বুক রিভিউঃ শবনম

আব্দুল মতিন

আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম পুরোধা সৈয়দ মুজতবা আলী।  তিনি শিক্ষা চাকুরী আর গবেষণা ও সাহিত্যের কাজে এক সময় আফগানিস্তান গিয়ে ছিলেন। একজন বিদেশী হিসেবে তাঁর থাকা,খাবার,চলাফেরার জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয় খুবই গুরুত্বপূর্ন ছিল। একসময় এক আফগান স্বনামধন্য ব্যক্তি আওরঙ্গজেবের সাথে তার পরিচয় ঘটে। সার্বিক ভাবে তিনি ছিলেন জ্ঞানী, বিচক্ষণ,  সাহিত্য প্রেমী। আওরঙ্গজেবের এক মেয়ে ছিল শবনম। কাবুলের এক কলেজে শিক্ষা বিস্তারের উদ্দেশ্যে এক সেমিনারে সংক্ষিপ্ত এবং চমকপ্রদ এক বক্তব্যে শবনম লেখকের প্রেমে পড়ে। কারনে অকারনে লেখকের সাথে শবনমের সাক্ষাৎ অন্য কিছুর ইঙ্গিত দিত।শবনম ছিল ১৬-১৮ বছর বয়সের এক মেয়ে। চঞ্চলা,বুদ্ধিমতি,গুনবতী হবার কারনে লেখকের সুপ্ত একাকীত্ব লক্ষ্য করেছিল।আফগান ধর্মীয় ও সামাজিক নীতি অতি কঠিন। একটুও ধর্মীয় অনুশাসন ভাঙা জো কারো নেই।শবনম বরাবরই লেখকের চোখে চোখে রাখত। আস্তে আস্তে ভালবাসার বন্ধনে দু জন বন্দী। একটু একাকী সুযোগ পেলেই যা ঘটত তা এ বইতে উপস্থাপন করেছেন লেখক। একাধিকবার শবনমের দু হাত তাঁর দিকে তুলে ধরলে লেখক তার হস্তদয় চুম্বন করতেন। ঠিক আফগানী সরদার বা আমীরদের সম্মানে যেমন হয়ে থাকে।
লেখকের বুকে/ জানুতে মায়াবী মুখ লুকিয়ে প্রেম আলাপ, নিশিতে নির্জনে ভাল লাগা আর কাছে আসার গল্প পৃথিবীর সকল প্রেমিকদের মন দোলিত করে।
বাঁকা ঠোঁটের আর চোখের ভাষা বুঝতে লেখকের কোন সমস্যা হয়নি।
বিনা সুতার এ বন্ধন একাকী জীবনে লেখকের নিকটে বেহেস্তের হুর পরী বৈ কি।

লেখকের শত শত স্মৃতি এখানে জড়িয়ে আছে। যা তাঁর জীবনের সোনালী ও বেদনার ফুলকি।
শবনম মাঝে মাঝে  বলত – ” আমাকে কখনো ভুলে যাবেন না তো?
পৃথিবীর সকল প্রেমিক যে উত্তর দেয়,লেখক তেমনি ইতিবাচক উত্তর দিল।
বাস্তবতার নির্মম আঘাতে একসময় শবনম ও লেখকের বিরহ সত্যি বেদনা বিধুর।
শবনমের অশ্রুসজল সেই কাহিনী আর লেখকের বাস্তবতার বিরহব্যাথা মনের অবতরণ সত্যি লক্ষ্যণীয়।
সেই ভ্রমন লেখের জীবনে কালের স্বাক্ষী হয়ে রয়েছে যা তাঁকে বার বার কষ্ট দেয়।

বইয়ের নামঃ শবনম
লেখকঃ সৈয়দ মুজতবা আলী
প্রচ্ছদঃ ধ্রুব এষ
প্রকাশকঃ এ সরকার/ উইংস -৪
পৃষ্ঠাঃ ১৪৪
মূল্যঃ২২৫ টাকা

আব্দুল মতিন কবি ও সাহিত্যিক।

আরও পড়ুন