কোভিড ১৯

আসাদুজ্জামান জুয়েলঃ

আমাদের এই মিছিল সব ভূখন্ড ছুঁয়ে, সাগর পাড়ি দিয়ে
এখানে এসে মিলেছে।
এখানে এসেছে হাইতি আর আফ্রিকার কালো দাসেরা।
এসেছে ওয়াল স্ট্রীটের বাইরে দাঁড়ানো শ্বেতাঙ্গ সিকিউরিটি অফিসার।
আছেন হিটলার, মুসোলিনি, কার্ল মার্কস।
আছেন মুহাম্মাদ, ইব্রাহীম, মূসা।

আমাদের মিছিলে এক হতে দিতে চায়নি মহাকাল।
পানিপথের যুদ্ধে আটকেছে সে আমাদের বন্ধুকে।
দু’দুটো বিশ্বযুদ্ধ চাপিয়ে থামাতে চেয়েছে আমাদের দৃপ্ত পদরেখা।
আমরা থামিনি।

আমরা পারমাণবিক বোমা পেরিয়ে এসেছি হিরোশিমায়।
আমরা কিছুকাল নেলসন মেন্ডেলার সাথে
শ্যাওলা জমা কংক্রীটের দেয়ালে আটকে ছিলাম।
আমরা গৌতমবুদ্ধের সাথে রাজপ্রাসাদ ছেড়ে বটতলায় নেমেছি।
আমাদের বারবার যিশুর সাথে ক্রুশবিদ্ধ করে ল্যামপোস্টে ঝুলানো হয়েছে।
আমরা থামিনি।

আমরা ইরাকে, ইরানে, জেরুজালেমে থমকে গেছি।
আমরা কাশ্মীর, সিরিয়ায় রাজপথে থেকেছি।
বার্লিন প্রাচীর ভেঙে আমরা আবার মিলেছি মিছিলে।
জাতিপুঞ্জ কিংবা জাতিসংঘ নয়,
বিশ্বপাড়া বলে বলে যে চিৎকার,
ভাতৃত্ব-সহযোগী বলে, যে আবেগের ফুলঝুরি,
তা আমরা দু’পায়ে পিষে এসেছি দূর্বাঘাসের মতো।
আমাদের থামাতে পারেনি কোন চটকদার মোহ।

আমরা এসেছি।
আমরা মিলিত হয়েছি সব ভূখন্ড আর সাগর পেরিয়ে।
মিলিত হয়েছি মালভূমি, সুন্দরবন, সাহারা মরুভূমি থেকে।

আমাদের যাত্রা চীনের উহান প্রদেশ থেকে।
তারপর বেলিফুলের মালার মত জড়িয়েছি একে একে।
আমরা ইতালী, ফ্রান্স হয়ে সামনে চলেছি।
আমাদের পথ এক। যুদ্ধ এক।
আমরা সাথে নিয়েছি ধবল প্রাসাদ,
পেরিয়ে এসেছি ১ নং ডাউনিং স্ট্রীট।

আমাদের মিছিলে আজ কোন অস্ত্র নেই।
আমরা মুখে কাপড় বেঁধেছি।
হাতে পরেছি রাণী এলিজাবেথের দস্তানা।
আমরা বোমাগুলোকে রজনীগন্ধার বাগানে ফেলে এসেছি।
আমাদের হাতে হাতে ফুলের তোড়া,
আমাদের হৃদয়ে ভালবাসার সঙ্গীত।
আমরা আজকের পথচলায় হারিয়ে ফেলছি সাথীদের।
সাদা সাথী, কালো সাথী, দাস এবং মনিব সাথী।

আমরা ফেলে এসেছি বিভেদের সব কালো ছায়া।
আমাদের ঘিরে আছে মৃত্যু, ঘিরে আছে জীবনের মায়া।
এক একটা পাপড়ি খুলে গোলাপের চলে যাওয়া ক্ষণ,
বিষন্ন করে চোখ, খালি করে আমাদের মন।

লেখকঃ কবি, সাহিত্যকক ও ফটোগ্রাফার।

আরও পড়ুন