বুক রিভিউঃ টেস অভ দ্য ডার্বারভিল

কামরুজ্জামান জেমস

উপন্যাসের শুরু মারলন্ট গ্রাম থেকে।  সেই গ্রাম ইংল্যান্ড থেকে ৪ ঘন্টার পথ। সে গ্রামের নয়নাভিরাম দৃশ্য। সেই গ্রামের একটি বনেদি পরিবার ডার্বারভিল। সেই বনেদি পরিবারের একটি মেয়ের নাম টেস। সে এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র। আর দুইটি চরিত্র তাকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে। একটি অ্যালেক ও অপরটি অ্যাঞ্জেল।  টেস অত্যন্ত সহজ, সরল । তার ছেলে মানুষী এখনও যায় নি। তার বাবা-মাদের আর্থিক অবস্থা খুব খারাপ। তার বাবা মদ পান করে। সে ডার্বারভিল পরিবারের সদস্য হওয়ায় কাজ করতো না। তাই তার মা সংসারের সকল দায়িত্ব পালন করতো। কিন্তু একবার টেসকে মৌচাক নিয়ে শহরে যেতে হলো। তার সঙ্গী ছিল তার ছোট ভাই । সেখানে তাদের পরিবারের একমাত্র ঘোড়ার মৃত্যু হয় । ঘোড়ার মৃত্যুর জন্য নিজেকে দায়ী করে। এরপর পরিবারের খরচ তার হাতে তুলে নেয়।

এর মধ্যে তার সাথে পরিচয় ঘটে অ্যালেক নামের এক দুঃচরিত্র যুবকের। রাতে টেস যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন তখন অ্যালেক কৌশলে তার সাথে দৈহিক সম্পর্ক স্থাপন করে । তখন টেস জাগ্রত হলেও তার আর করার কিছু ছিল না। এই সর্বনাশের পর তার গর্ভে সন্তানের জন্ম হয়। এদিকে অ্যালেক  টেসকে বিপদে ফেলে দিয়ে চলে যায়। টেস সেইদিনের স্মৃতি কখনও ভুলতে পারে না।তৎকালীন সমাজ টেস ও তার সতিত্বের ব্যাপারে প্রশ্ন করে বিব্রত করতে থাকে। টেসের দুর্যোগকালীন পরিস্থিতিতে একটি ডেইরি ফার্মে কাজ নেয়। সেখানে ছোট ছোট কিছু চরিত্রের দেখা পাওয়া যায়। তারা গৌণ হিসেবে কাজ করে।  সেখানে আবার পরিচয় ঘটে চরিত্রবান যুবক অ্যাঞ্জেলের সাথে। অ্যাঞ্জেল টেসকে তার অতীত ভুলিয়ে আনন্দমুখর করে তোলে। টেস তার অতীতের কথা বিভিন্ন সময় অ্যাঞ্জেলকে জানানোর চেষ্ট্রা করে কিন্তু প্রতিবারই ব্যর্থ হয়।

অ্যাঞ্জেল টেসকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। টেস এ পর্যায়ে তার অতীত বলতে গেলেও আবার ব্যর্থ হয়।  নির্দিষ্ট দিনে তাদের বিয়ে হয়ে যায়। বিয়ের পর টেস অ্যাঞ্জেলকে তার আগের জীবনে ঘটে যাওয়া কাহিনী বর্ণনা করে। আষাঢ়ে  মেঘের মতো অ্যাঞ্জেল পরিবর্তন হতে থাকে এবং সিদ্ধান্ত নেন , তারা আলাদাভাবে বসবাস করবেন। অ্যাঞ্জেল ব্রাজিলে যায় এবং সেখানে কাজ করতে থাকে। সে টেসের কোন খোঁজ নেয় না। এমনকি কোন চিঠি পর্যন্ত দেয় না। অপরদিকে টেস চিঠি লেখলেও পাঠায় নি। এভাবে দিন দিন দুরত্ব বেড়ে যায়। এই সুযোগে অ্যালেক আবার টেসের জীবনে আসে। তার সাথে ঘটে যাওয়া কাহিনীর জন্য অনুশোচনা করার সুযোগ চায় সে। টেস তাকে ফিরিয়ে দেয়। কিন্তু অ্যাঞ্জেলের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে অ্যালেক বার বার টেসের কাছে আসে এবং বিয়ে করবে বলে। এর মধ্যে টেসের বাবার মৃত্যু হয় । এ অবস্থায় তার পরিবার চালানো কষ্টকর হয়ে দাড়ায়। এ সুযোগ অ্যালেক গ্রহণ করে এবং তার পরিবারের দায়িত্ব তুলে নেওয়ার আশ্বাস দেয়।  কিন্তু টেস তা ঘৃনা ভরে প্রত্রাখ্যান করে।

অবশেষে সে অ্যাঞ্জেলের মিথ্যা মৃত্যুর কথা বললে টেস বিশ্বাস করে। এরপর তাকে বিয়ে করে। এদিকে অ্যাঞ্জেলের কাছে টেসের দুই বান্ধবী চিঠি লেখে টেসের আসন্ন বিপদের কথা বলে । এতে অ্যাঞ্জেল তাড়াতাড়ি করে বাড়িতে ফিরে আসে। সেখানে তার স্ত্রী টেসের সাক্ষাৎ না পেয়ে টেসের বাপের বাড়িতে যায়। টেস সেখানেও ছিল না। টেসের মা তার শহরের যাওয়ার কথা বলে। অ্যাঞ্জেল অনেক কষ্টে টেসের ঠিকানায় পৌছে। সেখানে সে দেখতে পায় টেসকে কিন্তু সে জানতে পারে, অ্যালেক টেসকে মিথ্যা কথা বলে বিয়ে করেছে। টেসও তাকে ফিরিয়ে দেয়। অ্যাঞ্জেল ফিরে স্টেশনে আসতে থাকে। এদিকে টেস নিজের কাছে অপরাধী হয়ে যায়। সে তার স্বামীর প্রতি অবিচার করেছে । তাই সেও প্রায়চিত্ত করতে চায়।

তাই সে অ্যালেকের কাছে অ্যাঞ্জেলের মৃত্যুর মিথ্যা কথা সম্পর্কে জানতে চায়। তর্ক বিতর্কের একপর্যায়ে টেস অ্যালেককে খুন করে ফেলে এবং পালিয়ে যায়। ফিরে আসে অ্যাঞ্জেলের কাছে । কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। তারা পালিয়ে কয়েকদিন থাকতে পারে কিন্তু শেষে পুলিশের কাছে ধরা পরে যায়। ধরা পরার আগে টেস অ্যাঞ্জেলকে তার ছোট বোনকে বিয়ে করার কথা বলেছিল। অবশেষে উপন্যাসের সমাপ্তি ঘটে টেসের ফাঁসির মাধ্যমে ।

উপন্যাসের মাধ্যমে মানুষের লোভের পরিণতি, নারীদের যন্ত্রনাময় জীবন, বংশগত গৌরবের মিথ্যা অলঙ্কার , অতীতের খারাপ কাজের অনুশোচনা, জীবন সংগ্রামে একজন নারীর ইতিহাস এমনকি মৃত্যু যার কাছে শেষ পর্যন্ত হার মানে তুলে ধরা হয়েছে। টমাস হার্ডি তার লেখনির মাধ্যমে তৎকালীন সমাজ ব্যবস্থার চিত্র তুলে ধরেছেন। কিন্তু বর্তমান সমাজের অবস্থা দেখলেও সেই সমাজের চিত্রটা সকলের সামনে ভেসে উঠে। তাই তো ইংরেজি সাহিত্যের ইতিহাসে টমাস হার্ডির টেস অভ দ্য ডার্বারভিল এক অনন্য স্থান দখল করে আছে।

বইঃ টেস অভ দ্য ডার্বারভিল
লেখকঃ টমাস হার্ডি
রুপান্তরঃ কাজী শাহনূর হোসেন
মূল্যঃ ২৭.০০ টাকা
প্রথম প্রকাশঃ ২০০০
সেবা প্রকাশনী
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃঃ ১৪৩

আরও পড়ুন