কেন সবাইকে ডাক্তার হতে হবে ?!!

ডাঃ নাসিমুন নাহারঃ
______________________________

আচ্ছা আমাদের দেশের বাবা মায়েরা কেন নিজেদেরকে সন্তানের জীবনের মালিক মনে করেন, বলতে পারেন ?
অবশ্যই বাবা মা যেকোন সন্তানের জীবনের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি।কিন্তু দিন শেষে সত্য হচ্ছে — সন্তান নিজেও একজন individual identity. তার নিজস্ব চাওয়া পাওয়া, পছন্দ অপছন্দ, ভালো লাগা মন্দ লাগা, জীবনবোধ থাকবে; এটাই স্বাভাবিক।কিন্তু আমাদের সমাজে নিজস্ব জীবনবোধ সম্পন্ন সন্তান কে কেন অবাধ্য সন্তান আখ্যা দেয়া হয় ?

পিতা মাতা যেভাবে চাইবেন সেভাবেই কেন আমাদেরকে বাঁচতে হবে ? তারা পছন্দ করে বিয়ে দিলে ছেলে রাজপুত্র আর আমরা পছন্দ করলে সেই একই ছেলে কেন কোটালপুত্র হয়ে যাবে ? কেন আমরা পছন্দ করলেই মেয়েটি কালো খোটো মোটা হয় আর তারা পছন্দ করলে সেই একই মেয়ে হয়ে পড়ে মিষ্টি গোবগাল দেখতে ছোটখাটো লক্ষীমন্ত ?

পিতা মাতা চাচ্ছেন বলে কত শত হাজার হাজার ছেলে মেয়েকে যে মনের বিরুদ্ধে এই দেশে মেডিকেল সাইন্সে লেখাপড়া করতে হচ্ছে তার কোন হিসেব নেই।পরিবারে একজন ডাক্তার থাকাই লাগবে— এতে নাকি সোস্যাল স্ট্যাটাস বাড়ে !!! অথচ মেডিকেলে কলেজে লেখাপড়া কোন ছেলে খেলা না।পুরো ডেডিকেশন এবং দুনিয়া ভুলে বই খাতা নিয়ে বসে থাকতে না পারলে না মেডিকেলের মতো সারা জীবন ধরে লেখাপড়া করার জগতে একজন মানুষকে টেনে আনা আত্মহত্যার সামিল বৈকি।বাবা মা হয়ে এটুকু তো অন্ততঃ বোঝার চেষ্টা করা উচিত— আমার ছেলেটা /মেয়েটা কিসে আনন্দ বা কষ্ট পাচ্ছে ? আমি চাই বলেই, আমার টাকা আছে বলেই,প্রশ্নপত্র কিনে দিয়ে হলেও,মুদির দোকানের মতো গজিয়ে ওঠা মানহীন মেডিকেল কলেজ পাড়ার মোড়ে আছে বলেই আমি পারি না আমার সন্তানকে সাদা এপ্রোনের মালিক বানিয়ে আদতে কাফনে জড়িয়ে জীবন্মৃত করে সারাজীবনের ঘানি টানাতে।

শাসন না করলে সন্তান বখে যাবে— এসব গদ বাধা ধারনা থেকে এখনো বের হতে পারিনি আমরা।আসলে আমার কেন যেন মনে হয় আমাদের সমাজে অধিকাংশ মানুষই কোন না কোন দিক থেকে ফ্রাশটেশনে ভুগছে; হতে পারে কেউ হতাশ তার বিবাহিত জীবন নিয়ে/কেউবা জব স্যাটিসফেকশন হীনতায় ভুগছে/ ক্যারিয়ারে গ্রোথ নেই কারো/ পারিবারিক সমস্যায় জর্জরিত কারো জীবন।এছাড়া সামাজিক অনিরাপত্তা, স্বাভাবিক মৃত্যুর অনিশ্চয়তা, আইনের প্রয়োগের গোঁজামিল, রাজনৈতিক অস্থিরতা ইত্যাদি মিলেমিশে আমরা সবাই কেমন যেন অস্থির জীবন কাটাচ্ছি।নিজের ভেতরের এই অস্হিরতা, না পাওয়া এবং ফ্রাশটেশন নিজের অজান্তেই কখনোবা জেনে বুঝেও সন্তানের উপরেই ঝাড়ছি আমরা।জানি এই কথাটা পড়তে কারো একটুও ভালো লাগছে না।কিন্তু প্লিজ ঠান্ডা মাথায় ভেবে দেখবেন খুব ভুল কিন্তু বলিনি।

সবশেষে একটা কথা বলি—– সন্তান আমার রক্তবিন্দুতে তৈরি বলেই তাকে আমি গিনিপিগ বা এক্সপেরিমেন্টের সাবজেক্ট হিসেবে ট্রিট করতে পারি না।নিজের জীবনের সমস্ত অপ্রাপ্তি সন্তানের মধ্যে দিয়ে পূরণ করতে চাওয়াটা সন্তানের জন্য প্রচন্ড চাপও হয়ে যেতে পারে কিন্তু ।শেষ পর্যন্ত যার যার কর্মফল তাকে তাকেই ভোগ করতে হয়– ইহজীবন পরজীবন সব জীবনেই তাই ।

 

লেখক ডাঃ নাসিমুন নাহার

লেখকঃ কথা সাহিত্যিক, চিকিৎসক ও সমাজসেবিকা

 

 

 

 

 

 

 

 

এই ক্যাটেগরির অন্যান্য লেখা –

মুদ্রার উল্টো পিঠ (এক)

মানবতার অপমানঃ ধর্ষণ

স্বামীর বন্ধু বা সহকর্মীদের হতে সাবধান হোন

 

 

 

 

 

Comment

Comment

   
ই-মেইলঃ mohioshi@outlook.com
ফেসবুকঃ www.facebook.com/mohioshibd
মোবাইলঃ ০১৭৯৯৩১৩০৭৮, ০১৭৯৯৩১৩০৭৯
ঠিকানাঃ ১০/৮, আরামবাগ, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
কপিরাইট ©  মহীয়সী