৮ই মার্চের ভাবনা

ফাহমিদা খানমঃ 

সংসারের একটা নিয়ম আছে যদি কেউ কখনো অনুভব করে সে এতদিন অকারণ ভয়ের কাছে ভীত ছিলো, সেটার আসলে দরকার ছিলো না তখন কিন্তু সেই মানুষ আপনাআপনি বদলে যাবে। অকারণ ভয় ভেঙে সামনে এগিয়ে যাবে। আপনি চাইলেও আর পিছনে ভুলেও তাকাবে না।
অনেকেই বলে আপনি নারীদের নিয়েই বেশী লিখেন, হ্যাঁ আমি নারী তাই তাদের মনোজগৎ বুঝি, তাই তাদের কথাই লিখি। একজন সেদিন বলেই ফেললেন, যতো যাই বলেন না কেন মেয়েদের জীবনের আসল সম্পদ কিন্তু স্বামীই। জুয়াড়ি, মদ্যপ, লুইচ্চা হলেও স্বামীই পরম সম্পদ বলে যারা ভাবে তাদের ধরে মিউজিয়ামে রেখে আসা উচিত। স্বামী ভালো হবে এই আশায় যে মেয়ে পথ গুনে তাকেও। সমাজে কয়জন সাহসী পুরুষ আছেন যিনি বুক উঁচিয়ে বলার সাহস রাখেন আমার স্ত্রী আমার জীবনের বড়ো সম্পদ! মাথা খারাপ পাগল ছাড়া আর কেউই এগিয়ে আসবে না। আপনারা পুরুষ বলে সম্পদ আর নারীরা কি খেলনাপুতুল!!!!

অনেকেই বলে যুগ বদলেছে, মেয়েদের মাঝেও অনেক পরিবর্তন এসেছে, আমিও স্বীকার করি তবে সংখ্যাটা এখনো কম। আমি লুতুপুতু মেয়েদের নিয়ে লিখিনা আবার কিছু আছে স্বামীদের সব কথায় ঘাড় নাড়ে —–নিজেদের মতামত দেবার, চিন্তাভাবনা করার ক্ষমতাও নেই, এদের নিয়েও আমি লিখিনা। সঙ সেজে সারাদিন যারা ঘুরে বেড়ায় —-তাদের নিয়েও লিখতে ইচ্ছে করে না। মেরুদণ্ডহীন, ব্যক্তিত্বহীন মানুষ লেখার বিষয় হতে পারে না। আমার লেখার মেয়েরা খুব সাধারণ ঘরের, আমজনতা যাদের বলে।

সাধারণ মেয়েদের চাওয়া কিন্তু খুব বেশী নয়—-একটু আস্থা আর ভরসা রাখুন নিজের বাড়ির মেয়েটির, ছেলের স্ত্রীকে নিজের মেয়ে ভাবুন, দৃশ্যপট বদলে যেতে বাধ্য। আপনার মেয়ে যেমন আপনার কাছে কাংখিতা আপনার ছেলের বউটিও তার বাবা-মায়ের কাছে তাই। এভাবে ভাবলে দেখবেন মেয়েটি আজীবন আপনার হাত ছাড়বে না। স্ত্রীর কাছে যদি আশা করে থাকেন যে, সে আপনার পরিবারবর্গ দেখবে তাহলে আপনি ও স্ত্রীর বাবামাকে সেই চোখে দেখুন, বিপদেআপদে তাদের পাশেপাশে থাকুন—–আপনার স্ত্রী আজীবন কৃতজ্ঞ থাকবে। এক তরফা কিছুই আশা করা ঠিক না। স্বামী স্ত্রী হবে, একে অপরের পরিপূরক, কেবলমাত্র মেয়েদের বেলায় প্রত্যাশার দাবি রাখলে কিছুই হবে না।

প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম এগিয়ে যায় কিন্তু মেয়েদের অবস্থান খুব বেশী বদলায়নি। আসলে আমরা যদি আমাদের মানসিকতা বদলাই সমাজ, সংসার সব সুন্দর হয়ে যাবে, ছবির মতো সুন্দর।
সব নারীকে সম্মানের চোখে দেখুন, শুধুমাত্র নিজের বাসায় নয়,সব জায়গায় নারীদের সম্মান দিতে শিখুন। আপনার দৃষ্টিভঙ্গী যাতে কোন নারীকে আহত না করে। যেসব মেয়েরা রাস্তাঘাটে চলাফেরা করেন তারা অনেকেই তাদের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনা শেয়ার করে জিজ্ঞেস করে —- “আপু কবে এসব থেকে মুক্তি পাবো? ” যেসব লোকজন এসব করে বেড়ায় তারা কি জানে সময়ে সব ফেরত আসবে।আজ আপনি যা করেছেন একদিন আপনার বোন, মেয়ের সাথে এই ঘটনা ঘটবে । সময় অনেক কঠিন জিনিস , কাউকেই ছাড় দেয়না। আপনি অন্যায় করলে একদিন সেটা বুমেরাং হয়ে আপনার জীবনে ফেরত আসবেই। প্রকৃতি কাউকে ছাড় দিবে না।

ঘরে-বাহিরে সব জায়গায় জগতের সকল নারীরা নিরাপদে থাকুক। অন্যের ব্যাপার বলে দায় এড়িয়ে যাবেন না । আজ Adititi. Bairragi নামে একজন স্ট্যাটাস দিয়েছে এই দেশে সে থাকবেনা কারণ তার সাথে আমাদের সোনার ছেলেরা অশালীন ব্যবহার করেছে। হায় কবে বদলাবো আমরা!!!! লজ্জায় মাথা নীচু হয়ে গেছে। হায় এসব অল্পকিছু ছেলেদের জন্য সব ছেলেদের প্রতিই মেয়েদের ঘৃণা -বিদ্বেষ দিনেদিনে বাড়বে শুধু। আমরা আমাদের সন্তানদের শিক্ষা সহবত কিছুই শিখাতে পারিনি শুধুমাত্র প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার উপরে জোর দিয়েছি তাই অক্ষমতার দায়ভার আমাদের সকলের। এসব অন্যায়ের বিচার এদেশে হয়না বলেই কিছুদিন পরপর ঘটে আর আমরা দেখি। একবারমাত্র ভাবেন অন্যায় প্রশ্রয় দিলে কিন্তু এই অশুভ শক্তির কাছে হেরে যাবে মানবতা। রুখে না দাঁড়ালে তছনছ হবে সামাজিক মুল্যবোধ।
যেদিন পত্রিকা, টিভিতে কোন নারী নির্যাতনের খবর আসবে না, সেইদিন হবে সত্যিকার নারী দিবস। নারীদের সম্মান না দিলে প্রকৃতিগতভাবেই একদিন মেয়েরা বদলে যাবে। প্রকৃতি কিন্তু খুব নিষ্ঠুর।

জগতের সকল নারীকে স্যালুট প্রতিক্ষণ, প্রতিদিন।

Comment

Comment

   
ই-মেইলঃ mohioshi@outlook.com
ফেসবুকঃ www.facebook.com/mohioshibd
মোবাইলঃ ০১৭৯৯৩১৩০৭৮, ০১৭৯৯৩১৩০৭৯
ঠিকানাঃ ১০/৮, আরামবাগ, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
কপিরাইট ©  মহীয়সী