মেসেজ পাঠান চ্যানেল আই এর জুয়েল।বাকি কাহিনী জুয়েল নিজেই লিখেছেন।

লেখকঃ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, এ টি এন বাংলা

 

 

 

 

 

 

 

 

চ্যানেল আই  এর জাহিদ নেওয়াজ খানের লেখাটি-

একটি বাংলা ক্ষুদে বার্তা, এক সৎ রিকশাচালক এবং এ টি এন বাংলার জ ই মামুনের আই ফোন ফিরে পাওয়ার গল্প

Comment

Comment

   
ই-মেইলঃ mohioshi@outlook.com
ফেসবুকঃ www.facebook.com/mohioshibd
মোবাইলঃ ০১৭৯৯৩১৩০৭৮, ০১৭৯৯৩১৩০৭৯
ঠিকানাঃ ১০/৮, আরামবাগ, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
কপিরাইট ©  মহীয়সী