চালসে সময়

সালমা সাহলি
জানিস মনি, আমার আর ঘুমের ভেতর স্বপ্ন হাসে না,

সমুদ্র, উপত্যকা, ঝর্ণা, বন কোথাও বেড়াতে ইচ্ছে করে না।

এখন বোবা কালা হয়ে সন্ত্রস্ত প্রাণ কষ্ট ঢাকে চোখ ঝাঝালো

নগর-পশুর উপদ্রপে অতিষ্ঠ জীবন, শ্বাস রুখে নষ্ট আলো।

জানিস, আমার কাব্য-ছন্দ, তাল-লয় ভাতের ফ্যানে মালসা ভরে!

রঙ তুলির সেই পদ্ম-হস্ত হাড়ির সালন মশলা মাখায় রসুই ঘরে।

নিদ্রাহীন নীরবতায় কথোপকথন এখন শুধুই নিজের সাথে,

দেখ চেয়ে, চল্লিশেই ধরে গেছে চালসে কেমন অকাল পাতে।

আগে তুই দেখতি অপলক সতেজ আঁখির পুষ্ট মনের এই সখীরে

জানিস কি, সদা হাস্য সেই ফুল-কুমারী বাঁচে এখন কীটের ভিড়ে!

কুৎসিত কিছু হৃদপিণ্ড নীল রাঙায় হিংসা, হিংস্র আশীবিষে,

এখন কেবল পিশাচী আত্মারা অভিশাপ হয়ে ঘুরে ফিরে আসে।

পিষ্ট করে দেয় বুক-কলিজা খোদ গরজি পঙপালের ব্যস্ত চাকা

শেষকালে বুঝতে হলো মিষ্টি ভাষী, রঙিন মুখের অন্তরালে খল মাখা।

নরক কষ্টে কেবল পুড়ছি আমি, তুই আর অল্প ক’জন দিবা নিশি,

জানিস কি, বাকী সবাই গিলেছে কত বিবেক মারার বিষের শিশি?

লেখকঃ কবি, সাহিত্যিক ও প্রবাসী বাংলাদেশী, ইউ, এস, এ

 

আরও পড়ুন