মহীয়সী বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি

-নুরে আলম মুকতা

শ্রদ্ধেয় ডঃ হুমায়ুন আজাদ দিয়ে আজ শুরু করি। তিনি তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ “নারী”তে বেগম রোকেয়া এবং তাঁর লেখনী আর কর্মযজ্ঞ সম্পর্কে আলোকপাত করেছেন, যা আমাদের তথা বাংলা ভাষাভাষীদের জন্য এক মুল্যবান সম্পদ। ওই গ্রন্থটি একটি বিশাল গবেষণা পত্র বললে কম বলা হবে মনে হয়। প্রাসঙ্গিক কারনে বেগম রোকেয়াকে আলোচনা করতেই হয়েছে। তাছাড়া স্যারের সামনে রাস্তা খোলা ছিলো না। স্যার অনেক আলোচনা করেছেন। সবটুকু তো এখানে বলা সম্ভব না। তবে একটু তো আলোকপাত করতে পারি আমরা, তিনি বলেছেন, নারীর “পুরুষস্বাধীনতার দুটি কারন। শরীর ও অর্থনীতি। রোকেয়া বিশ্বাস করেছেন,পুরুষ নারীকে প্রথমে শারীরিক শক্তি দিয়ে পরাভূত করেই বন্দী করেছে। শেষে নারীকে অর্থনীতির এলাকা থেকে বের করে দিয়ে করে তুলেছে অসহায়। শারীরিক শক্তিতে নারী কখনও পুরুষের সমান হবেনা বলে তিনি (রোকেয়া)বিশ্বাস করেছেন। তার দরকার আছে বলেও তিনি মনে করেন নি। কিন্তু যদি প্রতিষ্ঠিত হয় অর্থনীতির সাম্য তাহলে ঘুচবে নারীর পুরুষস্বাধীনতা। তাই তিনি (রোকেয়া)দাবী করেছেন নারীর আর্থ অধিকার।” এটি তো গেলো হুমায়ুন স্যারের নারী গ্রন্থে মহীয়সী বেগম রোকেয়াকে মহা বিশ্লেষণের ২৫৪ পৃষ্ঠার কয়েকটি বাক্য মাত্র। এবার দেখা যাক মহীয়সী মা বেগম রোকেয়া কি বলেছেন তাঁর সমস্ত জীবন ধরে। তিনি বলেছেন, “কন্যাগুলিকে সুশিক্ষিত করিয়া কার্যক্ষেত্রে ছাড়িয়া দাও, নিজের অন্নবস্ত্র উপার্জন করুক।”(রোকেয়া রচনাসমগ্র)
সারা বিশ্বের সমস্ত মানবাধিকার কর্মীও একবাক্যে স্বীকার কোরে নিয়েছেন বেগম রোকেয়া শুধু তৎকালীন ভারতীয় নারীদের জন্য অগ্রগামী সৈনিক ছিলেন না। তিনি কাজ করেছেন সারা বিশ্বের নারী অধিকারের জন্য। কোন চাপ বা সংগ্রামের প্রয়োজন মনে করেন নি তিনি। লেখনী,যুক্তি,দর্শন আর কাজ দিয়ে আজীবন নিরলস চেষ্টা করে গিয়েছেন। তথাকথিত বুদ্ধিজীবিরাও তাঁকে ছুড়ে ফেলতে পারেনি। কারন তিনি মেধা আর জ্ঞানে অনেক পুরুষ নয় সমাজ আর মানুষের মধ্যে অগ্রগামী ছিলেন। প্রতিকুলতা এতটাই ছিলো তখন যে নারীর অবরোধ অবস্থান নারী স্বেচ্ছায় বরণ করে নিতেন। এজন্য কোন পুরুষের চাপ বা তাপের প্রয়োজন ছিলো না। মহান মহীয়সী নিজে এক মহা বিস্ময়কর প্রতিভা আর প্রতিষ্ঠান।  তাঁর স্বামী আর ভাইএর সহযোগিতা স্বীকার করে তিনি সারা জীবন কাজ করে গিয়েছেন আমাদের মা। ১৮৮০ সালে জন্ম গ্রহন করে ১৯৩২ সালের একই দিনে মৃত্যু বরণ করে ৯ ডিসেম্বর মহীয়সী বেগম রোকেয়া আমাদের কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন। এ বিস্ময়কর মা আমাদের মাটির মা। কবি,গল্পকার, প্রাবন্ধিক, ঔপন্যাসিক, সমাজ সংস্কারক কোন একটি বিশেষ অভিধায় তাঁকে ডাকলে সুবিচার হবে না। তাই শ্রেষ্ঠ মহীয়সী বলে প্রবোধ দেয়া ছাড়া আমাদের উপায় নেই। বেগম রোকেয়া,মা তোমায় সালাম।

নুরে আলম মুকতা কবি, সাহিত্যিক ও সহ-সম্পাদক, মহীয়সী।

আরও পড়ুন