সমঅধিকারের জ্বালা

সব শেয়ালই মুরগির স্বাধীনতা চায়। শেয়াল চায় মুরগি বনে বাদাড়ে আথারে পাথারে ঘুরে বেড়াক। রুচিমতো সুবিধামতো মুরগি দিইয়ে ভোজন বিলাস করার জন্য মুরগি ধরে খেতে হবে। তাই মুরগির স্বাধীনতার কোন বিকল্প শেয়ালের নেই।

স্বাধীনতার গান গাইতে গাইতে সেই মুরগির মতোই নারীরা স্বাধীনতা পেয়েছে। মানুষের মর্যাদা পাবার জন্য প্রয়োজন হয়েছে সমঅধিকারের।যদিও আদতে নারী পুরুষ কখনোই সমান না। এখন অনেক নারীবাদীই চিৎকার করে উঠবেন সমান না কী করে? আরে আপা ! থামেন ! আমি শুধু বলেছি নারী পুরুষ সমান নয়। এ কথা তো বলিনি যে পুরুষ নারীর চেয়ে শ্রেষ্ঠ!

সমঅধিকার একটা সময় পর্যন্ত নারীদের খুব দরকার ছিল। বিশেষত শিল্প বিপ্লবের আগে যখন নারীদের কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের সুযোগ ছিল না, ভোটাধিকার ছিল না ঠিক ততোদিন। এরপর সমঅধিকার এলেও নারীর ভালর জন্য আসেনি। পুঁজিবাদের প্রয়োজনের হাত ধরে, শিল্প বিপ্লবের সময়ে ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশনের জন্য বাড়তি জনশক্তি জোগান দেওয়ার ক্রায়িং নিডকে মাথায় রেখে।খুব ভালো করে ইতিহাসের শিরা উপশিরা ঘেঁটে দেখলে বুঝতে পারবেন,নারীর সমঅধিকার অত্যন্ত নীচু মানের একটি পুরুষবাদী স্ট্যান্ড ছাড়া আর কিছুই নয়। আপামর নারীজনতা কোনদিন মনে প্রাণে সমঅধিকার চায়নি।পৃথিবীর শুরু থেকে শেষদিন পর্যন্ত নারীর জন্য সমতারই প্রয়োজন।

ভোল্গা থেকে গঙ্গা উপন্যাসে রাহুল সাংকৃত্যায়ণ দেখিয়েছেন সভ্যতার সূচনালগ্নে মানুষ কীভাবে পরিবারে সমতা রক্ষা করতো। ভালুক শিকার পুরুষ করে আনলে পুরুষের স্ত্রী তা বণ্টন এবং ব্যবস্থা করতো, এবং বাসায় থেকে সন্তানকে দেখাশোনা করতো।

সেই অসভ্য যুগের নিয়ম ছিল হিজ হিজ হুজ হুজ। চাচা আপনা পেট বাঁচা টাইপের অবস্থা। ঠিক এই ধরণের অবস্থার মধ্যেও অসভ্য বর্বর জংলী মানবরাও মেনে নিয়েছিল নারীর রোলটা আলাদা গোষ্ঠীর জন্য। সন্তান জন্মদান এবং লালনপালনের শর্তের সাথে নারীর নিজের খাবার নিজে অর্জন করে খাবার শর্তটা অনেকটাই বেমানান এবং অবাস্তব বিঁধায় সমতার কোন বিকল্প নেই।

আজ নারীর জন্য মাতৃত্ব বনাম জীবিকা একটি বিরাট প্রশ্ন হিসেবে শক্ত অবস্থান গেড়েছে, আর তার দ্বায়ভার এই সমঅধিকারবাদীরা কিছুতেই এড়াতে পারেনা। নারীকে মা হিসেবে রোল প্লে করতে হচ্ছে একই সাথে ওয়েজ আর্নার হিসেবেও রোল প্লে করতে হচ্ছে। নারীর জীবিকা অর্জনের ক্ষেত্রে অবশ্য ইসলাম ধর্মে কোন বাঁধা নেই। অর্থ উপার্জনের স্বাধীনতা ইসলামস্বীকৃত নারীর ইচ্ছাধীন একটি বিষয়।

বাঁধাটা ২ যায়গায়- মাতৃত্বের দাবী পূরণ এবং বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের বাঁধার প্রাচীর হিসেবে পরপুরুষের সাথে দূরত্ব বজায় রাখা এ ক্ষেত্রে আমি পর্দা বলছি না , কারন পর্দা বললেই অনেকে শুধু হিজাব বা বোরখা ভেবে নিবেন । আদতে পর্দার অপর নাম বোরখা বা হিজাব কোনদিন নয়।

আজ আমাদের সমঅধিকার আছে কিন্তু তারপরেও হাহাকার থেমে নেই। ক্যারিয়ার গড়তে গড়তে ত্রিশ পার করে দেওয়া একটি মেয়েও মাতৃত্বের স্বাদ নিতে চায়। কিন্তু বিজ্ঞান বলে ত্রিশের পরে মা হবার জটিলতা অনেক। আর ত্রিশের আগে মা হলে ৩-৪ বছর বাচ্চার যত্ন নিতে নিতে কখন যে চাকুরীর বয়স ফুরিয়ে যায় তা মনেই থাকেনা। আজ সমঅধিকারের বদৌলতে নারী পুরুষ উভয়ের চাকুরীতে যোগাদানের বয়স ৩০। অথচ, আর ৫ টা বছর যদি নারীদের জন্য বাড়ানো  যেতো তাহলে মাতৃত্বের সাথে জীবিকার কোনদিন কোন সংঘর্ষ হতো না। দেশে ২ জন নারী প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতার পর থেকে ক্ষমতায় আছেন, সুলতানা কামালের মতো বিশিষ্ট নারীবাদী নেত্রী আছেন, কিন্তু কাউকে এই ব্যাপারে কোনদিন টু শব্দ করতে দেখা যায়নি , যাবে বলেও মনে হয়না।

 

 

Comment

Comment

   
ই-মেইলঃ mohioshi@outlook.com
ফেসবুকঃ www.facebook.com/mohioshibd
মোবাইলঃ ০১৭৯৯৩১৩০৭৮, ০১৭৯৯৩১৩০৭৯
ঠিকানাঃ ১০/৮, আরামবাগ, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
কপিরাইট ©  মহীয়সী