প্রাসঙ্গিক ভাবনা

– নুরে আলম মুকতা

ছাত্র জীবনে কোনদিন বিষয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে নজর দিতে হতে পারে সেটি আমাদের দেশ ও সমাজের প্রেক্ষাপটে কতটুকু যায় তা নির্ধারক মহলে ভেবে দেখার যেমন অবকাশ আছে তেমনি আমি কি লিখছি আর কি লিখবো,কি লিখতে চাইছি এর মধ্যে বিস্তর ব্যবধান আছে। একজন ছাত্র একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সময় নির্দিষ্ট ইউনিটে পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। মেধা তালিকায় ওর নাম আছে। স্বপ্নে বিভোর দেশ সেরা প্রতিষ্ঠানে ওর ভর্তি নিশ্চিত হয়েছে। সবাই অভিনন্দিত করছে। ও বিষয় নির্বাচনের বেলায় গিয়ে দেখলো ওকে তিরিশটি বিষয়ের মধ্যে পছন্দক্রম দেয়া হয়েছে। কোনটি পাবে বলা মুশকিল। হায়! যে বিষয়টি ও পাবে তার জন্য ও কোনভাবেই প্রস্তুুত ছিলো না। সারাজীবন ওর সাথে বিষয়টি জড়িয়ে গেলো। আমরা ওর মেধার মুল্যায়ন এভাবে করলাম! হা হুতাশ নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে রইলো ওর সাথে।
আমি ভিজ্যুয়ালী লেখার সমুদ্রে ভাসছি। ইচ্ছে হলেই লিখতে পারি। আমার বন্ধুরা লাইক কমেন্টে আমার বুক ভরিয়ে দেয়। যা লিখি সবই কি কালের পরিক্রমায় টিকে যাবে? টিকতেও পারে। কিন্তু তাৎক্ষণিক কাউকে আঘাতে জর্জরিত করতে পারে। অথবা প্রজন্মের কেউ অনুসরণও করতে পারে। সামাজিক, পারিপার্শিক আর দৃষ্টিভঙ্গি সামনে রেখে আমাদের লিখতে হয়। নর-নারীর অবস্থান সমাজে চিরন্তন। মানুষ ছাড়া সমাজ কল্পনা করা যায় না। আমরা পুরুষ বা নারীর একক মর্যাদার বিষয়ে খেয়াল করলে বিপদ বাড়ার সমূহ সম্ভাবনা চলে আসবে। কখনও কাউকে হেয় বা একেবারে একক গোষ্ঠিকে সমাদৃত করার মানসিকতা পরিত্যাগ করে কলম চালনা করলে তা নিরপেক্ষ ভাবে দৃশ্যমান হবে । আমি ইচ্ছে করলেই একজন বাবাকে ভাঁড় বানিয়ে যেমন উপস্থাপন করতে পারি না তেমন একজন মহীয়সী রমনী কে আমি সংসারে আগুন লাগানোর উপলক্ষ্য করেও উপস্থাপন করতে পারি না। ব্যতিক্রমগুলো কখনও ক্রম হিসেবে লেখায় উপস্থাপন যথাসম্ভব এড়িয়ে যাওয়াই উত্তম। এখানে একটি বিতর্কের জন্ম হতে পারে এ বলে যে, আমরা কি তাহলে সামাজিক অসঙ্গতি গুলো লিখবো না? লিখবো তো অবশ্যই। কিন্তু লেখকের বড় রকমের দায়বদ্ধতা আছে। আমরা অগ্রজ প্রতিথযশা লেখকদের অনুসরণ করি। তাঁরা কি সামাজিক অসঙ্গতি দেখেন নি? আমরাই কি ওগুলো দেখছি? তাঁরাও দেখেছেন। কিন্তু অতি সাবধানে শালীনতার সাথে লেখায় উপস্থাপন করেছেন এবং প্রকারান্তরে লেখনীর ঘটনা প্রবাহে নিজের মননশীল মতামতও উপস্থাপন করেছেন। আমরা বার বার একটি সত্য জোরের সাথে উচ্চারন করি তাহলো, আমরা মানবিক মুল্যবোধ সবার ওপরে রাখি। অগ্রজ লেখকদের অনুসরন করি। শুরুতে যা আলোচনায় এনেছিলাম, একটি বিষয় যেমন একজন মেধাবী কে চাপিয়ে সমাজ ও জীবন গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন কঠিন হতে পারে তেমনি মহান নর বা মহীয়সী নারীকে আঘাত করলে সামাজিক আর মানসিক মহা বিপর্যয় হতে পারে। আমরা সবিনয়ে অনুরোধ করি বিষয়টি খাটো করে দেখার কোন অবকাশ নেই।

নুরে আলম মুকতা কবি, সাহিত্যিক, অনুবাদক ও সহ-সম্পাদক, মহীয়সী।

আরও পড়ুন