ডিলিট ইট অর ড্রপ ইট

তারিক হকঃ

আমাদের জীবনে যা কিছু ঘটনা ঘটে তার শতকরা দশভাগের উপর আপনার কোনো নিয়ন্ত্রন নেই, বাকি নব্বই ভাগ কিন্তু নির্ভর করে আপনি জীবনকে কীভাবে দেখেন।

আমাদের মনটি একটি কম্পিউটার প্রোগ্রামের মতো। যত দামি কম্পিউটার হোক না কেন সফটওয়্যার ভালো না হলে ওটা শুধু ‘কালো বক্স’ তাই না? তাই সফটওয়্যার কে সবসময় ফ্রেশ করুন। কোনো ভাইরাসে যেন আক্রান্ত না হয়।

প্রতিদিনের অনিশ্চয়তা আর অসহায়তা আপনার মনকে করছে ব্যথিত। আপনি আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলছেন।

বন্ধুরা বলছে, তোমাকে দিয়ে হবে না, তুমি পারবেনা আর আপনি তা বিশ্বাস করে বসে আছেন। কে ওরা? যারা আপনাকে উপদেশ দেয়, মনটা তো আপনার। ওদের avoid করুন।

অতীতকে ভুলে যান । সেটা ১০ বছরের আগের হোক বা দশ মিনিট আগেরই হোক না কেন ! অতীতের আবর্জনা ডাস্টবিনের মধ্যে ছুড়ে ফেলে দিন।

আপনার স্বাস্থ্য খারাপ যাচ্ছে, আপনার ডাক্তারের বিল দেয়া হয় নি অথবা বাড়িওয়ালার কাছে দুমাসের বাড়ি ভাড়া বাকি। এখন এটার সাথে যোগ করলেন অতীতের ব্যর্থতা। আপনাকে কে বাঁচাবে বলুন তো?

তাই ‘Drop it and let it go’।

কীবোর্ডের ‘ডিলিট’ কী দিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত ‘ফাইল’ মুছে ফেলেন। এখানেও তাই করুন।

অতীতের আবর্জনা ‘ডিলিট’ করে ফেলুন। যারা আপনাকে ব্যথা দিয়েছে তারাতো ব্যথা দিয়েই ফেলেছে, আপনি কি চান ওদের কথা চিন্তা করে মনকে আরো ব্যথিত করে তুলতে?

মনের স্বাধীনতা মানে মনকে নতুন দিনের আলোকে উদ্ভাসিত করা। পুরানো অতীতে বন্দি না হয়ে অতীতের অন্ধকারকে বলুন, ‘হে বন্ধু বিদায়’।

আপনার মেডিকেল রিপোর্ট খারাপ এসেছে আপনি চিন্তিত, উপরে যিনি আছেন তিনি হাসছেন। তিনি বলছেন এর চেয়ে ভালো রিপোর্ট তোমার জন্য অপেক্ষা করে আছে। ‘শুধু তুমি ধৈর্য ধর’।

মনে রাগ পুষিয়ে রাখবেন না। যা হবার তা হয়েই গেছে। যদি নিজের ভুল হয়ে থাকে শোধরানোর চেষ্টা করুন। আর অপরের ভুল হয়ে থাকলে তাকে ক্ষমা করুন। ক্ষমা করলে দেখবেন আপনার নিজের মনটি প্রশান্তিতে ভরে উঠবে। ঘৃণা, রাগ, ঈর্ষা আর হিংসা এগুলো আপনার মনের কম্পিউটারের ভাইরাস। তাই সাথে সাথে এদেরকে ‘ডিলিট’ করে দিন।

এতক্ষণ তো বড় বড় কথা বললাম। আপনি বলবেন ‘ডিলিট’ করা কি এতো সহজ? আমার উত্তর এটা একটা ভাইরাসের ব্যাপার। যে মুহূর্তে তরকারিতে নুন কম হয়েছে বলে আপনি রেগে যাচ্ছেন, সেই মুহূর্তে চিন্তা করুন তাদের কথা, যারা ‘তরকারি’ কি জিনিস সেটাই জানে না।

আপনি ফলওয়ালাকে পচা ফল বিক্রি করছে বলে গালাগালি করলেন, পারলে মারধর করতেন, আপনি কি জানেন রাতে বৃষ্টি হওয়ায় ওর দোকানে পানি ঢুকে পড়েছিল, ও সারা রাত জেগে নিজের লুঙ্গি আর বউয়ের শাড়ি দিয়ে ফলগুলো ঢেকে রেখেছিল যাতে কোনো পানি না ঢুকে।

মনকে মহৎ করুন। সব সময় ভালো কিছুর চিন্তা করুন। উপরে যিনি আছেন কেন আপনাকে পাঠিয়েছেন?

শুধু ‘Eat, drink, and be merry’ হওয়ার জন্য?

নিজের বিবেককে জিজ্ঞাসা করুন, আপনি সমাজের জন্য, মানুষের জন্য কি করলেন? প্রশ্ন করুন নিজেকে, আপনি কে?

এই প্রশ্নের উত্তর যেদিন পাবেন সেদিনই বলতে পারবেন, ‘আমার জন্মটি সার্থক’।

(লেখকের বদলে যান এখনই“ বইটি থেকে )

লেখকঃ জার্মান প্রবাসী বাংলাদেশী ও মোটিভেশনাল লেখক 

Comment

Comment

   
ই-মেইলঃ mohioshi@outlook.com
ফেসবুকঃ www.facebook.com/mohioshibd
মোবাইলঃ ০১৭৯৯৩১৩০৭৮, ০১৭৯৯৩১৩০৭৯
ঠিকানাঃ ১০/৮, আরামবাগ, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
কপিরাইট ©  মহীয়সী